kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আবারও সাইবার ক্রাইমের শিকার ফায়যুর

সিলেট অফিস   

১৫ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:২৯



আবারও সাইবার ক্রাইমের শিকার ফায়যুর

দেশের বিশিষ্টজনদের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার ঘটনায় আবারও ‘বিপদে’ পড়েছেন সিলেটের মেধাবী শিক্ষার্থী ফায়যুর রহমান। এর আগে এ ধরণের ঘটনায় দুই বার ফায়যুর রহমান গ্রেপ্তার হলেও তিনি যে ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন সেটি প্রকাশ পায় হুমকির ঘটনার মূল হোতা আবদুল হককে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গ্রেপ্তার করার পর।

বর্তমানে আবদুল হক কারাগারে থাকলেও তাঁর সহযোগীরা ফায়যুর রহমানের সিম ক্লোন করে এসব করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

গত দুই দিনে জনপ্রিয় লেখক ও অধ্যাপক ড. মুহম্মদ জাফর ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী ড. ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ ও বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক শামসুজ্জামান খানসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গকে মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে হত্যার হুমকি দেওয়ার ঘটনা ঘটে। সবগুলো হুমকিই একই মোবাইল নম্বর থেকে দেওয়া হয়। এই মোবাইলটির মালিক ফায়যুর রহমান। তবে নিজের মোবাইল থেকে এ ধরনের কোনো এসএমএস তিনি দেননি দাবি করে কালের কণ্ঠকে ফায়যুর রহমান বলেন, তিনি আবারও ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন।

জানা যায়, ফায়যুর রাহমানের বাড়ি সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার গাংপার নোয়াকোট গ্রামে। মেধাবী ফায়যুর কুরআনের হাফিজ। সিলেটের একটি মাদ্রাসা থেকে আলিম পাশ করেন। সে লেখাপড়ার পাশাপাশি সিলেটের স্থানীয় দৈনিক সিলেটের ডাকে সাংবাদিকতা করেন। পাশাপাশি তিনি সাহিত্য চর্চাও করতেন। ফায়যুর ও তার সমমনা কয়েকজন মিলে ২০০৭ সালে সিলেটে ‘মুক্তস্বর’ নামের একটি ভিন্নধর্মী সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তোলেন। তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। প্রতি সপ্তাহে মুক্তস্বরের সাহিত্য আসর বসতো। মূলত মাদ্রাসা শিক্ষার্থী সাহিত্য সংস্কৃতিসেবীদের সাহিত্যের মূল ধারার নিয়ে আসাই ছিল মুক্তস্বরের উদ্দেশ্য। অন্যদিকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রকারী আবদুল হকের বাড়িও সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার একই গ্রামে।  

ফায়যুর রহমান জানান, ‘আবদুল হকের সঙ্গে তাদের পারিবারিক বিরোধ রয়েছে। সে জামায়াতের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। আমাদের ‘মুক্তস্বর’ সংগঠনটি ছিল জামায়াতের চিন্তা-চেতনার পরিপন্থী। আবদুল হক সেখানে জামায়াতি চিন্তা-চেতনা বপনের চেষ্টা করে। এ নিয়ে এক পর্যায়ে তাকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়। ফলে তার সঙ্গে বিরোধ বেড়ে যায়। এরপর থেকে মোবাইল ক্লোনিংয়ের মাধ্যমে সে আমার ফোন নাম্বার ব্যবহার করে একাধিকবার বিশিষ্ট ব্যক্তিদের হত্যার হুমকি সম্বলিত এসএমএস পাঠিয়েছে। আর এর জন্য আমাকে গ্রেপ্তার ও জেল খাটতে হয়েছে। আমার লেখাপড়া বন্ধ হবার পথে। ’

ফায়যুর বলেন, ‘এর আগেও দুই দুইবার আমি এসএমএস সন্ত্রাসের শিকার হয়েছি। বিনা অপরাধে জেল খেটেছি। ’ তিনি আরো বলেন, ‘আমি আব্দুল হকের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলার এক নম্বর সাক্ষী। সেই মামলা যখন মাননীয় সাইবার ট্রাইব্যুনালে বিচারের জন্য উঠতে যাচ্ছে, আর আমি সাক্ষী দেওয়ার জন্য যাচ্ছি, তখনই এই হুমকির ঘটনা ঘটল।

তিনি বলেন, ‘আমি দৃঢ়ভাবে জানি, আমার নাম্বার থেকে কথাও কোন ম্যাসেজ যায়নি। আগের মত প্রযুক্তি ব্যবহার কেউ আমাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে। আমার কললিস্ট তুললে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এর প্রমাণ পাবেন। ’ 

বিষয়টি লিখিতভাবে মহানগর পুলিশ কমিশনারকে আজ শনিবার জানিয়েছেন বলে জানান শিক্ষার্থী ফায়যুর রহমান। তিনি বলেন, ‘যারা আমাকে বারবার এই হেনস্তা করছে, আমি তাদের বিচার চাই। আমি এই ভোগান্তি থেকে রেহাই চাই। ’

এ ব্যাপারে সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ কমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ রহমত উল্লাহ জানান, ফায়যুর রহমানের একটি লিখিত আবেদন তারা পেয়েছেন। এতে হুমকি দেওয়া মোবাইল নম্বরটি তার জানিয়ে তিনি ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বলে উল্লেখ করেছেন। তিনি এর প্রতিকারও চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ২০১৩ সালের ১৪ জুন পুলিশের হাতে প্রথমবার গ্রেপ্তার হন ফায়যুর রহমান। এ সময় তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি অর্থমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রীসহ ছয়জন সাংসদকে হত্যার হুমকি দিয়ে তার মোবাইল থেকে এসএমএস পাঠিয়েছেন। দ্বিতীয়বার ২০১৪ সালের ৩০ জুন গ্রেপ্তার হন ফায়যুর। এবার তার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়, তিনি আইনমন্ত্রীকে এসএমএসে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তার বিরুদ্ধে তথ্য প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় সিলেট মহানগর পুলিশের বিমানবন্দর থানায় মামলা করা হয়।


মন্তব্য