kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর

ডোমারে ১০ টাকার চালে চালিয়াতি প্রমাণিত: বিতরণ স্থগিত

নীলফামারী প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:১৮



ডোমারে ১০ টাকার চালে চালিয়াতি প্রমাণিত: বিতরণ স্থগিত

নীলফামারীর ডোমারে ১০ টাকার চালে জালিয়াতির সত্যতা পেয়েছেন খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শিরিনা বেলহুর। এসময় তিনি ‘কোন অবস্থাতেই যাতে স্বচ্ছল ব্যক্তিরা ওই কর্মসূচির অর্ন্তভুক্ত হতে না পারেন’ সে বিষয়ে কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন বলে জানান সংশ্লিষ্ট জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক।

নীলফামারী জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন অভি বলেন, সরকারে খাদ্য নিরাপত্তা কর্মসূচির ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণে অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব শিরিনা বেলহুর বৃহস্পতিবার এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা, উপজেলার সকল ইউনিয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি, বিভিন্ন এলাকার উপকারভোগী এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সত্যতা পান।

পরে তিনি (উপ-সচিব) উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে সকল ইউনিয়নের কর্মসূচি বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতির উপস্থিতিতে কর্মসূচির নীতিমালা অনুসরনের পরামর্শ প্রদান করেন।

এসময় তিনি উপ-সচিবের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেন, “প্রকৃত অস্বচ্ছল পরিবার এর ভোক্তা হবেন। কোন অবস্থাতেই  স্বচ্ছলরা যাতে ওই কর্মসূচির অর্šÍভুক্ত না হন সে বিষয়ে নিদেশনা প্রদান করেন। ” পরে উপ-সচিব কর্মসূচির আওতায় এলাকার বিভিন্ন ডিলারের গুদামসহ অন্যন্য দিক পরিদর্শন করেন।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কাজী সাইফুদ্দিন অভি বলেন, “অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় চাল বিতরণ স্থগিত রাখা হয়েছে। আগামী ১৬ তারিখের মধ্যে তালিকা যাচাই বাছাই করে সংশোধনের পর পরবর্তী বরাদ্দের চাল প্রদান করা হবে। ”

গত ৬ অক্টোবর (বৃহস্পতিবার) ‘১০ টাকার চালে চালিয়াতি’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বল্প মূল্যে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে সম্পদশালীদের নাম থাকাসহ নানা অনিয়মের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের রশিদুল ইসলাম চাল কল এবং বিশাল এলাকা জুড়ে চাতাল ও আধাপাকা বাড়ির মালিক, একই গ্রামের বনমালী রায় পাকা বাড়ি, ১২ বিঘা জমি, ব্যবসা, মোটরসাইকেলের মালিক হয়েও তাদের নামে জুটেছে ১০টাকা কেজি দরের চালের।

এমন অনিয়মের চিত্র প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে খাদ্য মন্ত্রনালয়সহ উপজেলা প্রশাসন। রির্পোটের সূত্র ধরে ৬ অক্টোবর রাতে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা সরেজমিনে পরিদর্শন করে  অভিযোগের সত্যতা পান।

পরে গভীর রাতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বর্মণ বাদি হয়ে ডোমার থানায় সম্পদশালী কার্ডধারী হরিণচড়া ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের রশিদুল ইসলাম, একই গ্রামের বনমালী রায়, হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম ও তিন নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আহসান হাবীবকে আসামী করে  একটি মামলা দায়ের করেন। সরকারী সম্পদ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ আনা হয় ওই মামলায়।


মন্তব্য