kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ছাতকে সহপাঠীর উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে আরেক সহপাঠী খুন

সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:১৯



ছাতকে সহপাঠীর উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে আরেক সহপাঠী খুন

সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছে একই শ্রেণির আরেক শিক্ষার্থী। আজ সোমবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার বড়কাপন পয়েন্টে এ ঘটনা ঘটে।

এলাকাবাসী ঘাতক শিক্ষার্থীকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে।  
নিহত শিক্ষার্থীর নাম আল আমীন। সে জাউয়া কলেজের দ্বাদশ শেণির ছাত্র ও ছাতক উপজেলার পলিরচর গ্রামের কাছা মিয়ার ছেলে।

পুলিশ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, ছাতকের পলিরচর গ্রামের কাছা মিয়ার ছেলে আল আমীন ও একই উপজেলার ছনুয়া গ্রামের রশিদ আলীর ছেলে আক্কাস আলী জাউয়া বাজার কলেজ সংলগ্ন দেবের গাও গ্রামে লজিং থেকে কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ালেখা করছিল। তুচ্চ বিষয় নিয়ে আক্কাস আলী প্রায়ই আল আমিনকে মারধর করতো। গতকাল রবিবার রাতে এ নিয়ে আল আমিনকে বেধড়ক পেটায় আক্কাস আলী। আজ সোমবার আল আমিন ও আক্কাস আলী পৃথকভাবে কলেজ যায়। কলেজে গিয়েও আক্কাস আলী তার অন্যান্য বন্ধুদের নিয়ে আল আমিনকে টিটকারী করছিল। এক পর্যায়ে অপমাণিত আল আমিন ক্ষুব্ধ হয়ে আক্কাস আলীকে কলম দিয়ে আঘাত করে পালিয়ে যায়। এই সময় আক্কাস আলী ও তার ৮/১০ জন বন্ধু আল আমিনের পিছু নেয়। আল আমিন পার্শ্ববর্তী বড়কাপন পয়েন্টে আসার পর তাকে ধাওয়া করে একটি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে বের করে রাস্তায় ফেলে উপর্যুপুরি ছুরিকাঘাত করে। এতে ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়ে আল আমিন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কৈতক হাসপাতালে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়। এদিকে প্রকাশ্যে ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যাবার সময় স্থানীয় জনতা আক্কাস আলীকে ধাওয়া করে আটক করে উত্তম মধ্যম দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করেন। এ ঘটনায় থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি আশেক সুজা মামুন বলেন, তুচ্চ বিষয় নিয়ে আল আমীনকে ছুরিকাঘাত করে খুন করেছে সহপাঠী। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ঘাতক সহপাঠীকে আটক করে আমাদের কাছে সোপর্দ করেছে। এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ প্রসঙ্গে জাউয়া বাজার কলেজের অধ্যক্ষ মো. আব্দুল গফফার বলেন, তুচ্চ বিষয় নিয়ে ক্যাম্পাসে সকালে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। আমরা দুজনকেই তলব করে বিষয়টি নিষ্পত্তি করে দিতে চেয়েছিলাম। কিন্তু কাউকে তখন ক্যাম্পাসে পাইনি। দুপুরে শোনি আল আমিনকে ছুরিকাঘাতে খুন করেছে আক্কাস আলী। আমরা আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানাই।


মন্তব্য