kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ঝিনাইগাতীতে বন্যহাতির মরদেহটি ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা

শেরপুর প্রতিনিধি   

১৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৩৪



ঝিনাইগাতীতে বন্যহাতির মরদেহটি ময়নাতদন্ত শেষে মাটিচাপা

শেরপুরের ঝিনাইগাতী উপজেলার কাংশা ইউনিয়নের তাওয়াকুচা নয়াপাড়া গ্রাম থেকে উদ্ধার হওয়া বন্যহাতির মরদেহটি আজ সোমবার বিকেলে ময়নাতদন্ত শেষে ঘটনাস্থলের পাশেই মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। এদিন ভোরে ওই এলাকার সীমান্ত সড়কের দক্ষিণ পাশের ধান ক্ষেতের পাশ থেকে বন্যহাতির মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়।

বনবিভাগ ও বন্যপ্রাণী কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে মৃত হাতিটির ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করেন ঝিনাইগাতী উপজেলা প্রাণীসম্পদ কর্মকর্তা দীপক কুমার সরকার। তিনি জানান, মৃত হাতিটির শুড়ের নীচে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হাতিটি শুরসহ লম্বায় ১৮ ফুট। বয়স ৪০ বৎসরের উর্ধ্বে হবে। মৃত হাতিটিকে বসা অবস্থায় পাওয়া যায়। এটি নারী হাতি। নারী হাতিরা সাধারনত দলনেতা হয়ে থাকে।

তিনি বলেন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে হাতিটির মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা যাবে। ময়নাতদন্ত শেষে ঘটনাস্থলের পাশেই গর্ত খুড়েঁ হাতির মরদেহটি মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তকালে হাতিটির পাকস্থলীসহ কিছু অংশ ভিসেরা পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। ভিসেরা রিপোর্ট পাওয়ার পর ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া হবে।

তবে স্থানীয় একটি সূত্রে জানা যায়, গত বেশ কিছুদিন যাবত কাংশা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় বন্যহাতির তাণ্ডব বৃদ্ধি এবং দেড় মাসে নয়জন মানুষের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এতে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসীর পাতা বিদ্যুতের ফাঁদে এ হাতিটি মারা যেতে পারে। এর আগে গত ১ অক্টোবর রাতে পানবর এলাকার একটি ধানক্ষেতে আরেকটি বুনোহতির মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়।  

স্থানীয় বাসিন্দা জহুরুল হক জানান, রাতে হাতির দলের চিৎকার শুনে আশপাশের কয়েক শ’ মানুষ তাওয়াকুচা টিলাপাড়া খেলার মাঠে জমায়েত হয়। ওই এলাকার লোকজন মশাল জ্বালিয়ে, পটকা ফাঁটিয়ে, জেনারেটরের আলো জ্বালিয়ে ও টিন বাঁজিয়ে শব্দ করাসহ হৈ-হুল্লুর শুরু করলে তা না মেনে হাতির দল উল্টো তাদের দিকে ধেয়ে এসে ধাওয়া দেয়। এ সময় হাতির দল সামনের লোকালয়ে চলে এসে স্থানীয় সীমান্ত সড়ক পাড়ি দিয়ে তাওয়াকুচা নয়াপাড়া গ্রামে তাণ্ডব চালিয়ে মমেনা খাতুন, ময়নাল মিয়া, ময়ছান আলী, আজির উদ্দিন, মেহের আলী, আমজাদ হোসেন, আব্দুল কাদির, হোসেন আলীর বাড়ি এবং গুরুচরন দুধনই গ্রামের আছিয়া খাতুনের দোকানঘর ভাঙচুর করে। ভোরে একটি হাতিকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।

উল্লেখ্য, গত ৬ মাসে ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তবর্তী হালচাটি, তাওয়াকুচা, গান্ধীগাঁও ও পানবর এলাকায় ৫টি বুনোহাতি মৃত্যুর ঘটনা ঘটল।


মন্তব্য