kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


জলঢাকায় ইউএনও'র হস্তক্ষেপে নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

২২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৪০



জলঢাকায় ইউএনও'র হস্তক্ষেপে নির্যাতিত গৃহবধূকে উদ্ধার

নীলফামারীর জলঢাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার হস্তক্ষেপে শ্বশুরবাড়িতে বন্দি অবস্থা থেকে এক গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গৃহবধূর নাম পারভীন আক্তার (২০)।

গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে উপজেলার খুটামারা ইউনিয়নের হাফিজিয়া তহশীলদার পাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।

উদ্ধার হওয়া পারভীন বলেন, "আমার বিয়ে হয় ২০১৪ সালে। বিয়ের পর থেকে  আমার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। বর্তমানে দেড় বছরের একটি মেয়ে সন্তান আমার কোলে। বিয়ের পর থেকে স্বামী-শ্বশুর-শাশুড়ির চলতে থাকে  নির্যাতন। এরই মধ্যে গত বৃহস্পতিবার সে আমাকে ঘরের ভেতর তালা দিয়ে অন্য এক মেয়েকে নিয়ে উধাও হয়। এ অবস্থায় শ্বশুর-শাশুড়িও আমাকে দেননি খাবার। এমনকি তাদের নিকট অনেক মিনতি করেও আমি বন্দিদশা থেকে মুক্তি পাইনি। " নির্যাতিতার মা কবিতা বেগম বলেন, "তাদের বিয়ের পর মেয়ের সুখের জন্য নগদ দুই লাখ টাকা, একটি ফ্রিজ এবং একটি গাভি দেই। তারপরও থামেনি নির্যাতন। পরে আমার মেয়েকে ঘরে তালা দিয়ে অন্য মেয়ে নিয়ে জামাই পালিয়েছে। " জলঢাকা থানা ওসি (তদন্ত) মফিজ উদ্দীন শেখ বলেন, "ইউএনও স্যারের সহযোগিতায় বন্দিদশা থেকে গৃহবধূ পারভীনকে উদ্ধার করা হয়েছে। নির্যাতিতার পক্ষ হতে মামলার প্রস্তুতি চলছে। "

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহ. রাশেদুল হক প্রধান বলেন, "বিষয়টি অবগত হয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গ্রাম্য পুলিশকে উদ্ধারের নির্দেশ দিলে তাঁরা ব্যর্থ হন। এরপর থানার একজন কর্মকর্তা পাঠানো হলে তিনিও ব্যর্থ হন। পরে পুলিশ-চিকিৎসক, সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে এমন অবস্থায় নির্যাতিতাকে বন্দিদশা থেকে মুক্ত করি। " জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. দেবদুলাল বলেন, "বন্দিদশা থেকে উদ্ধার হওয়া পারভীনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। ঠিকমতো খাবার না পাওয়ায় তিনি দুর্বল হয়ে পড়েছেন। তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। "

 


মন্তব্য