kalerkantho


দাউদকান্দিতে মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে নববধূ খুন!

দাউদকান্দি (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:৩৭



দাউদকান্দিতে মাদকাসক্ত স্বামীর হাতে নববধূ খুন!

কুমিল্লার দাউদকান্দিতে নেশার টাকা না দেওয়া নববধূকে পিটিয়ে হত্যা করেছে মাদকাসক্ত স্বামী। গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে উপজেলার বিটেরশ্ব ইউনিয়নের নোয়াগাঁও গ্রামে এই ঘটনাটি ঘটে। আজ শুক্রবার সকালে দাউদকান্দি থানা পুলিশ লাশ উদ্বার করে এবং ঘাতক স্বামী সফিউল্লাহকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে।

নিহত গৃহবধুর নাম সুমাইয়া বেগম(১৮)। তিনি মুরাদনগর উপজেলার সর্মাকান্দা গ্রামের রাজা মিয়ার কন্যা।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, নোয়াগাও গ্রামের হারুন রশিদ মোল্লার ছেলে সফিউল্লাহ (২৫) ও মুরাদনগর উপজেলার সর্মাকান্দা গ্রামের রাজা মিয়ার কন্যা সুমাইয়া চট্রগ্রামে একই গামেন্টেসে কাজ করত। সেই সুবাদে দুজনের মধ্যে প্রেমের সম্পর্কের সৃষ্টি হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয়ের পরিবারই বিয়েতে অসম্মতি জানায়। পরে এলাকবাসীর হস্তক্ষেপে এক মাস পূর্বে তাদের বিয়ে হয়।

বিয়ের আগে থেকেই নেশার টাকার জন্য মাদকাসক্ত সফিউল্লাহ প্রায়ই তার বাবা-মাকে মারধর করত। অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে গত মঙ্গলবার তার বড় ভাই ও মা আক্তার হোসেন সফিউল্লাহকে পুলিশে সোপর্দ করার উদ্দেশ্য গৌরিপুর ফাঁড়িতে ধরে নিয়ে আসে।

কিন্তু পুলিশ বুঝিয়ে-সুঝিয়ে ছেড়ে দেয়।

বাড়িতে ফেরার পর সফিউল্লাহ আবারও তার বাবা-মা ও স্ত্রীর সাথে খারাপ ব্যবহার করে। বৃহস্পতিবার রাতে স্ত্রী সুমাইয়ার সাথে মাদকাসক্ত সফিউল্লাহর ঝগড়া হয়। এর এক পর্যায়ে সুমাইয়াকে হত্যা করে সে। বিষয়টি তার বাবা-মা আঁচ করলে তাদেরকেও খুনের হুমকি দেওয়া হয়। এসময় পুলিশে খবর দেওয়া হলে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার এবং ঘাতক সফিউল্লাহকে আটক করে পুলিশ।

নিহতের বাবা রাজা মিয়া বলেন, “জামাই মাদকাসক্ত বিধায় আমারা বিয়ে দিতে রাজি হইনি। পরে মেয়ের পছন্দের কারণে তাকে বিয়ে দেই। তবে আমার মেয়েকে সে এভাবে হত্যা করবে তা চিন্তাই করিনি। ”

ছেলের বাবা সফিউল্লাহ বলেন, “সফিউল্লাহ মাদকাসক্ত হওয়া আমরা তাকে বিয়ে করাতে রাজি হইনি। পরে তার হুমকি ধমকিতে এবং মেয়েপক্ষের সম্মতিতে তার বিয়ে দেই। কিন্তু বিয়ের পর তার উৎপাত বেড়ে যায়। পরে তাকে পুলিশে দিতে গিয়েছিলাম। কিন্তু পুলিশ তাকে রাখেনি। এমন সন্তান আমার দরকার নেই। তার উপযুক্ত শাস্তি হওয়া দরকার। ”

দাউদকান্দি মডেল থানার তদন্ত কর্মকর্তা মোঃ কামরুল ইসলাম বলেন, “ঘাতক সফিউল্লাহ মাদকাসক্ত হওয়ায় এ ঘটনা ঘটিয়েছে। নিহতের গৃহবধুর গলায় আঘাতের দাগ দেখে মনে তাকে গলা টিপে হত্যা করা হয়েছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পেলে পরিস্কার হওয়া যাবে। ঘাতক সফিউল্লাহ প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। ”


মন্তব্য