kalerkantho


গর্ভবতী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ২৩:৪৮



গর্ভবতী নারীকে শ্বাসরোধে হত্যা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে রোজিনা খানম (২৮) নামে তিন মাসের গর্ভবতী নারীকে শ্বশুর বাড়ির লোকজন শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বগারপাড় গ্রামে আজ বৃহষ্পতিবার সকালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহতের দেবর ও ননদ পালিয়ে গেলেও শ্বাশুড়ীকে আটক করেছে পুলিশ।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের পাঁচ বছর বয়সী শিশু কন্যাকে ওই ঘটনার পর থেকে নিহতের শ্বশুড় বাড়ির লোকজন লুকিয়ে রেখেছে। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বগারপাড় গ্রামের মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে শাহ আলম সরকারের সাথে টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার রায়ের মাকুল্লা গ্রামের মৃত আব্দুর রহিম খানের মেয়ে রোজিনা খানমের প্রায় ছয় বছর আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের জন্য রোজিনাকে তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন নির্যাতন চালাতো। পরে তিন লাখ টাকা যৌতুক পেয়ে সে টাকায় রোজিনার স্বামী শাহ আলম রেলওয়ের অ্যাটেন্ডেন্ট পদে চাকুরি নেন। এদিকে স্বামী ঢাকায় কর্মরত থাকা অবস্থায় রোজিনার ওপর নির্যাতন চলতেই থাকে।

আজ বৃহষ্পতিবার সকালে এলাকাবাসি রোজিনার ঘরের তার গলায় ওড়না পেঁচানো লাশ ঝুলতে দেখে। খবর পেয়ে পুলিশ দুপুরে ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি উদ্ধার করে। এ সময় নিহতের শ্বাশুড়ি করিমন নেসাকে আটক করা হয়।

ঘটনাস্থল থেকে দেবর খোকন, ননদ নুরুন্নাহার ও জরিনা পালিয়ে গেছে।

নিহতের বড়ভাই আরিফুল ইসলাম খান ও ভাগ্নি সেতু আক্তার জানান, সিনহা (৫) নামে রোজিনার একটি মেয়ে আছে। রোজিনা তিন মাসের গর্ভবতী ছিলেন। স্বামীর অনুপস্থিতিতে রোজিনাকে প্রায়ই তার শ্বশুড় বাড়ির লোকজন নির্যাতন করতো। তারা রোজিনাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ফাঁসিতে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করছে। তার মেয়ে সিনহা ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী হওয়ায় তাকে শ্বশুড় বাড়ির লোকজন লুকিয়ে রেখেছে।

উল্লেখ্য, শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনাসহ সরিষাবাড়ী উপজেলায় গত ১৫দিনে টানা ৮টি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে স্থানীয় ইউপি সদস্য তোজাম্মেল হক বকুল এ হত্যা ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে সমঝোতার চেষ্টা চালাচ্ছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ব্যাপারে সরিষাবাড়ী থানার ওসি রেজাউল ইসলাম খান বলেন, নিহতের লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়না তদন্তের রিপোর্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্কারভাবে কিছুই বলা যাচ্ছে না। তাই প্রাথমিক ভাবে এঘটনায় একটি অপমৃত্যুর মামলা নেওয়া হয়েছে।


মন্তব্য