kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


অদৃশ্য ইশারায় নড়াইলে ফের শুরু র‌্যাফেল ড্র!

নড়াইল প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:১৪



অদৃশ্য ইশারায় নড়াইলে ফের শুরু র‌্যাফেল ড্র!

জনতার লাগাতার আন্দোলনের মুখে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ১৫ অক্টোবর পত্র দিয়ে ভিক্টোরিয়া কলেজের কুড়িরডোপ মাঠের “হস্ত বস্ত্র শিল্প মেলা” র র‌্যাফেল ড্র বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল। মাত্র ৫ দিন বন্ধ থাকার পরে ২০ অক্টোবর থেকে প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে আবারো শুরু হয়েছে লটারী নামক র‌্যাফেল ড্র।

এ ঘটনায় স্থানীয় সচেতন নাগরিক,মুক্তিযোদ্ধা আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ আবারো লটারী বন্ধে মাঠে নেমেছেন।

নড়াইল জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, র‌্যাফেল ড্র এর অনুমতি না থাকায় স্থানীয় জনগনের আন্দোলনের কারনে শান্তি বিঘ্নিত হতে পারে এই মর্মে ১৫ অক্টোবর “হস্ত বস্ত্র শিল্প মেলা” আয়োজক কমিটির কাছে পত্র দিয়ে র‌্যাফেল ড্র এবং লটারী বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয়। এই নির্দেশনার পর থেকে লটারী টিকিট বিক্রি বন্ধ হয়ে যায়। বৃহস্পতিবার (২০ অক্টোবর) পুনরায় র‌্যাফেল ড্র এর লটারী বিক্রি শুরু হলে জনমনে অসন্তোষ দেখা দেয়।

পুনরায় লটারী টিকিটি বিক্রি বিষয়ে এনডিসি(নেজারত ডেপুটি কালেক্টর) এবি এম খালিদ হোসেন সিদ্দিকীর কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন,পুলিশের রিপোর্টের ভিত্তিতে র‌্যাফেল ড্র আগে বন্ধ করা হয়েছিলো,পুনরায় পুলিশের সন্তোষজনক রিপোর্ট পাওয়ায় আবার ২০ অক্টোবর থেকে লটারী চালু করার অনুমতি প্রদান করা হয়েছে।

এদিকে নতুন করে র‌্যাফেল ড্র চালু হবার পর থেকে ২০ অক্টোবর নড়াইলের বিভিন্ন প্রান্তে সভা করেছে সচেতন নাগরিক সমাজ। ২১ অক্টোবর সকালে লটারী বন্ধে জেলা মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার এড.এস এস মতিন এর নেতৃত্বে জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক এড. নজরুল ইসলাম,জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি শরীফ মুনীর হোসেন,জেলা আওয়ামীলীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক খন্দকার মাসুদ হাসান পৌর জাসদের সভাপতি শাহ আলম সহ ১৫ জনের একটি প্রতিনিধি দল জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফের সাথে সাক্ষৎ করেন। এসময় শনিবারের মধ্যে লটারী বন্ধ না হলে রবিবার ডিসি অফিস ঘেরাও এর আল্টিমেটাম দেন।

আান্দোলনকারীদের সাথে আলাপকালে জেলা প্রশাসক মোঃ হেলাল মাহমুদ শরীফ নিজের অক্ষমতা স্বীকার করে বলেন, “এ ধরনের দৈনিক লটারীতে জনগনের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে। আমরা আন্তরিকভাবেই চাই এটা বন্ধ হোক,কিন্তু উপরের চাপের কারনে আবার আমাকে এটা চালুর অনুমতি দিতে হয়েছে,তবে পুলিশের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই এটা করা হয়েছে। ”

কোন মহলের চাপ? এমন প্রশ্ন জেলা প্রশাসক এড়িয়ে গিয়ে বলেন,স্থানীয় কোন রাজনৈতিক চাপ নেই,এখানে বাইরের অনেকগুলো চাপ রয়েছে।

জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারী মাসে মাসব্যাপী বানিজ্য মেলায় র‌্যাফেল ড্র অনুষ্ঠানে গড়ে প্রতিদিন প্রায় ২০ লক্ষ টাকার টিকিট বিক্রি হতো। মাসব্যাপী চলা ঐ অনুষ্ঠানে টিকিট বিক্রি করে প্রায় ৪ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় এলাকার ক্ষমতাসীন দলের একটি অংশ। এর পর পরই চুরি,আত্মহত্যা,পারিবারিক অশান্তি, ধার-দেনা সহ সহ নানা ধরনের সামাজিক অশান্তি বাড়তে থাকে। বছর না ঘুরতেই গত ১৩ অক্টোবর আবার শুরু হয় বানিজ্য মেলার নামে র‌্যাফেল ড্র। এমন কি আগের মতো কেবল লাইনে লটারী খেলার সরাসরি সম্প্রচার। এ ঘটনায় বিক্ষুব্ধ হন নড়াইলের সচেতন নাগরিকেরা। তারা ১৪ অক্টোবর জেলার বিভিন্ন প্রান্তে মানববন্ধন সহ বিক্ষোভ প্রদর্শন করে। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীরা লটারীর বাক্স ভাঙ্গা সহ ডিসি অফিস ঘেরাও এর হুমকি দেন।

মনিপুরী তাতী শিল্প ও জামদানী বেনারসী কল্যান ফাউন্ডেশন ও গোপালগঞ্জ হ্যান্ডলুম এসোসিয়েশনের নামে মাসব্যাপী শুরু হওয়া এই “হস্ত বস্ত্র শিল্প মেলা” র স্থানীয় পৃষ্ঠপোষক ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী বলে জানা গেলেও প্রকৃত পক্ষে এই মেলার আয়োজক গোপালগঞ্জ জেলার জনৈক জুয়েল নামের এক ব্যক্তি। যিনি এই র‌্যাফেল ড্র করে কোটি টাকার মালিক। এর সাথে জড়িত টুঙ্গিপাড়া পৌরসভার মেয়রসহ গোপালগঞ্জের লোকেরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মেলার একজন কর্মকর্তা বলেন,আমরা টুঙ্গিপাড়ার লোক। সারাদেশে থানা,পুলিশ,প্রশাসন,সাংবাদিক সহ সব মহলকে ম্যানেজ করেই আমরা এই মেলা আর র‌্যাফেল ড্র চালিয়ে থাকি। এতে তো কারো কোন ক্ষতি হয়না।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় একজন আওয়ামীলীগ নেতা বলেন, জাতির পিতার পবিত্র জন্মস্থান টুঙ্গিপাড়ার নাম ভাঙ্গিয়ে মেলার নামে লটারী নামক জুয়া চালিয়ে যাচ্ছে একটি মহল। এরা বঙ্গবন্ধুর জন্মভ’মিকে কলুসিত করতে মাঠে নেমেছে। এদর হাত এত লম্বা যে মন্ত্রীরা পর্যন্ত এই জুয়ার পক্ষে সুপারিশ করেন।

উল্লেখ্য, ১৬ অক্টোবর দৈনিক কালের কন্ঠ ১৯ পৃষ্টায় “ নড়াইলে বানিজ্য মেলার র‌্যাফেল ড্র আন্দোলনের মুখে বন্ধ”প্রতিবেদন ছাপা হয়েছিলো।


মন্তব্য