kalerkantho

মঙ্গলবার। ২১ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ৯ ফাল্গুন ১৪২৩। ২৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৩৮।


‘খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কারসাজি’

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর সঠিক ওজনে চাল বিতরণ

দাউদকান্দি (কুমিল্লা ) প্রতিনিধি   

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:২১



কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর সঠিক ওজনে চাল বিতরণ

গত ১২ অক্টোবর ‘খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কারসাজি’ শিরোনামে কালের কণ্ঠের প্রিন্ট সংস্করণে সংবাদ প্রকাশের পর হতদরিদ্রের জন্য ১০টাকা কেজি চালের ডিলাদের জন্য বরাদ্দে দেওয়া প্রতিবস্তা ৫০ কেজি চালের মধ্যে ওজনে ৪৬ কেজি কম দেওয়া অভিযোগের পর তদন্ত টিম গঠন করা হয়েছে। আজ বৃহস্পতিবার তদন্ত টিমের সদস্যরা সাংবাদিক, চেয়ারম্যান ও ডিলাদের উপস্থিতিতে সরকারী ভাবে বরাদ্দকৃত প্রতিবস্তায় ৫০ কেজি ওজনের চাল স্কেলে মেপে দেওয়া শুরু করেছেন।

তদন্ত টিমের প্রধান আবদুর রউফ বিভিন্ন ডিলার ও চেয়ারম্যানের এবং সাংবাদিকদের নিয়ে গুদাম ঘরে নিয়ে যান। এসময় ৩টি গুদাম ঘরে ১৫/২০টি চালের বস্তা স্কেলে ওজন করেন। ডিলারদের মাঝে ৫০ কেজি ওজন করা চালের বস্তা বুঝিয়ে দেন। এসময় তদন্ত টিমের প্রধান কয়েকজন ডিলারের সাথে কথা বলেন।

এসময় ডিলাররা বলেন, প্রথম বরাদ্দের সময় চাল ওজনের কম পেয়েছি। কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশের পর সঠিক ওজনের চাল পাচ্ছি। আমরাও হতদরিদ্রের মাঝে সঠিক পরিমাণ চাল দিতে পারবো।

মরুকা ইউনিয়নের ডিলার আমির হোসেন বলেন, প্রথম বরাদ্দের সময় ওজনে কিছু কম হলেও বর্তমান বরাদ্দে সঠিক ওজনে ৫০ কেজি প্রতি বস্তায় চাল পাচ্ছি।

পদুয়া ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান বাবুল তালুকদার বলেন, প্রথম বরাদ্দের সময় ওজন ছাড়াই চাল গাড়িতে তুলে দিত। আজ গুদামের কর্মকর্তা উপস্থিতিতে স্কেলে ওজন করে শ্রমিকরা গাড়িতে তুলা দিচ্ছে। এ ভাবে সঠিক ওজনে চাল পাওয়া গেলে ডিলারদের চাল বিতরণে কোন সমাস্যা হবেনা।

দাউদকান্দি খাদ্য  গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সোহাগ বলেন, প্রথম বরাদ্দে আমরা ডিলাদেরকে ওজন করে নিতে বলেছিলাম। তারা কার আগে কে চাল নেবে এই কাড়াকাড়িকরে ৫০ কেজি ওজনের বস্তা গণনা করে গাড়ি ভরে নিয়ে গেছে। তবে গুদাম ঘরে কিছু বস্তা ছেঁড়া-ফাটা থাকায় চাল পড়ে যাওয়ায় ২/১টি বস্তায় চউল কম হতে পারে। ডিলাররা চাল নেওয়ার পর কম পাওয়ার অভিযোগ করলে তা জন্য আমরা দায়ী নয়।

তদন্ত টিমের প্রধান মোঃ আবদুল রউফ বলেন, সরকার হতদরিদ্রের জন্য ১০ টাকা কেজি চাল সঠিক ভাবে দেওয়ার জন্য উপর থেকে আমাদেরকে নির্দেশ দিয়েছেন। পত্রিকার খবর পেয়ে ডিসি সাহেব আমাকে তদন্তের জন্য পাঠিয়েছেন। ডিলাররা যাতে প্রতি বস্তায় ৫০ কেজি চাল পায় তা নিশ্চিত করছি এবং তা আপনাদের সামনে ওজন করে দেখিয়েছি। প্রথম বরাদ্দে যদি কম দিয়ে থাকে তাহলেও তদন্ত পূর্বক ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।


মন্তব্য