kalerkantho


সব ছেড়েও ভালোবাসার দেখা পেল না রাণী

বরগুনা প্রতিনিধি    

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:৫৫



সব ছেড়েও ভালোবাসার দেখা পেল না রাণী

ভালবাসার টানে বাবা-মা, ভাইবোন, আত্মীয়-স্বজন এমনকি নিজ ধর্মও ত্যাগ করেছিল বগুড়ার মেয়ে রানী (১৮)। কিন্তু না। সব ছেড়েও ভালবাসার দেখা পায়নি সে। বিয়ের পর শ্বশুর-শাশুড়িসহ ভালবাসার সেই মানুষটির (স্বামী) নিপিড়ন নির্যাতনের এক পর্যায়ে মৃত্যু হয় তাঁর। আজ সোমবার সকালে বরগুনায় বসতঘরের দোতলা থেকে তাঁর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এদিকে এ ঘটনার পরপরই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায় স্বামীসহ শশুরবাড়ির সবাই।
 
বগুড়া জেলার নয়ন চন্দ্রের মেয়ে রাণী। জীবিকার তাগিদে রাজধানী ঢাকায় পোশাক শিল্পে (গার্মেন্ট) কাজ নেন রাণী। একই কারখানায় কাজের সুবাদে চার বছর আগে তার সাথে পরিচয় হয় বরগুনার ছোনবুনিয়া গ্রামের মোঃ শাহ আলম শিকদারের ছেলে মোঃ সাইদুল ইসলামের (২২)। পরে দুই পরিবারের অজান্তেই বিয়ে করেন তারা। কিন্তু খাদিজা আক্তার তখন হিন্দু থাকায় পুত্রবধূকে মেনে নিতে অসম্মতি জানান খাদিজার শশুরবাড়ির লোকজন। আর মেয়ে মুসলমান ছেলে বিয়ে করায় তার সাথে সমস্ত যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় খাদিজার বাবা-মা।
 
এ নিয়ে স্থানীয়ভাবে শালিস ব্যবস্থায় কোন সুরহা না হওয়ায় বিষয়টি গড়ায় থানা-পুলিশ পর্যন্ত। পরে খাদিজা নিজে ধর্ম ত্যাগের কথা জানালে তাকে মেনে নিতে রাজি হয় সাইদুলের পরিবার। সে সময় হিন্দু ধর্ম ত্যাগ করে মুসলমান হলে খাদিজাকে মেনে নেয় তার শুশুর বাড়ির স্বজনরা। ধর্মান্তরিত হওয়ার পর রাণীর নতুন নাম দেওয়া হয় খাদিজা আক্তার। এরপর থেকেই বরগুনার সদর উপজেলার ছোনবুনিয়া গ্রামে সাইদুলের পরিবারের সাথে বসবাস করে আসছিল খাদিজা।
 
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সাইদুলের এক প্রতিবেশী জানান, খাদিজার নিকটাত্মীয়রা কাছে না থাকায় প্রায়ই খাদিজাকে মারধর করতো সাইদুল ও তার স্বজনরা। এ ছাড়াও ছোটখাটো বিষয় নিয়ে প্রায়ই খাদিজার ওপর মানসিক নির্যাতন করতো তারা। সাইদুল খাদিজার ঘরে দেড় বছর বয়সী সাবিত নামের একটি ছেলে রয়েছে।
 
এ প্রসঙ্গে বরগুনা সদর থানার ওসি মোঃ রিয়াজ হোসেন পিপিএম জানান, বর্তমানে একটি সাধারণ ডায়রি করে মরদেহের ময়নাতদন্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তদন্ত রিপোর্ট হাতে পেলে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। খাদিজার বাবা-মায়ের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা চলছে।  

এ ব্যাপারে বরগুনার পুলিশ সুপার বিজয় বসাক জানান, হত্যা না আত্মহত্যা তা নিশ্চিত করে বলা যাবে লাশের ময়নাতদন্তের পরে। তবে খাদিজা আক্তারের মৃত্যুর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
 


মন্তব্য