kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নাঙ্গলকোটে ১০ টাকার চাল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি   

১৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:২৪



নাঙ্গলকোটে ১০ টাকার চাল নিয়ে সংঘর্ষে আহত ১০

কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে ১০ টাকার চাল বিতরণে অনিয়মের প্রতিবাদ করায় ডিলালের লোকদের সঙ্গে কার্ডধারীদের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। এছাড়া উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের সুরপুর গ্রামের ডিলার শহীদুল ইসলাম ১০ টাকার চালের কার্ডধারীদের ওজনে কম দিয়েছেন বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

আজ বুধবার দুপুরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযোগের সত্যতা পান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ। পরে ইউএনও শহীদুল ইসলামের ডিলারশিপ বাতিল ও দোকান সিলগালা করে দেন।
 
ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আজ বুধবার উপজেলার মৌকরা ইউনিয়নের সুরপুর গ্রামের ডিলার শহীদুল ইসলাম ওরফে বাবুল কার্ডধারী হতদরিদ্রদের কাছে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি শুরু করেন। ওইদিন তিনি ৭৭ জন কার্ডধারীর কাছে ৩০ কেজি করে চাল বিক্রি করেন। এ সময় ৫/৬ জন কার্ডধারীর সন্দেহ হলে তাঁরা চালগুলো পাশের বিভিন্ন দোকানে নিয়ে মাপ দেন। পরে দেখা যায়, ৩০ কেজি চালের মধ্যে প্রতিটি বস্তায় ২৫ থেকে ২৮ কেজি চাল রয়েছে। এ সময় উপস্থিত সবাই তাদের চালের মাপ দিয়ে একই অবস্থা দেখতে পান।

১০ টাকার চালের কার্ডধারী উপজেলার আলীয়ারা গ্রামের জহিরুল ইসলাম পলাশ বলেন, আমরা সবাই অন্য দোকানে নিয়ে মাপ দিয়ে দেখি প্রতি ৩০ কেজি চালের মধ্যে ৪/৫ কেজি করে চাল কম। পরে আমি গ্রামের কয়েকজন ব্যক্তি ও অভিযোগকারীদের সঙ্গে নিয়ে ডিলার শহীদুল ইসলামের কাছে গিয়ে চাল কম দেওয়ার কারণ জানতে চান। এ সময় ডিলার শাহীদুল ইসলাম ও তার সহযোগীরা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে। এক পর্যায়ে ডিলার ও তাদের লোকেরা আমাদের গায়ে হাত তোলা শুরু করেন। এতে আমাদের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ বেঁধে যায়।  

তিনি জানান, সংঘর্ষে পলাশ, জয়নাল আবেদিন, আলমাছ মিয়া, বাবুল মিয়া, মুন্না, আনোয়ার হোসেন, সাগরসহ অন্তত ১০ জন ভুক্তভোগী আহত হন।

কার্ডধারী জয়নাল আবেদিন বলেন, আমাকে ৩০ কেজির চালের পরিবর্তে ২৬ কেজি চাল দেওয়া হয়েছে। শুধু আমি নই সকলের একই অবস্থা। তিনি আরও বলেন, এই এলাকায় চাল বিতরণে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমবায় অফিসার কেফায়েত উল্লাহর উপস্থিতিতে ডিলার ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। তিনি নিজেও পরিদর্শন করে ওজনে চাল কম দেওয়ার সত্যতা পান।

এদিকে সংঘর্ষের পর ভুক্তভোগী স্থানীয় পলাশ ও জয়নাল আবেদীন বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহম্মদ সাইদুল আরিফকে মুঠোফোনে জানান। পরে আজ দুপুরে ভুক্তভোগীদের অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে এসব অভিযোগের সত্যতা পেয়ে শহীদুল ইসলামের ডিলারশিপ বাতিল ও তার দোকান সিলগালা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইদুল আরিফ।  

তবে ভুক্তভোগীদের ওপর হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে এ বিষয়ে অভিযুক্ত ডিলার শহীদুল ইসলাম বাবুল বলেন, মেশিনে সমস্যার কারণে সম্ভবত মাপে কিছুটা সমস্যা হয়েছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ওই এলাকার চাল বিতরণে ট্যাগ অফিসারের দায়িত্বে থাকা উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা মো.কেফায়েত উল্লাহ জানান, আমাকে না জানিয়ে ওই ডিলার চাল বিক্রি করেছেন। পরে ইউএনও স্যারের নির্দেশে সরেজমিনে গিয়ে চাল মেপে ওজনে কম দেওয়ার সত্যতা পেয়েছি।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ সাইদুল আরীফ কালের কণ্ঠকে জানান, ১০ টাকার চাল ওজনে কম দেওয়ার সত্যতা পেয়ে অভিযুক্ত শহীদুল ইসলাম বাবুলের ডিলারশিপ বাতিল করা হয়েছে। এছাড়া তাঁর দোকান সিলগালা করে দেওয়া হয়েছে।  

তিনি আরো জানান, উপজেলার অন্য যেকোন স্থান থেকে এমন অভিযোগ পাওয়া গেলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
 


মন্তব্য