kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সৈয়দপুরে দিনমজুরের কন্যা আইরিনের মেডিক্যালে ভর্তি অনিশ্চিত

সৈয়দপুর প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:১৭



সৈয়দপুরে দিনমজুরের কন্যা আইরিনের মেডিক্যালে ভর্তি অনিশ্চিত

অভাবী পরিবারের মেয়ে আইরিন আক্তার রিনা এবারে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে তার ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাহলে কি মেডিক্যালে পড়ার স্বপ্ন পূরণ হবে না মেধাবী ওই শিক্ষার্থীর? খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সৈয়দপুর উপজেলার কামারপুকুর ইউনিয়নের কিসামত কামারপুকুর মিস্ত্রিপাড়া গ্রামের  ইউনুস আলী ও বেলী বেগম দম্পতি।

তাদের মেধাবী কন্যা আইরিন আক্তার রিনা। ১ মেয়ে, ২ ছেলের মধ্যে আইরিনই বড়। তাঁর বাবা ইউনুস আলী দিনমজুরের কাজ করেন। গ্রামের এ বাড়ি ও বাড়ি ঝিয়ের কাজ করেন মা মোছা. বেলী বেগম। তাতে পরিবারটির ৫ সদস্যদের দুই বেলা ঠিকভাবে খাবার জোটে না। সেই অভাবী সংসারের মেয়ে আইরিন খেয়ে না খেয়ে শত প্রতিকূলতার পরও লেখাপড়া করে। সে বাড়ির পাশের বাগডোকরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণির বৃত্তি পরীক্ষায় সাধারণ গ্রেডে বৃত্তি লাভ করে। এর পর সৈয়দপুর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় ও সৈয়দপুর সরকারি কারিগরী মহাবিদ্যালয়ে পড়াশুনা করে। এসএসসি ও এইচএসসি দুইটি পরীক্ষায় গোল্ডেন জিপিএ- ৫ পেয়েছে। মেধাবী ছাত্রী আইরিন অভাবী সংসারে পড়াশোনা করে এই সফলতা অর্জন করে।
 
আইরিন আক্তার রিনা জানান, তার অভাবী পরিবারের কথা জানতে পেরে সরকারি কারিগরী মহাবিদ্যালয়ে পড়ার সময় কলেজের স্যাররা তাদের সাধ্যমতো সকল সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেন। তার ছিল না কোন প্রাইভেট বা কোচিং। প্রতিদিন বাড়ি থেকে ২ কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে এসে ইজিবাইক বা রিকশাভ্যানে কলেজ করেছে সে। টাকার অভাবে ইজিবাইক কিংবা রিকশাচালকের কাছে ভাড়া প্রায় বাকি থাকত। তার পরও সে এবারের মেডিক্যাল কলেজ ভর্তি পরীক্ষায় অংশ নিয়ে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তার রোল নং- ২৪০৩৯১২, সিরিয়াল নম্বর ৭৭৬১৩৫, স্কোর- ৬৬ দশমিক ৭৫ এবং মোট স্কোর ২৬৬ দশমিক ৭৫।

আইরিন আরও জানায়, চলতি অক্টোবর মাসের ২০ থেকে ৩১ তারিখের মধ্যে ভর্তি হতে হবে। শুনেছি ভর্তি হতে প্রায় ১৮/২০ হাজার টাকা লাগবে। এই টাকা আমার বাবা-মায়ের পক্ষে দেওয়া অসম্ভব। এবারে মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেলেও অর্থাভাবে তার মেডিক্যালে ভর্তি অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।

গতকাল রবিবার সকালে তার বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, বাড়িঘরের জীর্ণদশা। বাবা ইউনুস আলী ভোরে কাজের জন্য বাড়ি থেকে বেরিয়ে গেছেন।

আইরিনের মা বেলী বেগম জানান, তাঁর মেয়ে খেয়ে না খেয়ে স্কুল-কলেজ করেছে। ভালো ফলাফলে সবাই সন্তুষ্ট হলেও মেডিক্যালে ভর্তি নিয়ে আমাদের চিন্তার শেষ নেই। কি করব ভেবে পাচ্ছি না ?
 
এ ব্যাপারে সৈয়দপুর সরকারি কারিগরী মহাবিদ্যালয়ের অধ্যক্ষ ড. শাহ মো. আমির আলী আজাদ জানান, প্রতিষ্ঠানের ২৫ জন ছাত্র-ছাত্রী এবারে মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। গরিব ঘরের মেধাবী ছাত্রী আইরিন আক্তার রিনার পড়ার খরচ কলেজ কর্তৃপক্ষ বহন করেছে। তিনি এই মেধাবী ছাত্রীর লেখাপড়াসহ ভর্তির সহায়তার জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন।


মন্তব্য