kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ; আহত ২০

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:১৮



সাভারে শ্রমিক-পুলিশ সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ; আহত ২০

সাভারে বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সাথে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও লাঠিচার্জের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষে ও রাবার বুলেটে আহত হয়েছে অন্তত ২০ জন পোশাক শ্রমিক।

আজ রবিবার সকালে সাভার পৌর এলাকার ডগোরমোড়া সিআরপি রোডে ডানা বটমস লিমিটেডের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানায়, রবিবার সকালে ডানা বটমস লিমিটেডের তিন শতাধিক শ্রমিক বন্ধ কারখানা খুলে দেওয়ার দাবিতে কারখানার সামনে বিক্ষোভ করতে থাকে। এ সময় তারা উত্তেজিত হয়ে কারখানার ভিতরে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। পরে শ্রমিকরা কারখানার সামনে থেকে বিক্ষোভ করতে করতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের সাভারের শিমুলতলা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়কটি অবরোধ করে রাখে। এ সময় মহাসড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ শ্রমিকদের ওপর লাঠিচার্জ করলে শ্রমিকরাও পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকে। এক পর্যায়ে শ্রমিকদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ কয়েক রাউন্ড রাবার বুলেট নিক্ষেপ করে। সংঘর্ষ, লাঠিচার্জ ও রাবার বুলেটে অন্তত ২০ জন পোশাক শ্রমিক আহত হয়। পরে অন্য শ্রমিকরা আহত শ্রমিকদের উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়।

শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত কুরবানির ঈদের আগে মালিকপক্ষ কারখানার সকল লাইন (সাতটি) চালু করার লক্ষ্যে কারখানা সংস্কারের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। যা শুরু হওয়ার কথা ঈদের পরে। কারখানার উৎপাদন কার্যাদি চালু রেখে এবং শ্রমিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে সংস্কার কার্যক্রম পরিচালনা করা সম্ভব নয় উল্লেখ করে নির্মাণ ও সংস্কার কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১২ সেপ্টেম্বর হতে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত কারখানার সকল কাজ বন্ধ রাখা হবে জানিয়ে কারখানার সহকারী ব্যবস্থাপক এইচআর এডমিন অ্যান্ড কমপ্লায়েন্স একে এম আরিফুজ্জামান একটি নোটিশ দেন। সে হিসেবে ১৬ অক্টোবর কারখানাটি খোলার কথা ছিল। কিন্তু ১৬ অক্টোবর রবিবার শ্রমিকরা সকালে কাজে যোগ দিতে এসে কারখানাটির প্রশাসনের কোন ব্যক্তি ও মেশিনপত্র না দেখে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে।  

অনেক শ্রমিক জানান, কারখানার বর্তমান মালিক অন্য মালিকের কাছে কারখানাটি হস্তান্তর করার উদ্যোগ নিয়েছেন। শ্রমিকরা অন্য মালিকের কাছে কাজ করবে না বলে জানিয়ে তারা বিক্ষোভ করেন।

এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ-১ সাভার-আশুলিয়া জোনোর পরিচালক পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন,  শ্রমিকরা চাকরির অনিশ্চয়তার কারণে বিক্ষোভ করেছে। তবে তারা পুলিশের উপস্থিতির কারণে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ক অবরোধ করতে পারেনি।  

লাঠিচার্জ বা রাবার বুলেট নিক্ষেপের কথা এবং শ্রমিক আহত হওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে তিনি আরো বলেন, যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই কারখানার সামনে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

এদিকে আজ রবিবার এক যৌথ বিবৃতিতে বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির কেন্দ্রীয় সভা প্রধান তাসলিমা আখ্তার লিমা ও সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু ডানা গার্মেন্টে কারখানা না খুলে প্রশাসনের লাপাত্তা, মেশিনপত্র উধাও হওয়া এবং প্রতিবাদকারী শ্রমিকদের ওপর পুলিশের নির্মম লাঠিচার্জ ও রবার বুলেট ছুড়ে নির্যাতনের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ করেছেন। নেতৃবৃন্দরা অবিলম্বে কারখানা খুলে দেবার দাবি করেন এবং হতাহত শ্রমিকের চিকিৎসা ভার মালিক পক্ষকে নেবার আহ্বান করেন।

নেতৃবৃন্দরা জানান, ডানা গার্মেন্ট ২০১৪ সাল থেকে ২ বছর পর্যন্ত চলে। গত ১২ সেপ্টেম্বর ডানা গার্মেন্ট কর্তৃপক্ষ নির্মাণ এবং সংস্কার কাজের দোহাই দিয়ে চলতি মাসের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করে। সেপ্টেম্বর মাসে শ্রমিকদের চলতি মাসের ১১ তারিখ পর্যন্ত বেতনও পরিশোধ করে। সংস্কার কাজের দোহাই দিলেও শ্রমিক এবং এলাকাবাসীর কাছ থেকে জানা যায়, ক্ষমতাসীন দলের স্থানীয় মাস্তানদের ঝুট ব্যবসা কেন্দ্রিক দ্বন্দ্বই কারখানা বন্ধের অন্যতম কারণ। কারখানাটি খোলা অবস্থায় ঝুট কে বা কোন গ্রুপ নামাবে। এই বিরোধে অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে কারখানার সামনে স্থানীয় মাস্তানদের দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যেতো। পরবর্তীতে কর্তৃপক্ষ কারখানাটি বন্ধ ঘোষণা করে।

বিবৃতিতে তাঁরা অবিলম্বে ডানা বটমস কারখানা খুলে দেবার দাবি করেন। নচেত শ্রম আইন অনুযায়ী, ২ বছর কাজ করা সকল শ্রমিকের ন্যায্য দেনা-পাওনা পরিশোধ করে দেওয়ার আহ্বান জানান।  

কারখানা না খুলে, পাওনা পরিশোধ না করে শ্রমিকদের ওপর নিপীড়ন নির্যাতন শ্রমিকরা মেনে নেবে না বলে জানান নেতৃবৃন্দরা।


মন্তব্য