kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মুক্তিযুদ্ধের কম্পানি কমান্ডার জালাল উদ্দিনের আহাজারি

জামালপুর প্রতিনিধি    

২১ অক্টোবর, ২০১৬ ১১:২৫



মুক্তিযুদ্ধের কম্পানি কমান্ডার জালাল উদ্দিনের আহাজারি

জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার উত্তর দরিয়াবাদ চাড়িয়া গ্রামের অসহায় বীর মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. জালাল উদ্দিন ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে কম্পানি কমান্ডারের দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি বিগত বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের আমলে টিআই আনছার ভিডিপি পদ থেকে অন্যায়ভাবে বরখাস্ত হওয়ার পর ওই চাকরি ফিরে পেতে বিভিন্ন মহলে ধরনা দিয়েও ব্যর্থ হয়েছেন।

জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দুমুঠো ভাতের জন্য মাঝে মধ্যেই আহাজারি করছেন।

মুক্তিযোদ্ধা শাহ মো. জালাল উদ্দিন জানান, তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রথম পর্যায়ে এপ্রিল মাসে পূর্ব পাকিস্তান সামরিক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত দ্বিতীয় প্রতিরক্ষা মুজাহিদ বাহিনীর 'কম্পানি কমান্ডার' হিসেবে পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে টাঙ্গাইল জেলার মুধুপুরের বিভিন্ন এলাকায় প্রতিরোধ যুদ্ধে অংশ নেন। ১১ নম্বর সেক্টরের একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা 'যুদ্ধকালীন কম্পানি কমান্ডার' হিসেবে দীর্ঘ ৯ মাস বিভিন্ন রণাঙ্গনে যুদ্ধ করে বীরত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে ৭১ এর ৬ ও ৭ ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে একটানা দুই দিন যুদ্ধ করে ইসলামপুর থানাকে পাক হানাদার মুক্ত করেন এবং সর্বপ্রথম তিনিই ইসলামপুরের বুকে স্বাধীন বাংলার লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করেন।

কম্পানি কমান্ডার শাহ মো. জালাল উদ্দিন আরো জানান, তিনি স্বাধীনতার পর কর্মজীবনে এসে টিআই বাংলাদেশ আনসার ভিডিপি পদে ১ জুন ১৯৮০ তারিখে নিয়োগ পেয়ে কর্মক্ষেত্রে যোগদান করেন। চাকরিরত অবস্থায় ১৫ মে ১৯৯১ আনসার ও ভিডিপি'র মহাপরিচালকের দপ্তর থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে ১,৪০,১৯৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী ও আনসার সদস্য পরিবারের জন্য সেনাবাহিনী ও পুলিশের ন্যায় হ্রাসকৃত মূল্যে সর্বোচ্চ ৪ ইউনিট পর্যন্ত রেশন সামগ্রী মঞ্জুরি প্রদানের নিমিত্তে খাদ্য মন্ত্রণালয়ে একটি প্রস্তাব প্রেরণ করেন। সচিবালয় হতে পাস করানোর জন্য পরিচালক (প্রশাসন) কর্তৃক বীর মুক্তিযোদ্ধা টিআই শাহ মো. জালাল উদ্দিনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে কর্তৃপক্ষের দিকনির্দেশনা নিয়ে সেনাবাহিনী, বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) ও পুলিশ বাহিনীর ন্যায় হ্রাসকৃত মূল্যে রেশন সামগ্রী প্রদানের আদেশ অনুমোদনের জন্য খাদ্য, স্বরাষ্ট্র ও অর্থ মন্ত্রণালয়ে যান। খাদ্য মহাপরিচালক কর্তৃক ২০.০৭.৯১ ইং তারিখে, খাদ্যসচিব কর্তৃক ১২.০৮.৯১ ইং ও স্বরাষ্ট্রসচিব কর্তৃক ১৭.০৬.৯২ ইং তারিখে হ্রাসকৃত মূল্যে ৪ ইউনিট পর্যন্ত রেশন মঞ্জুরির আদেশ অনুমোদন করেন।

কিন্তু, অর্থ মন্ত্রণালয়ে অজ্ঞাত কারণে ৮ আগস্ট ৯২ ইং অর্থসচিব কর্তৃক নাকচ হলে, ওই সময় শাহ মো. জালাল উদ্দিন কর্তৃপক্ষের অনুমতিক্রমে প্রতিদিন রেশন মঞ্জুরির কাজে সচিবালয়ে উপস্থিত থাকা সত্ত্বেও উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে কয়েকজন সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও জেলা অ্যাডজুটেন্ট, ঢাকার যোগশাজসে গোপনে তার বিরুদ্ধে ০১.০৮.৯২ ইং থেকে অনুপস্থিতির মিথ্যা অভিযোগ এনে কোনো প্রকার প্রশাসনিক তদন্ত ছাড়াই মহাপরিচালক কর্তৃক স্মারক নম্বর ৯৪৭, তারিখ ২৪.১১.৯২ ইং স্বাক্ষরিত পত্রের তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে। এরপর কতিপয় কর্মকর্তা তার অজান্তে ষড়যন্ত্র করে তাকে চাকরিচ্যুত করার অপপ্রয়াসে লিপ্ত থাকেন। বিগত বিএনপি সরকারের আমলে ১৬.১১.৯৩ ইং তাকে চাকরিচ্যুত করা হয়।

কম্পানি কমান্ডার শাহ মো. জালাল উদ্দিনকে অন্যায়ভাবে চাকরিচ্যুত করায় তিনি ওই চাকরি ফিরে পাওয়ার আশায় প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বরাবর একাধিকবার আবেদন করেও ব্যর্থ হয়ে পুনঃতদন্তে চাকরি পুনর্বহালের মাধ্যমে চাকরিকাল পর্যন্ত বেতন, আনুতোষিক ও পেনশন এর প্রাপ্য টাকা পাওয়ার আশায় বিগত ০৫.০৫.২০১৫ ইং তারিখে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আবেদন দাখিল করেছিলেন। আবেদনপত্রটি পৌঁছার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় হতে স্মারক নম্বর ০৩০৭৯.০২৭.০৪৪.০০.০১. ২০১৪.৫২২(২), ১২.০৭.১৫ ইং মোতাবেক বিষয়টি তদন্তসাপেক্ষে প্রয়োজানীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবকে নির্দেশে করা হয়েছে। এদিকে তিনি বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারেন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর সদর দপ্তর, খিলগাঁও, ঢাকা হতে ইতিপূর্বের ন্যায় অন্যায়ভাবে তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত এর স্বপক্ষীয় কোনো কারণ উদঘাটন না করে আবারও বিষয়টি নাকচ করে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ১৯৮৫ এর ধারা ৪(৩)ডি মোতাবেক ১৬/১১/৯৩ ইং তারিখে চাকরি হতে তাকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

এদিকে চাকরির মেয়াদকাল উত্তীর্ণ হওয়ায় তিনি আনুতোষিক ও পেনশনের হকদার। বর্তমানে তিনি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই বাকি জীবনটুকু ডাল-ভাত খেয়ে বেঁচে থাকার জন্য চাকরিকাল পর্যন্ত প্রাপ্য বেতন ও পেনশন প্রাপ্তির জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।


মন্তব্য