kalerkantho


চকরিয়ায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, ৩ পর্যটক নিহত

ছোটন কান্তি নাথ, চকরিয়া (কক্সবাজার)   

৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১০:৩৪



চকরিয়ায় বাস-মাইক্রোবাস সংঘর্ষ, ৩ পর্যটক নিহত

কক্সবাজারের চকরিয়ায় বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে যাত্রীবাহী নোয়াহ (মাইক্রো) গাড়ি ও বিপরীত দিক থেকে আসা শ্যামলী পরিবহনের অপর একটি যাত্রীবাহী এসি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে ঘটনাস্থলে পর্যটকবাহী মাইক্রোতে আগুন ধরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই দুজন জ্যান্ত পুড়ে মারা যায়।

এ ছাড়া অপর এক শিশুও মুমূর্ষু অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যায়। আহত হয়েছে মাইক্রোবাসে থাকা শিশু, নারীসহ আরো ৯ পর্যটক। এ ছাড়া শ্যামলী বাসের কয়েকজন যাত্রীও আহত হন। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নের উত্তর হারবাংয়ের গলায়মারা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের প্রথমে চকরিয়া পৌরশহরে দুটি প্রাইভেট হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরুরি চিকিৎসা দিয়ে তাদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শিশু, নারীসহ মাইক্রোতে ১২ জন পর্যটক ছিলেন। তারা ঢাকা থেকে কক্সবাজার বেড়াতে আসছিলেন। দুর্ঘটনার পর পরই হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, থানা পুলিশসহ স্থানীয় মানুষ আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। রাত দেড়টার পর থেকে মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

নিহত তিন পর্যটক হলেন, ঢাকার ধোলাইর পাড় বাজার কদমতলী এলাকার মুমিন হোসেন ওরফে মনোমিয়ার স্ত্রী মাবিয়া বেগম (৫০), মাইক্রোবাসচালক মোহাম্মদ আরিফ (৩২) ও ঢাকার নিউমার্কেট এলাকার মোহাম্মদ মাসুদের পুত্র মো. ইয়ামিন (৫)।

আহতরা হলেন ঢাকার ধোলাইর পাড় বাজার কদমতলী এলাকার মুমিন হোসেনের পুত্র মাসুদ রানা (২৮), মো. মাসুমের স্ত্রী শাহিনুর আক্তার (২৫), সেকান্দর মোল্লার পুত্র সাইফুল ইসলাম (৩০), আবদুর রহিমের কন্যা ববি আক্তার (১৪), গৃহপরিচারিকা রুমানা (৩০), মোহাম্মদ মাসুদের স্ত্রী স্মৃতি (২০) ও শিশুপুত্র মো. বায়েজিদ (৫), সাইফুল ইসলামের কন্যা ছাবিয়া আক্তার (২৭) ও তছমিন আক্তার (২৬)।

চকরিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মো. কামরুল আজম জানান, দুর্ঘটনার খবর পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিসসহ স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। ততক্ষণে মাইক্রোবাসের ভেতর এক নারী পর্যটক, চালক জ্যান্ত পুড়ে অঙ্গার হয়ে যায়। আরেক শিশুকে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করে প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়ার পর সেখানে মারা যায়। প্রায় দুই ঘণ্টা পর মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।

কামরুল আজম আরো জানান, ভয়াবহ এই দুর্ঘটনায় মাইক্রোতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায়। এতে এ পর্যন্ত তিনজন পর্যটক মারা যাওয়ার তথ্য রয়েছে। আহত হয়েছে মাইক্রোর আরো ৯ পর্যটক এবং যাত্রীবাহী শ্যামলী বাসের আরো বেশ কয়েকজন যাত্রী। আহতদের চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, চকরিয়ার একাধিক প্রাইভেট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

মহাসড়কের বানিয়ারছড়াস্থ চিরিংগা হাইওয়ে পুলিশের এসআই মিজানুর রহমান জানান, পর্যটকবাহী মাইক্রোটি ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিউ মার্কেট এলাকার একই পরিবারের সদস্য। তারা কক্সবাজার বেড়াতে আসছিলেন।

 


মন্তব্য