kalerkantho


সিরাজগঞ্জে অপহৃত শিশুর লাশ উদ্ধার

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:৩৪



সিরাজগঞ্জে অপহৃত শিশুর লাশ উদ্ধার

১৬ দিন পর সিরাজগঞ্জের কামারখন্দ উপজেলা থেকে অপহৃত শিশু জান্নাতুল খাতুন চাদনীর(৪)লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ ।  অপহরণের রাতেই পুলিশ ঘটনার মূল হোতাকে আটক করলেও তাকে জীবিত উদ্ধার করতে পারেনি।

এদিকে এ ঘটনাটি জানার পর এলাকার শত শত মানুষ মিশিল নিয়ে থানা ঘেরাও করে দোষীদের ফাসি দাবি করেছে।

পুলিশ জানায়, আটক মঞ্জুকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদে প্রথম দিকে বিভ্রন্তিকর তথ্য দিলেও পরে এক পর্যায়ে সে জানায় জান্নাতুলকে হত্যা করে উপজেলার পশ্চিম পার্শ্বে ওয়াজেদের স মিলের এক কূপের মধ্যে তার লাশটি রাখা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী আজ শনিবার সকালে পুলিশ ওই কূপের মধ্যে ইট চাপা দেওয়া অবস্থায় তার লাশ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য লাশটি সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করা হয়।  

এ বিষয়ে জান্নাতুলের মা মায়া খাতুন জানান, শুক্রবার বিকেলে শিশুটি নিজ বাড়ির পাশে বন্ধু রিফাত(৪) এর সাথে খেলা করছিল। এ সময় একই গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে মো. মঞ্জু (২৫) তাকে  সিঙ্গারা খাওয়ানো ও ফুল দেওয়ার কথা বলে জামতৈল বাজারে নিয়ে যায়। মেয়েকে না পেয়ে খোঁজাখুজির এক পর্যায়ে রিফাতকে জিজ্ঞাসা করলে মঞ্জু নামে এক ব্যক্তি নিয়ে গেছে বলে জানায়। তাৎক্ষণিক জামতৈল রেলওয়ে ষ্টেশন প্রাঙ্গনে অপহরণকারী মঞ্জুকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে বিষয়টি এড়িয়ে যায়। এ ঘটনায় জনতা ক্ষিপ্ত হয়ে মঞ্জুকে মারধর করতে গেলে কামারখন্দ থানা পুলিশ এসে অপহরণকারী চক্রের মূল হোতা মঞ্জুকে আটক করে থানায় নিয়ে যান।

এ ঘটনায় শিশুটির বাবা বাদী হয়ে শুক্রবার রাতেই কামারখন্দ থানায় অপহরণ মামলা দায়ের করেন।

এদিকে শিশুটির বাবা আনোয়ার হোসেন অভিযোগ করে জানান, পূর্ব শত্রুতার জের ধরে এলাকার মাদক ব্যাবসায়ী বকুল, তার স্ত্রী বাচা খাতুন লালন ও আইব ওরফে কাঠাল তিন লক্ষ টাকা চুক্তিতে মঞ্জুকে দিয়ে আমার মেয়েকে অপহরণ করিয়ে হত্যা করেছে।

এ ব্যাপারে কামারখন্দ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. বাবুল উদ্দীন সরদার জানান,  মঞ্জর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী  অপহৃত জান্নাতুলের লাশ পাওয়া যায়।  

এ সময় তিনি আরো জানায়, মাদক ব্যাবসার জের ধরে এ ঘটনা ঘটতে পারে। নিহতর বাবাও একজন মাদক ব্যাবসায়ী। গত তিন মাস আগে তিনি মাদক ব্যবসার দায়ে ৩ মাস জেলে ছিল। অপহরণকারী মঞ্জু একজন মাদক সেবি হিসেবে তাদের বাড়িতে যাতায়ত করত। এ ব্যাপারে জিজ্জাসাবাদের জন্য তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।


মন্তব্য