kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কক্সবাজারে চীনা নাগরিক লাঞ্ছিত

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:১৭



কক্সবাজারে চীনা নাগরিক লাঞ্ছিত

কক্সবাজারের রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির এসআই সাইফুলের হাতে চট্টগ্রাম ইপিজেডস্থ চীনা কম্পানি সানসাইন এর এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। আজ সোমবার সকাল ১১টায় কক্সবাজার শহরতলীর ব্যস্ততম লিংকরোড বাসস্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।

 

প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, চট্টগ্রাম ইপিজেডস্থ সানসাইন গ্রুপের চারজন চীনা নাগরিক আজ সোমবার একটি প্রাইভেটকারে(চট্টমেট্রো-গ-১২-২৫১৭) করে কক্সবাজার বেড়াতে আসেন। পথিমধ্যে সকাল ১১টায় প্রাইভেটকারটি লিংক রোড বাস স্টেশনে পৌঁছলে আগে থেকে অবস্থান নেওয়া রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশের এসআই সাইফুলের নেতৃত্বে একদল পুলিশ কারটিকে চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় প্রাইভেটকারের ড্রাইভার কামাল যাবতীয় কাগজপত্র দেখালেও সন্তুষ্ট হতে পারেননি এসআই সাইফুল। উল্টো চার চীনা নাগরিক ও ড্রাইভার কেন সিটবেল্ট পড়েননি এই অজুহাত তুলে তাদেরকে গাড়ি থেকে নামাতে বাধ্য করেন। সাথে সাথে গাড়িটির বিরুদ্ধে মামলা রুজু করেন এবং গাড়িটি আটকও করেন। এ ঘটনায় হতবিহবল চীনা নাগরিক হাতজোড় করে এসআই সাইফুলের কাছে ক্ষমা চাইলেও তিনি ইংরেজীতে উল্টো তাদেরকে আইনের মারপ্যাচের কথা বলেন। এরপর চার চীনা নাগরিক অন্য টেক্সি করে শহরে ঢুকতে চাইলেও ঔদ্বত্তপূর্ণ আচরণ দেখিয়ে এসআই সাইফুল তাদেরকে শারিরীকভাবে লাঞ্চিত করেন এবং সাময়িক জিম্মি করে রাখেন। এ সময় চীনা নাগরিকরা বিষয়টি উর্ধ্বতন মহলকে জানানোর কথা বললে এসআই সাইফুল ‘পুলিশের আইজিও তাকে কিছু করতে পারবেন না’ বলে সাফ জানিয়ে দেন। প্রায় আধ ঘন্টা ধস্তাধস্তির পর প্রাইভেটকারসহ চীনা নাগরিকদের ছেড়ে দেন ক্ষমতাধর এই এসআই।

তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করে হাইওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক(এসআই) সাইফুল কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘আমি কক্সবাজারমুখী প্রাইভেটকারটি থামিয়ে সিটবেল্ট না বাঁধায় যথারীতি মামলা করি চালক কামাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। চাইনিজরা পরে গাড়ি থেকে নেমে আমার সাথে কিছুটা বিবাদে লিপ্ত হন। এক পর্যায়ে এক চাইনিজ আমার কাছ থেকে গাড়ির কাগজপত্রও কেড়ে নিযে যায়। ’ 

এসআই সাইফুল আরো বলেন, প্রাইভেটকারের যাত্রীদের প্রথমে তিনি উপজাতি চাকমা মনে করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি টের পান তারা চীনের নাগরিক। কিন্তু ততক্ষণে ঘটনা যা ঘটার তাই ঘটে গেছে।

জানা যায়, রামুর তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশ ক্যাম্পটি হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নে ন্যস্ত। অভিযোগ রয়েছে, এ কারণেই ধরাকে সরাজ্ঞান করে প্রত্যহ ব্যস্ততম লিংক রোড বাস স্টেশনসহ কক্সবাজার-চট্টগ্রাম ও টেকনাফ সড়কে অবস্থান নিয়ে সকাল-বিকেল প্রকাশ্যে চাঁদাবাজিতে ব্যস্ত থাকেন হাইওয়ে পুলিশের সংশ্লিষ্ট কর্তারা।  

এদিকে এ ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী জেলা কক্সবাজার জেলা শ্রমিক লীগ নেতা আনোয়ার জানান, এসআই সাইফুল চীনা নাগরিকদের সাথে যে আচরণ করেছেন সেটা গর্হিত অপরাধ।  

ঝিলংজা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের নেতা জাকের হোসেন সওদাগর বলেন, রামু তুলাবাগান হাইওয়ে পুলিশের নিত্যদিনের আচরণ দেখলে মনে হয় যেন মগের মুল্লুকে বাস করছি।  

অপরদিকে কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের তুলাতলী হাইওয়ে পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবুল কালাম আজাদ কালের কন্ঠকে বলেন, ‘বিদেশি নাগরিকদের সাথে কি ঘটনা ঘটেছে উপ পরিদর্শক সাইফুল এখনো আমাকে জানাননি। আমি এ বিষয়ে খোঁজ-খবর নিয়ে ব্যবস্থা নেব। ’  


মন্তব্য