kalerkantho


মায়ের পর উদ্ধার হলো নিখোঁজ শিশুর লাশ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ ১৩:০৫



মায়ের পর উদ্ধার হলো নিখোঁজ শিশুর লাশ

কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়ায় মায়ের সঙ্গে নিখোঁজ শিশু আমিরুল ইসলামের (২ মাস)  লাশ  উদ্ধার করেছে পুলিশ। এর ১০ দিন আগে একই জায়গা থেকে শিশু আমিরুলের মা রহিমা আক্তারের (২৮) লাশ উদ্ধার করেছিল পুলিশ।

নিখোঁজের ১৮ দিন পর উদ্ধার করা হলো শিশুটির লাশ।

গতকাল মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে উপজেলার এগারসিন্দুর ইউনিয়নের মীরারটেক বিল থেকে শিশু আমিরুলের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। গত ১৩ জানুয়ারি স্বামী নজরুল ইসলামের সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে শিশু আমিরুলসহ নিখোঁজ হন রহিমা। এ ঘটনার পর থেকে নজরুল ইসলাম পলাতক।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রহিমা আক্তার কিছুটা বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী ছিলেন। একই গ্রামের সোহরাব উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলামের (২৫) সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে উঠলে অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়েন তিনি। এ পরিস্থিতিতে রহিমার পরিবার নজরুলকে বিয়ের জন্য চাপ দেয়। এ নিয়ে গ্রামে সালিসও হয়। দুই মাস আগে রহিমা আমিরুল নামের একটি ছেলেসন্তান জন্ম দেন।

গত ১০ জানুয়ারি স্থানীয় সালিসের চাপে আট লাখ টাকা দেনমোহর করে রহিমাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন নজরুল। ১৩ জানুয়ারি নজরুল সন্তানসহ রহিমাকে বেড়াতে নিয়ে যান। এরপর থেকে তাঁরা নিখোঁজ ছিলেন।

নিখোঁজ হওয়ার এক সপ্তাহ পর মীরারটেক বিল থেকে পুলিশ রহিমার লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে শিশু আমিরুলের কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছিল না। গতকাল রাতে মীরারটেক বিলেই এক শিশুর লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয় এলাকাবাসী। আমিরুলের স্বজনেরা ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশটি আমিরুলের বলে শনাক্ত করেন। পরে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে পাকুন্দিয়া থানায় নিয়ে যায়।

এ ঘটনায় নিহত রহিমার বড় ভাই আবদুল আওয়াল বাদী হয়ে রহিমার স্বামী নজরুল ইসলাম, দেবর দ্বীন ইসলাম, শ্বশুর সোহরাব উদ্দিন এবং শাশুড়ি মদিনা আক্তারের বিরুদ্ধে পাকুন্দিয়া থানায় হত্যা ও গুমের মামলা দায়ের করেছেন। পাকুন্দিয়া থানার ওসি হাসান আল মামুন বলেন, "লাশটি দেখে প্রাথমিকভাবে শিশু আমিরুলের বলে মনে হচ্ছে। মা ও শিশুটিকে একই সময় হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় নজরুলকে এখনো গ্রেপ্তার করা যায়নি। তবে গত রবিবার সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার ছোট ভাই দ্বীন ইসলামসহ আরও একজনকে।

 


মন্তব্য