kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিখোঁজের ৫ দিন পর স্কুলছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

কুমিল্লা দক্ষিণ প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২০:১০



নিখোঁজের ৫ দিন পর স্কুলছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার

নিখোঁজ হওয়ার ৫ দিন পর কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে শাহাদাত হোসেন সিফাত (১৫) নামে এক স্কুল ছাত্রের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১১ টার দিকে উপজেলার জোড্ডা ইউনিয়নের কৈরাশ গ্রামের মাহাবুবুল হকের বাড়ির পুকুর থেকে ওই ছাত্রের মাথা এবং পুকুর পাড়ের পাশেই অবস্থিত একই গ্রামের মান্নান মিয়া ও সফিক মিয়ার ধানক্ষেত থেকে তার মরদেহটি উদ্ধার করা হয়।

সিফাত ওই গ্রামের নুরুল হকের ছেলে। সে স্থানীয় জোড্ডা পাবলিক উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী।

ওই ছাত্রের পরিবার, স্থানীয় এলাকাবাসী ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার (৯ অক্টোবর) বিকেলে খেলা দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয় সিফাত। এরপর থেকেই তার সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। ওইদিন থেকে সিফাতকে তার সকল আত্মীয়-স্বজনসহ বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করে তার পরিবারের সদস্যরা। কিন্তু কোথাও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।

সর্বশেষ আজ বৃহস্পতিবার সকালে ওই গ্রামের মাহাবুবুল হকের বাড়ির পুকুরে সিফাতের কাটা মাথা দেখতে পায় স্থানীয়রা। এর কিছুক্ষণ পরেই পুকুর পাড়ের পাশেই অবস্থিত ওই গ্রামের মান্নান মিয়া ও সফিক মিয়ার ধান ক্ষেতে সিফাতের মরদেহ খুঁজে পায় এলাকাবাসী। লোকমুখে এ ঘটনার খবর পেয়ে সিফাতের পরিবারের সদস্য ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাঁর লাশ সনাক্ত করেন। পরে খবর পেয়ে নাঙ্গলকোট থানা পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে দুই স্থান থেকে ওই স্কুল ছাত্রের মাথা ও মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

সিফাতের মা হাসিনা আক্তার বিলাপ করতে করতে জানান, গত রোববার বিকালে তার ছেলে কবুতরকে খাবার দিয়ে নতুন জামা-কাপড় পড়ে খেলা দেখার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। এরপর থেকেই সে নিখোঁজ। তিনি জানান, আমরা সকল আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সকল স্থানে অনেক খুঁজেও সিফাতের কোন সন্ধান পাইনি। আর পাবোই বা কিভাবে ঘাতকেরা আমার সন্তানকে নৃশংশভাবে খুন করেছে।  

ওই স্কুল ছাত্রের বড় ভাই শাফায়েত হোসেন অভিযোগ করে বলেন, তার চাচা জাহাঙ্গীর আলম, হারুনুর রশিদ, ছালেহ আহম্মদ ও  ফুফা ইউছুফ মিয়ার পরিবারের সাথে দীর্ঘদিন ধরে জায়গা-জমি নিয়ে তাদের বিরোধ চলে আসছিলো। গত প্রায় ২০ দিন আগেও তাদের সাথে জমি নিয়ে আমাদের কথা কাটা-কাটি হয়। কথা কাটা-কাটির এক পর্যায়ে তার আমাদের হুমকি দিয়ে বলেন, জমিতে গেলে আমাদের লাশ ফেলে দিবো। শাফায়েত হোসেনের ধারণা, জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তার চাচারাই সিফাততে হত্যা করে এভাবে লাশ ফেলে গেছে।

তবে এসব অভিযোগকে মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করে অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম, ছালেহ আহম্মদ ও হারুনুর রশিদ বলেন, বৃহস্পতিবার সকালে আমরা সিফাতের মৃত্যুর খবর পাই। এতে আমরাও শোকাহত।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে নাঙ্গলকোট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.আইয়ূব জানান, আজ সকালে এ ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ওই ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিক্যাল কলেজ (কুমেক)  হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করেছে। তিনি জানান, এ ঘটনায় এখনও আজ বিকেল পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার বা আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান তিনি।


মন্তব্য