kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কলাপাড়ায় ইলিশ প্রজনন উৎসব

কলাপাড়া (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি    

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৩৮



কলাপাড়ায় ইলিশ প্রজনন উৎসব

ইলিশ প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ সংরক্ষণ ও জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে উপকূলীয় কলাপাড়ার জেলেদের অংশগ্রহণে 'ইলিশ প্রজনন উৎসব হয়েছে। ইলিশ অভায়শ্রম কেন্দ্র আন্ধারমানিক নদের ৪০ কিলোমিটার তীরে বসবাস প্রায় দেড় হাজার জেলে ইউএসএ আইডির ইকোফিশ বাংলাদেশ ও মৎস্য অধিদপ্তরের যৌথ সহ-ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমে অংশ নেয়।

ইলিশ প্রজনন মৌসুমে নিষেধাজ্ঞা চলাকালে আন্ধারমানিক নদ ও এর আশপাশের এলাকার নদ-নদীতে ইলিশ শিকার বন্ধ রেখেছে জেলেরা। মা ইলিশ রক্ষার অভিযানে অংশ নিয়ে শতাধিক জেলে আজ শনিবার সকাল ১১টায় ইকোফিশ বাংলাদেশের আয়োজনে কুয়াকাটা বিচ হ্যাভেট হোলেট মিলনায়তনে উৎসবে মিলিত হন। ইউএসএআইডি'র অর্থায়নে উৎসবে অংশগ্রহণকারী মৎস্যজীবী, জেলে পরিবার ও সদস্য এবং শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হয়। প্রজনন উৎসবে সভাপতিত্ব করেন মৎস্য অধিদপ্তরের বরিশাল বিভাগীয় পরিচালক মো. বজলুর রশিদ। এতে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সরকারের অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুলতানা আফ্রজ, ইউএসএসআইডি'র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাথান সেইজ, ইকোফিশ প্রকল্পের টিম লিডার ড. আব্দুল ওহাব প্রমুখ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন ইউএসএআইডির প্রতিনিধি হারবার হোপম্যান, আব্দুল্লাহ আকবর, মার্কহোপ প্রমুখ।

উৎসব অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন। এতে সচেতন জেলে এবং জেলে পরিবারের সন্তানদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন মৎস্য বিভাগ, মৎস্য অধিদপ্তর, কোস্টগার্ড, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং মাছ ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন ওয়ার্ল্ডফিশ বাংলাদেশের প্রতিনিধি শারিন হক ও কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য  কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।

পুরস্কার বিতরণ শেষে উন্মুক্ত আলোচনায় কলাপাড়ার নীলগঞ্জ ইউনিয়নের ফতেহপুর গ্রামের জেলে রফিকুল ইসলাম বলেন, "আগে নির্বিচারে মা ইলিশ, জাটকা ইলিশ শিকার করছি। আইন জানতাম না, সচেতন ছিলাম না, ইলিশ রক্ষার এত কৌশল এবং সচেতনতা কোনো কিছু বোধগম্য ছিল না। এখন আমরা সচেতন হয়েছি। তাই মৎস্য  বিভাগ, কোস্টগার্ড এবং নৌবাহিনীর অভিযানে একজন জেলেকেও সাজা বা দণ্ড দিতে পারেননি প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত। আমরা এখন সচেতন হয়েছি। আমরা মাছে ভাতে বাঙালি হতে চাই। "

'মাছে ভাতে বাঙালি, ইলিশ রক্ষা করে হবো আমরা সম্পদশালী'- এ স্লোগানকে সামনে রেখে নীলগঞ্জের ফতেহপুর জেলে পরিবারের নারী গ্রুপের সভাপতি নাছিমা বেগম বলেন, "আমার স্বামী এখন আর চুরি করে কিংবা আইন অমান্য করে ইলিশ শিকারে যাচ্ছে না। আমরা এখন ইকোফিশ প্রকল্পের আওতায় থেকে অবরোধকালীন পুকুরে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি, ছাগল পালন এবং বাড়ির আঙিনায় সবজি চাষ করে অনেক স্বাবলম্বী ও সচেতন হয়েছি। "

ইউএসএসআইডি'র অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বিভাগের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক নাথান সেইজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "এই ইলিশ মাছ বাংলাদেশের জাতীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। ৩০ লাখ মানুষের জীবিকা এই পেশার ওপর নির্ভরশীল। ইলিশ মাছের উৎপাদন বৃদ্ধি হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি 'মাছে ভাতে বাঙালি' এ প্রবাদটি টিকে থাকবে।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব সুলতানা আফ্রজ তাঁর বক্তব্যে বলেন, "মা ইলিশ রক্ষায় এখানকার জেলেরা প্রসংশনীয় ভূমিকা পালন করছে- তা আমি এই আন্ধারমানিক নদের  তীরে না আসলে বুঝতে পারতাম না। " তিনি সচেতন জেলে, ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণে 'ইলিশ প্রজনন উৎসব' আয়োজন ও পালনে সহযোগিতা করায় ইউএসএআইডি, ওয়ার্ল্ডফিশ ও মৎস্য অধিদপ্তরকে কৃতজ্ঞতা এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

ইকোফিশ বাংলাদেশ প্রকল্পের টিম লিডার ড. আব্দুল ওহাব তাঁর বক্তব্যে বলেন, "ইলিশ শিকারে বিধিনিষেধ থাকায় ৩৭ শতাংশ জেলে দাদন নিয়ে অর্থনৈতিক সঙ্কটে মৎস্য  ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে দাদন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করে আসছিলেন। ইকোফিশ প্রকল্পের মাধ্যমে উপকূলীয় জেলার জেলে পরিবারের নারীদের সম্পৃক্ত করে অবরোধ থাকাকালে বিকল্প কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত করা হচ্ছে। এ জন্য নারীদের পুকুরে মাছ চাষ, হাঁস-মুরগি ও ছাগল এবং বাড়ির আঙ্গিনায় শাক-সবজি চাষের মাধ্যমে আর্থিকভাবে লাভবান করতে সহায়তা করা হচ্ছে। এতে জেলে পরিবারগুলো আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠছে।

 


মন্তব্য