kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রিজ আছে, নেই সংযোগ সড়ক!

শিমুল চৌধুরী, ভোলা প্রতিনিধি   

২০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:২৩



ব্রিজ আছে, নেই সংযোগ সড়ক!

বৃহস্পতিবার বেলা আড়াইটা। ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার পশ্চিম বাজারে নব নির্মিত ব্রিজের গোড়ায় এক যাত্রীকে নামিয়ে দিলেন পৌর ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রিকশাচালক মোসলেউদ্দিন।

ওই যাত্রী ব্রিজ পার হয়ে যাবেন গঙ্গাপুর ইউনিয়নের জয়া গ্রামে। কিন্তু রিকশাচালক যাত্রীকে ব্রিজের গোড়ায় নামিয়ে দেন।

কারণ জানতে চাইলে মোসলেউদ্দিন বলেন, “আরে ভাই ব্রিজের ওপারে যাইয়্যা পোষায়না। তাই যাত্রীকে এহানোই নামাইয়া দিছি। ”

তিনি আরও বলেন, “এহানে নতুন ব্রিজ করলেও ব্রিজের গোড়ায় মাটি (সংযোগ সড়ক) না দেওয়ায় এই ব্রিজ দিয়া যাত্রীসহ রিকশা নিয়া যাওয়া সম্ভব না। এত কষ্ট কইর‌্যা যাত্রী নিয়া ব্রিজের ওপারে যাইয়া পোষায়না। ”

ঠিক ওই সময়ে একটি মালবাহী ক্যাকড়া ট্রলি (নছিমন) ব্রিজের ওপর দিয়ে ওঠার পর নামার সময় ব্রিজের গোড়াতেই আটকে স্টার্ট বন্ধ হয়ে যায়। মালবাহী ট্রলি চালক নিরব জানান, তিনি কাঠ নিয়ে ব্রিজের ওপারের জয়া গ্রামে যাবেন। তিনি বলেন, ব্রিজের গোড়ায় সংযোগ সড়ক না থাকায় এই ব্রিজ দিয়া মালামাল নিতে কষ্ট হয়। এই ব্রিজ দিয়া গাড়ি চালানো রিক্স (ঝুঁকি) অইয়া যায়। ”

ওই এলাকার স্থানীয় ব্যবসায়ী দেবেশ চন্দ্র পাল বলেন, পশ্চিম বাজারের তেঁতুলিয়া খালের ওপরে নির্মিত নতুন এই ব্রিজটি পরিকল্পনা ছাড়াই করা হয়েছে। তাই ব্রিজটি এখন অনেক উঁচু হয়ে গেছে। আর ব্রিজটি উঁচু হওয়ায় এবং ব্রিজ করার প্রায় দেড় বছরেও সংযোগ সড়ক না করায় ব্যবসায়ীদের অনেক সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টির পানি ভেতরে ঢুকে ব্যবসায়ী মালামাল নষ্ট হয়ে যায়। এখানকার বহু ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

পৌর ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা পৌরসভার সাবেক প্যানেল মেয়র মুছা কালিমুল্ল্যাহ বলেন, অপরিকল্পিতভাবে ব্রিজটি নির্মান করায় এবং দীর্ঘদিনেও সংযোগ সড়ক নির্মান না করায় আমরা চলাচল করতে পারছিনা।

স্থানীয়রা জানান, এলজিইডির অধীনে প্রায় দুই কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে এ ব্রিজের নির্মান কাজ শেষ হয় প্রায় দুই বছর আগে। ভোলা সদর উপজেলার বিএনপি নেতা রাইসুল আলমের লাইসেন্সে আওয়ামী লীগ নেতা খায়রুল হাসান খোকন বোরহানউদ্দিন উপজেলার পশ্চিম বাজারে ব্রিজের নির্মান কাজ পান। সেই কাজ তিনি বিএনপি নেতা রাইসুল আলমের কাছে বিক্রি করেন। রাইসুল আলম আবার বিক্রি করেন মিজানুর রহমানের কাছে। কিন্তু মিজানুর রহমান ব্রিজের নির্মান কাজ শেষ করলেও সংযোগ সড়কের কাজ করেননি দীর্ঘদিনেও।

জনগনের ভোগান্তির কথা স্বীকার করে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম কালের কন্ঠকে বলেন, “পৌরসভার মানুষের সবচেয়ে বড় ভোগান্তি হচ্ছে এই ব্রিজটি। পৌরবাসীর দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদার ও এলজিইডির পিডির সঙ্গে একাধিকবার কথা বলেও ব্রিজের সংযোগ সড়ক নির্মান করে জনদুর্ভোগ থেকে রেহাই পাওয়ার আবেদন করেছি। কিন্তু কোন কাজ হচ্ছেনা। এই দুর্ভোগের চেয়ে ব্রিজটি না হওয়াই ভালো ছিল। শুধু সংযোগ সড়কই নয়, বৈদ্যুতিক খুঁটি ও ট্রান্সফর্মারও সেখান থেকে সরাতে হবে। সেই কাজটাও ঠিকাদার করছে না বলে তার অভিযোগ।

এ ব্যাপারে খায়রুল হাসান খোকন বলেন, দুই কোটি ৮১ লাখ টাকা ব্যয়ে ব্রিজের এ কাজ প্রথমে বিএনপি নেতা রাইসুল আলমের লাইসেন্সে আমি টেন্ডারে নিলেও পরে তা বিএনপি নেতা রাইসুল আলমের কাছেই বিক্রি করে দেই। তার কাছ থেকে আবার জনৈক মিজানুর রহমান সেই ব্রিজের নির্মান কাজ করেন। এখন এর জন্য ঠিকাদারের গাফিলতির কারনে নাকি এলজিইডি অফিসের কর্মকর্তাদের গাফিলতির কারনে সংযোগ সড়ক হচ্ছেনা তা তারাই ভালো বলতে পারবেন।

এ ব্যাপারে বোরহানউদ্দিন উপজেলার এলজিইডির প্রকৌশলী শফিউল আজম বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন এসেছি। দাপ্তরিক কাজে আমি এখন ভোলা সদরে এসেছি। বোরহানউদ্দিনে গিয়ে অফিসের ফাইল না দেখে এই মুহুর্তে কিছু বলা যাচ্ছেনা।

ঠিকাদার মিজানুর রহমান বলেন, অফিসের ফান্ডের কারনে সংযোগ সড়কটি করা হচ্ছেনা। খুব দ্রুত বিজের সংযোগ সড়ক নির্মান করা হবে বলেও জানান তিনি।


মন্তব্য