kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডোমারে ১০ টাকার চাল না পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু

ডোমার (নীলফামারী) প্রতিনিধি    

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:১০



ডোমারে ১০ টাকার চাল না পাওয়ার ঘটনায় তদন্ত শুরু

গত ১৫ অক্টোবরে দৈনিক কালের কন্ঠের অনলাইনে “ ডোমারে ১০ টাকার চাল পায়নি প্রতিবন্ধী মিজানুর ” শিরোনামে খবরটি প্রকাশের জেরে নীলফামারীর ডোমারে তদন্ত শুরু করেছে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি।

সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার জোড়াবাড়ী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বাবু পাড়ায় মৃত ইফসুফ আলীর পুত্র প্রতিবন্ধী মিজানুর রহমান(৩৫) জানায়,“মুই (আমি )ছবিসহ  কার্ড (ভোটার আইডি) মেম্বারের (ইউপি সদস্য জাহেরুল ইসলাম) কাছোত জমা দিছু, আবার চৌকিদার, দুলাল মেম্বারের কাছতঃ ( সাবেক ইউপি সদস্য ও বর্তমান ১০ টাকা চালের ডিলার ) ছবি ,কার্ড জমা দিছু ,তিনজনের কাছে কাগজ জমা দিনু ,তারপরও হইল না।

মোর পরিবারে আটজন খানেয়ালা, মা মেহেরুন নেছা (৬৬), বউ শাহিনিস বেগম (২৫),দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী লিজা (৭), প্রথম শ্রেণির শিলা (৫), শামিম (৩),পরিত্যক্ত বোন আসমা (৩২), ৫ম শ্রেণির ছাত্র ভাগিনা আশরাফ (১২)। বাজারে গেলে চাউল কিনলে তরকারি হয় না, তরকারি কিনলে চাউল হয় না। বাড়ির ভিটা ছাড়া  হামার কিছু নাই। মুই ভিক্ষা করি চলো। "

এ নিয়ে গত ১৫ই অক্টোবর কালের কণ্ঠের অনলাইনে “ডোমারে ১০ টাকার চাল পায়নি প্রতিবন্ধী মিজানুর” শীর্ষক শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ হলে টনক নড়ে কর্তৃপক্ষের। এরই পরিপ্রেক্ষিতে গতকাল রবিবার রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেয় নীলফামারীর জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে। জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন ডোমার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বর্মন ও খাদ্য পরিদর্শক রাশেদুল ইসলাম খন্দকারকে নিয়ে দুই সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করেন এবং আজ সোমবারের মধ্যে অত্যন্ত জরুরী বিবেচনা করে পূর্নাঙ্গ প্রতিবেদন মতামতসহ দাখিলের নিদের্শ দেন। এর প্রেক্ষিতে আজ বিকেলে তদন্তে যান তারা। ফিরেন সন্ধ্যার পরে।

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বর্মন জানান, জোড়াবাড়ী প্রতিবন্ধী মিজানুরের ওখানে গিয়েছিলাম। সন্ধ্যার পরে ফিরেছি। সংবাদের সত্যতা পেয়েছি। তবে মেম্বার বলল, আইডি কার্ড ও ছবিও দেয়নি, তাই দিতে পারি নাই। ভুল বুঝাবুঝি হয়েছে। ঠিক হয়ে যাবে ।

উল্লেখ্য,পাকা বাড়ি, ১৫ থেকে ২০ বিঘা পর্যন্ত কৃষি জমি, রয়েছে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এমন ব্যক্তি ওই চালের সুবিধা পাওয়ার অভিযোগ করছিলেন এলাকাবাসী। ওই সুবিধা পাওয়ার অযোগ্য এবং ক্ষমতাশীল দলের এমন সচ্ছল নেতাদের নামেও কার্ড রয়েছে বলে অভিযোগকারীরা জানায়। এ নিয়ে গত বৃহস্পতিবার কয়েকটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ব্যাপক অনিয়ম নিয়ে সংবাদ প্রকাশ হলে কর্তৃপক্ষের নজরে আসে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ওই দিন গভীর রাতেই ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণে দুর্নীতির মাধ্যমে অপরাধজনক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান ও চারজনসহ কয়েকজন অজ্ঞাতের নামে মামলা হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে সাত দিনের মধ্যে তালিকা সংশোধন করে নতুন করে হতদরিদ্রদের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে ।


মন্তব্য