kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ১৯ জানুয়ারি ২০১৭ । ৬ মাঘ ১৪২৩। ২০ রবিউস সানি ১৪৩৮।


তানোরে ইজারা ছাড়াই ধরা হলো বিলের মাছ

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ জানুয়ারি, ২০১৭ ১৯:০৪



তানোরে ইজারা ছাড়াই ধরা হলো বিলের মাছ

রাজশাহীর তানোর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিলকুমারী বিলের আভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে ইজারা ছাড়াই মাছ নিধন করা হচ্ছে। মৎস্যজীবি সমিতি নামে গত ৮ বছর ধরে হরিলুট করা হচ্ছে শত শত মেট্রিক টন মাছ।

তারই ধারাবাহিকতায় আজ বুধবার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত উপজেলা মৎস্য অফিসের নিদের্শে কথিত মৎস্য সমিতির লোকজন বিলে জাল নামিয়ে প্রায় ১০ লক্ষাধিক টাকার মাছ ধরেন। পরে উপজেলার ডাকবাংলোর মাঠে মাছের মেলা বসিয়ে বিক্রি করা হয়। তবে সরকারী ইজারার টাকা পরিশোধ না করে মাছ ধরার বিষয়টি তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্মকর্তা কিছুই জানেন না বলে জানান তিনি।  

অথচ সরকারের নিদের্শনায় রয়েছে, বিল ইজারা নিয়েই মাছ ধরতে পারবে মৎস্যজীবিরা। সরকারের সেই নিদের্শেনা না মেনে উপজেলা মৎস্য অফিস শুধু সমিতির সদস্যদের ১৫০ টাকা করে জনপ্রতি আদায় করে মাছ ধরার নিদের্শ দিয়েছে। ফলে এক হাজার ১৭৫ বিঘার জলাশয় হতে বছরে ২০ লক্ষ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার।  

উপজেলা মৎস্য অফিসের হিসাব অনুযায়ী, ২০০৮ সালে প্রথম বিলের পার্শ্ববতী চারটি গ্রামের মৎস্য ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি সমিতি করা হয়। সমিতির সদস্য সংখ্যা ৪৬৮ জন। সে থেকে এ সমিতির লোকজন উপজেলা মৎস্য অফিসের নিদের্শে প্রতি বছর সমিতির লোকজন মাছ ধরে থাকে। প্রতি বছর এক হাজার ১৭৫ বিঘার  জলাশয় থেকে মাছ ধরা হয় প্রায় ১৪০ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন। যার গড় মূল্য ৩০ থেকে ৪০ লক্ষ্য টাকা।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিগত ২০০৮ সালে ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে মৎস্য মন্ত্রণালয়কে বিল ইজারার বিধি হস্তান্তর করে পরিপত্র প্রদান করা হয়। পরে পরিপত্রে ‘মা’ মাছ সংরক্ষণের জন্য তানোর উপজেলার বিলকুমালী বিলের বিলজোয়ানী ও ধানতৈড় মৌজার ২ একর মুক্ত জলাশয়ে অভয়াশ্রম স্থাপনের জন্য কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়। সেখানে মাছের অভয়াশ্রম স্থাপনের পর বিলকুমারী বিলের বিলজোয়ানী ও ধানতৈড় মৌজার ১১৭৫ বিঘা অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় ইজারা প্রদানের জন্য ২০১০ সালে মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা দিয়ে পরিপত্র জারি করা হয়।
 
পরিপত্রে বলা হয়, নিবন্ধনকৃত মৎস্যজীবিকে ১ বিঘা জলাশয়ে মাছ ধরার জন্য ১ হাজার ৫০০ টাকা ইজারা মূল্য দিতে হবে। তবেই ওই জলাশয়ে সারা বছর মাছ ধরা যাবে। সেই মোতাবেক উপজেলা মৎস্য অফিস জলাশয় ইজারা কমিটি তৈরি করে প্রতি বছর শতকরা ১০% মূল্য বৃদ্ধি করে ইজারা আহ্বান করবেন।

ইজারা মূল্য পরিশোধের পর নিবন্ধনকৃত মৎস্যজীবিরা মাছ ধরতে পারবেন। এসব বিধি নিষেধ গোপন রেখে উপজেলা মৎস্য অফিস মৎস্যজীবিদের কথিত সমিতি দ্বারা প্রভাবিত হয়ে বিলের অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় ও দুটি অভয়াশ্রমের ‘মা’ মাছ নিধনের জন্য ২০০৮ সাল থেকে প্রতি বছর মেলা বসান। এরই ধারাবাহিতায় আজ বুধবার ওই বিলের প্রায় ১০ লক্ষ টাকার মাছ ধরে মেলা বসিয়ে বিক্রি করেছেন উপজেলা মৎস্য অফিসার ও কথিত বিলের মৎস্যজীবিরা। নিজের পকেট ভারী করতে উপজেলা মৎস্য অফিসার মৎস্যজীবিদের সহযোগিতা করে থাকেন ।

এ সম্পর্কে কথিত মৎস্য সমিতির সভাপতি দর্শনাথ হলদার জানান, বিলটি তাদের নিকটতম। তারা ছাড়া কেউ ওই বিলের হকদার নয়। মৎস্য অফিসারের নিদের্শে মাছ ধরা হয়েছে। কিন্তু সরকারের ইজারা মূল্য পরিশোধ ছাড়াই মাছ ধরার ব্যাপারে বিষয়টি এড়িয়ে যান তিনি।  

এ ব্যাপারে তানোর সহকারী কমিশনার (ভূমি) নিলুফা ইয়াসমিন জানান, মন্ত্রণালয় থেকে বিলের অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় ইজারার পরিপত্র দেখে তিনি মৎস্য অফিসকে অবহিত করেন। পরে সরকারি বিধি মোতাবেক ইজারা মূল্য পরিশোধের জন্য চিঠি দেন। তবে রিসেন্ট মাছ ধরার ব্যাপারটি অবগত নন তিনি।

উপজেলা মৎস্য অফিসার আরাফাত সিদ্দিকী জানান, বিলকুমারী বিলের অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয় ইজারা প্রদানের পরিপত্র সম্পর্কে তিনি অবগত ছিলেন না। এ কারণে বিগত বছরগুলোতে মৎস্যজীবিরা ইজারা ছাড়াই মাছ নিধন করেছেন। তবে আজ বুধবার মৎস্যজীবিরা ইজারা মূল্য পরিশোধ করতে রাজি হয়েছেন। এ কারণে মাছ ধরার অনুমতি দেওয়া হয়।


মন্তব্য