kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


টেকনাফে শরণার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা

টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি    

১৪ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:৩১



টেকনাফে শরণার্থী ক্যাম্পে রোহিঙ্গাদের বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা

কক্সবাজারের টেকনাফের নয়াপাড়া রোহিঙ্গা শরণার্থী ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ক্যাম্পের অভ্যন্তরে একত্রিত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শনের চেষ্টা করে।

তবে  ক্যাম্পের দায়িত্বে থাকা বিজিবি, পুলিশ, আনসার সদস্যদের দ্রুত হস্তক্ষেপে তাদের সে চেষ্টা পণ্ড হয়ে যায়। পরে প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্যাম্পের সাতটি ব্লকের প্রতিনিধিদের নিয়ে মতবিনিময় সভায় মিলিত হন। এতে কোনো ধরনের উত্তেজনাকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয় এবং ক্যাম্পের পরিস্থিতি যাতে শান্ত থাকে- সে ব্যাপারে রোহিঙ্গা প্রতিনিধিরা ঐক্যমত পোষণ করেন।
 
সরেজমিনে জানা যায়, আজ শুক্রবার জুমার নামাজের পর ক্যাম্পের সাধারণ রোহিঙ্গারা মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে স্লোগান দিয়ে বিক্ষোভ ও নিহতদের জন্য গায়েবানা জানাজার জন্য এক স্থানে জড়ো হওয়ার চেষ্টা করে। এ সময় ক্যাম্পে নিয়োজিত বিজিবি, পুলিশ এবং আনসার সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদেরকে শান্ত করে স্ব-স্ব ব্লকে ফেরত পাঠান। পরে বিকেলে বিজিবি-পুলিশসহ প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ক্যাম্পের রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।

ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ আবুল কাসেম জানান, জুমার নামাজ শেষে তিনি মসজিদে বসেই স্লোগানের আওয়াজ পেয়ে দ্রুত এইচ ব্লক মাঠে জমায়েত হওয়া রোহিঙ্গাদের শান্ত করেন।   পরে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে খবর দেন তিনি।

বিজিবি ক্যাম্প ফাঁড়ির কমান্ডার মোজাম্মেল জানান, তিনিও দ্রুত জওয়ানদের নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। পরে রোহিঙ্গাদের স্ব-স্ব ব্লকে ফেরত পাঠান।  

এদিকে, বিকেল ৫টায় নয়াপাড়া শরণার্থী ক্যাম্প ইনচার্জ সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে  কমিউনিটি সেন্টারে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তব্য দেন কক্সবাজার অতিরিক্ত শরণার্থী ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা এস এম ফজলুল করিম চৌধুরী, টেকনাফস্থ বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লে. কর্নেল আবুজার আল জাহিদ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো.  শফিউল আলম, বিজিবি উপ-অধিনায়ক মেজর আবু রাসেল সিদ্দিকী, টেকনাফ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শেখ আশরাফুজ্জামান, শরণার্থী ক্যাম্প পুলিশ ইনচার্জ আবুল কাসেম প্রমুখ।

বিজিবি ২ ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক জানান, রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন কর্মসূচিসহ সরকারি  উদ্যোগে যাতে ব্যাঘাত না হয়- সে ব্যাপারে তাদেরকে বুঝানো হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শফিউল আলম জানান, ক্যাম্পের কিছু রোহিঙ্গা এক জায়গায় জড়ো হয়ে স্লোগান দেওয়ার সময় বিজিবি-পুলিশ-আনসার দ্রুত অগ্রসর হয়ে তাদেরকে শান্ত করে। এ ছাড়া এর পেছনে কারো ইন্ধন রয়েছে কিনা- তা খতিয়ে দেখা হবে বলে জানান তিনি।

 


মন্তব্য