kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সাধক ফকির লালন সাইয়ের ১২৬তম তিরোধান দিবস

কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় শুরু হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী লালন উৎসব

তারিকুল হক তারিক,কুষ্টিয়া   

১৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:০৪



কুষ্টিয়ার ছেউড়িয়ায় শুরু হয়েছে ৩ দিন ব্যাপী লালন উৎসব

 একতারা, ঢোল ও বাঁশির সুরে এখন মুখর লালনের সাধনভূমি কুষ্টিয়ার ছেঁউড়িয়া। দুর-দুরান্ত থেকে আসা বাউলরা তাদের কন্ঠে গেয়ে চলেছেন লালনের রেখে যাওয়া সব আধ্যাত্মিক গান।

তাদের সঙ্গে সুর মেলাচ্ছেন ভক্তরাও। বাউল সাধক ফকির লালন সাই এর ১২৬তম তিরোধান দিবস উপলক্ষে ছেউড়িয়ায় আজ সকালে গোষ্ট গানের মধ্যে দিয়ে শুরু হয়েছে এই উৎসব। তবে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হবে সন্ধ্যায়।

 এবারও দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে উৎসবে যোগ দিতে এসেছেন অসংখ্য বাউল, ভক্ত, গবেষক ও দর্শনার্থীরা। ভক্তদের ভীড়ে মুখর ছেঁউড়িয়ার আখড়াবাড়ীতে আপন মনে লালনের গান গেয়ে চলেছেন বাউল ফকিরেরা। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নেয়া হয়েছে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা।

 বাউল সম্রাট লালন শাহের গানের টানে বাঁধ ভাঙ্গা জোয়ারের মতো হাজার-হাজার মানুষ ছুটে আসছেন ছেঁউড়িয়ার আখড়া বাড়িতে। লালন ফকিরের আখড়া ও সামনের বিশাল মাঠ এখন ভক্ত-অনুসারী, সাধু-বাউল ও দর্শনার্থীদের পদভারে প্রকম্পিত। ছেউড়িয়ার আঁখড়া এখন পরিণত হয়েছে গুরু শিষ্যর মিলন মেলায়। প্রতি বছরের মত এবারও লালন একাডেমী ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রনালয় এই উতসবের আয়োজন করা হয়েছে। একই সাথে লালন একাডেমির বিশাল কুঠির শিল্প হস্তশিল্প ও নানা ধরনের লোভনীয় খাবারের দোকানগুলোতে পসরা সাজিয়ে বসেছেন বিক্রেতারা। আগে প্রতিবছর উতসব ও মেলা ৫ দিন  হলেও এবার হবে ৩ দিন। চলবে মংগলবার পর্যন্ত।

 লালন একাডেমির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক সেলিম হক জানান,লালন সাঁইজির দর্শন পাওয়া ও অচেনাকে চেনা, আত্মার শুদ্ধি, মুক্তি, জ্ঞাণ আহরনসহ ভক্তরা মনের বাসনা পূরণ করতে এবারও সাঁইজির ধামে ছুটে এসেছেন। লালনের বানী মনের ভিতর সঠিক ভাবে ধারণ করতে পারলেই মানুষ নিজেকে চিনতে পারবে বলে মনে করেন লালন ভক্ত অনুসারীরা। তাইতো এখানে আসা ভক্তরা গানের মধ্যে দিয়ে ফকির লালন সাইয়ের বাণি লক্ষ মানুষের মাঝে পৌঁছে দিচ্ছেন।

লালন একাডেমির সভাপতি ও কুষ্টিয়ার জেলা প্রশাসক জহির রায়হান বলছেন, এবারের ৩ দিনের উৎসবে সর্বোচ্চ সংখ্যক লোক সমাগম হয়েছে । তবে এসব নিয়ে চিন্তা নেই লালন ভক্ত-অনুসারীদের। লালনের প্রতি এক উদাসী টান ও আত্মার শান্তির জন্যই নিজেরাই দিনক্ষন ঠিক রেখে প্রতি বছর এ উৎসবে ছুটে আসেন ভক্তরা। সেই টানেই উৎসবের আনুষ্ঠানিক সমাপ্তির পরও অনেক বাউল-ভক্ত-অনুসারীরা আরো কয়েকদিন থেকে যান লালনের এই ধামে।


মন্তব্য