kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


দুর্নীতির তদন্ত শেষ হতে না হতেই ফের দুর্নীতির অভিযোগ!

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:৫২



দুর্নীতির তদন্ত শেষ হতে না হতেই ফের দুর্নীতির অভিযোগ!

বরিশালের গৌরনদী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমানের বিরুদ্ধে মৌলিক প্রশিক্ষন কোর্সের ১০ লাখ টাকা আত্মসাতের তদন্ত শেষ হতে না হতেই ফের অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এবার ৮৯২ জন বেকার শিক্ষিত তরুণ-তরুণীর কাছ থেকে স্টাম্প ক্রয় ও ভাতা প্রদানে অফিস খরচের নামে  হাতিয়ে নিয়েছেন ৩ লক্ষ ১ হাজার ৬শত ৪০  টাকা।

ইতোমধ্যে চার দফায় দুর্নীতির তদন্ত করেছে।

ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচী প্রকল্পে সংশ্লিষ্ট ও প্রশিক্ষনপ্রাপ্তরা জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রনালয়ধীন যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উদ্যোগে শিক্ষিত বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থানের লক্ষে ন্যাশনাল সার্ভিস কর্মসূচীর আওতায় গৌরনদী উপজেলায় ৯১৯ জন শিক্ষত বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের প্রশিক্ষন দেয়া হয়। তাদের মধ্যে ৮৯২ জনকে প্রশিক্ষণ শেষে বিভিন্ন দপ্তর ও প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থানে যুক্ত করা হয়েছে।

যুব উন্নয়ন কার্যালয়ের সূত্র জানান, কর্মসংস্থানে যুক্ত হওয়া বেকার যুব মহিলা যুবকদের প্রতিমাসে ভাতার টাকা পরিশোধ করার কথা থাকলেও বরাদ্ধ সাপেক্ষে প্রদান করা হয়। ৮৯২ জনের সকলকেই জুন মাসে ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। সর্বশেষ গত ২৬ সেপ্টেম্বর ৭৫০র জনকে জুলাই ও আগষ্ট মাসের ভাতা পরিশোধ করা হয়েছে। বরাদ্দ না থাকায় ১৪২ জনকে জুলাই আগষ্ট মাসের ভাতা দেওয়া হয়নি।

সুবিধাভোগীরা জানান, প্রকল্পের শর্ত অনুযায়ী প্রত্যেককেই ৩ শত টাকার নন জুডিশিয়াল ষ্টাম্পে হলফনামা প্রদান বাধ্যতামূলক। যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রত্যেকের কাছ থেকে কাছে ষ্টাম্প ক্রয় বাবদ অতিরিক্ত টাকা আদায় করেন। ষ্টাম্প বিক্রেতারা জানান, তারা তিনশত টাকার ষ্টাম্প তিন শত ত্রিশ টাকা বিক্রি করেন।   ৪শত টাকা নিয়ে থাকলে কর্মকর্তা ৬২ হাজার ৪ শত ৪০ টাকা অতিরিক্ত আদায় করেছেন। এ ছাড়া জুন মাসে ভাতা প্রদানের সময় ৮৯২ জনের কাছ থেকে অফিস খরচ বাবত ৮৯ হাজার ২ শত টাকা ও জুলাই, আগষ্ট মাসের ভাতা প্রদানের সময়  ৭৫০ জনের কাছ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার টাকা আদায় করে মোট ২ লাখ ৩৯ হাজার ২শত টাকা আত্মসাৎ করেন।

সুবিধাভোগী যুব মহিলা রুনা আকতার, পাপিয়া আকতার, হেপি খানম, যুব পুরুষ হাবিবুর রহমান বলেন, ভাতা নেওয়ার সময় অফিস খরচের নামে আমাদের কাছ থেকে ১শত টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া ষ্টাম্পের নামে আমাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করেছে। মো. মঞ্জুরুল আলম বলেন, আমি চাঁদশী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সংযুক্ত আছি আমার বাড়ির পাশে ধানডোবা কমিউনিটি সেন্টারে যেতে চাইলে সিদ্দিকুর রহমান ১ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দেওয়ায়  আমার বদলি হয়নি কিন্তু আমার দুই বন্ধু সিদ্দিকুর রহমানকে দুই হাজার টাকা দিয়ে তারা চলে গেছে।

খাদিজা আকতার, শাহনাজ পারভিন, সাইফুল ইসলাম বলেন, দায়িত্ব পালনের মাসিক প্রত্যয়ন পত্র দেওয়া সত্বেও হাজিরায় অনুপুস্থিত দেখানোর ভয় দেখিয়ে টাকা দাবি করে না দিলে  হয়রানী করা হয়।

এ কথার সত্যতা স্বীকার করে কয়েকজন প্রতিষ্ঠান প্রধান ও উপজেলার একাধিক কর্মকর্তা  জানান, তাদের অধীনে কর্মরত সুবিধাভোগীদের দায়িত্ব পালনের মাসিক প্রত্যয়নপত্র দেওয়া হলেও যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা হাজিরা নিয়ে ঝামেলা করে থাকে।

অভিযোগের ব্যপারে যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমানের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, অভিযোগের কোন সত্যতা নেই তবে অফিসের নিম্নশ্রেনির কর্মচারীরা কিছু রাখতে পারেন। যারা দায়িত্বে ফাঁকি দেন তারাই মিথ্যা অভিযোগ করেছে।

যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের একাধিক কর্মচারীরা জানান, কর্মকর্তার দুর্নীতির বিষয়টি বরিশাল উপ-পরিচালক দপ্তর তদন্ত করে সত্যতা পেয়েছে কিন্ত তারা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে অফিসের গোপনীয়তা ফাঁস করার অপরাধে আমাদের শোকজ করেছে।

এছাড়া একাধিক গোয়েন্দা তদন্ত সম্পন্ন করেছে। তারা অভিযোগের সত্যতা পেয়েছে বলে একটি সূত্র জানান। যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের বরিশাল উপ-পরিচালক মো. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, বিভাগীয় তদন্ত শেষ করে রিপোর্ট উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে পাঠানো হয়েছে কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নিবেন। গনপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের যুগ্ম সচিব ও ন্যশসাল সার্ভিসের প্রকল্প পরিচালক আবুল হাসান খান বলেন, অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখাকে তদন্ত পূর্বক যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহনের অনুরোধ করা হয়েছে। এটি প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ প্রকল্প, অনিয়ম দুর্নীতির ব্যপারে জিরো টলায়ারেন্স দেখানো হবে তদন্ত রিপোর্ট পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অভিযোগ থাকায় ইতোমধ্যে মাঠ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য গৌরনদী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. সিদ্দিকুর রহমান প্রশিক্ষন কোর্সে চরম অনিয়ম, দুর্নীতির মাধ্যমে  প্রশিক্ষকদের পাওনা টাকা না দিয়ে এবং নামে বেনামে প্রশিক্ষক হাজিরা ও উদ্ধোধনী ও সমাপনী অনুষ্ঠানের জন্য বরাদ্দকৃত ৬৫ হাজার টাকাসহ ১০ লাখ আত্মসাত করেছেন। এ ছাড়া তিনি নিজে প্রশিক্ষকালীন তিন মাসে নিজে ৫৫২টি ক্লাস দেখিয়ে ২লাখ ৭৬ হাজার টাকা প্রশিক্ষক সম্মানী ভাতা গ্রহন করেন। এ নিয়ে সম্প্রতি বিভিন্ন পত্রিকায় একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।


মন্তব্য