kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শরীয়তপুরে মোবাইল চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শরীয়তপুর প্রতিনিধি   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:১৯



শরীয়তপুরে মোবাইল চুরির অভিযোগে যুবককে পিটিয়ে হত্যা

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট সদরে মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগে ফিরোজ সরদার (২০) নামে এক যুবককে পিটিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে। আজ রবিবার ভোর রাতে গোসাইরহাট উপজেলা সদরের সুমাইয়া হোটেলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতের পরিবারের অভিযোগ, গোসাইরহাট উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি সালাম পেদা এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে।

নিহত যুবকের নাম ফিরোজ সরদার (২০)। সে উপজেলার ইদিলপুর ইউনিয়নের মিত্রসেপট্রি  গ্রামের সবুজ সরদারের এক মাত্র ছেলে।

গোসাইরহাট থানা পুলিশ জানায়, আজ রবিবার ভোর রাতে ফিরোজ সরদার (২০) কে সুমাইয়া হোটেলের সামনে মোবাইল চুরির অভিযোগে মারধর করা হয়। তাকে গণধোলাই দেওয়া হয়েছে বলে হোটেল মালিক ও গোসাইরহাট উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি আব্দুস সালাম পেদা ফিরোজের পরিবারকে খবর দেয়। খবর পেয়ে পরিবারের লোকজন ফিরোজকে উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করে। বিষয়টি জানতে পেরে পুলিশ গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে লাশটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য হোটেল মালিক আব্দুস সালাম পেদারের ছেলে বাপ্পি পেদা (২২) কে আটক করেছে পুলিশ। এদিকে এ ঘটনার পর থেকে হোটেল মালিক আব্দুস সালাম পেদা পলাতক রয়েছে।

তবে নিহতের পরিবারের অভিযোগ, হোটেল মালিক আব্দুস সালাম পেদা ফিরোজকে ডেকে নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ দিয়ে তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে। এই ঘটনায় গোসাইরহাট থানায় একটি হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

এ বিষয়ে নিহত ফিরোজের মা মাহমুদা বেগম কান্নাজরিত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে কোন অপরাধ করেনি। আমার ছেলে রং মিস্ত্রির কাজ করে। দুই দিন আগে ঢাকা থেকে বাড়ি আসে। শনিবার রাতে বাড়িতে ঘুমিয়ে ছিল। রাত ২টার সময় সালাম পেদা আমার ছেলের মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সুমাইয়া আবাসিক হোটেলে ডেকে নেয়। এর পর ভোর ৪টার পর সালাম পেদা আমার মোবাইলে ফোন দিয়ে বলে তোমার ছেলেকে নিয়ে যাও। আমি গিয়ে দেখি পাশের একটা স’ মিলের মধ্যে কাঠের গুড়ি দিয়ে আমার ছেলেকে ঢেকে রেখেছে।  আমার ফিরোজের দুই হাত, দুই পা বাধা ছিল। তার শরীরে অনেক আঘাতের চিহ্ন দেখতে পাই। আমি কিছুক্ষণ পর গোসাইরহাট উপজেলা হাসাপতালে নিয়ে গেলে ডাক্তার তাকে মৃত ঘোষণা করে। আমি খুনি সালাম পেদারের ফাঁসি চাই।
 
এ ব্যাপারে গোসাইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো: মোফাজ্জল হোসেন বলেন, ছেলেটিকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এটি গণধোলাই না পরিকল্পিত হত্যা তা তদন্ত সাপেক্ষে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনার সময় যারা উপস্থিত ছিল সবাই পলাতক রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। প্রাথমিকভাবে জিঙ্গাসাবাদের জন্য সালাম পেদার ছেলে বাপ্পি পেদাকে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।


মন্তব্য