kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মা-মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:১৯



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মা-মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মা ও মেয়েকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার বুধল ইউনিয়নের মালিহাতা গ্রাম থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় সরুফা আক্তার (৩০) ও তার বিমাতা মেয়ে মারুফা আক্তারের (১০) লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

এদিকে এ ঘটনার পর থেকে সরুফা আক্তারের অভিযুক্ত স্বামী বাচ্চু মিয়া পলাতক রয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি।

পুলিশ ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জেলার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর গ্রামের রিকশাচালক বাচ্চু মিয়া বছর খানেক আগে কুট্টাপাড়া এলাকার সরুফা আক্তারকে বিয়ে করেন। এর আগেও তিনি আরেকটি বিয়ে করেন। মালিহাতার ভাড়া বাড়িতে দুই স্ত্রী ও প্রথম স্ত্রীর কন্যা মারুফাকে নিয়ে তিনি ভাড়া থাকতেন। গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে বাচ্চু মিয়া তার প্রথম স্ত্রী মোমেনার সঙ্গে ঝগড়া করে তাকে বাড়ি থেকে বের করে দেন। পরে বাবার বাড়ি থেকে ৩০ হাজার টাকা এনে দেওয়ার জন্য সরুফাকে চাপ দেন। সরুফা এতে রাজি না হওয়ায় বাচ্চু মিয়া ক্ষুব্ধ হয়ে বেড়িয়ে যান। আজ বুধবার নির্ধারিত সময়ে অটোরাইস মিল শ্রমিক সরুফা কাজে না যাওায়ায় মিলের লোকজন বাসায় এসে খোঁজ করেন। এ সময় তারা ঘরটি তালাবদ্ধ দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে স্বজনরা এসে স্থানীয় ইউপি মেম্বার ফারুক মিয়ার মাধ্যমে ঘটনাটি পুলিশকে অবহিত করেন। পুলিশ এসে তালাবদ্ধ ঘর থেকে গলায় ওড়না পেঁচানো অবস্থায় দুজনের লাশ উদ্ধার করে।

সরুফার মা হোসনা বেগম ও মামা মো. ছানা উল্লাহ অভিযোগ করেন, গভীর রাতে বাচ্চু বাসায় ফিরে ঘুমিয়ে পড়েন। রাতের কোনো এক সময়ে তাদের দুজনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। সকালে খবর পেয়ে এসে ঘর তালাবদ্ধ দেখে বাচ্চুর মোবাইল ফোনে করা হলে তিনি অসংলগ্ন কথাবার্তা বলেন।

এ ব্যাপারে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মঈনুর রহমান জানান, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড বলেই মনে হচ্ছে। তবে বাচ্চু মিয়াকে আটক না করা পর্যন্ত বিস্তারিত কিছু বলা যাচ্ছে না। তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশ চেষ্টা করছে।
 
তিনি আরো জানান, লাশ দুটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জেলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। অভিযোগ পেলে সে মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


মন্তব্য