kalerkantho


ধামরাইয়ে দুই মাসেও উদঘাটন হয়নি জোড়া খুনের রহস্য

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

১৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১০:৪৩



ধামরাইয়ে দুই মাসেও উদঘাটন হয়নি জোড়া খুনের রহস্য

ঢাকার ধামরাইয়ে প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও জোড়া খুনের রহস্য বা আসামিদের শনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে শুধুমাত্র মাদকাসক্ত চারজন ও এক গাড়িচালককে আটক করা ছাড়া কোন অগ্রগতি নেই এ মামলায়।

মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছেন। মামলার বাদী নিহতদের বড় ছেলে বিএনপি নেতা স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য ও ইটভাটার মালিক ফটোমিয়া।

উপজেলার সূতিপাড়া ইউনিয়নের বালিথা গ্রামের ফটোমিয়ার বাবা ফালুজ উদ্দিন বেপারী (৮৮) ও মা রজ্জভানু (৭৮) প্রতিদিনের ন্যায় রাতের খাবার খেয়ে গত ২৪ আগস্ট রাতে নিজ ঘরে ঘুমিয়ে পড়েন। পরদিন সকালে তাদের সাড়াশব্দ না পেয়ে নিহতদের ভাড়াটিয়া স্থানীয় গার্মেন্টকর্মী রত্না বেগম বারান্দার ফটক ও ঘরের দরজা খোলা পেয়ে ভেতরে গিয়ে ফালুজ উদ্দিনের রক্তাক্ত দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। এ ছাড়া ফালুজ উদ্দিনের মা রজ্জভানুকে মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়। ফালুজ উদ্দিনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে আইসিইউতে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ দিন পর মারা যান তিনি।

ওই ঘটনায় জড়িত সন্দেহে ঘটনার দিন ফালুজ উদ্দিনের মেয়ের ঘরের নাতি বাথুলি গ্রামের আবুল হোসেনের ছেলে মাদকাসক্ত জুয়েল হোসেনকে আটক করে রিমান্ডে নেয় পুলিশ। পরে আরো তিন মাদকাসক্ত কালামপুর গ্রামের টুকুর ছেলে টুটুল, বাথুলি গ্রামের সুমন এবং লাভলুকে আটক করে পুলিশ। তাদেরও রিমান্ডে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। কিন্তু কোনো তথ্য উদঘাটন করতে পারেননি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ধামরাই থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) দীপক চন্দ্র সাহা।

বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের এসআই রেজাউল করিম। তিনি গত বুধবার মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার গুড়খি গ্রামের কাজল হোসেন নামের একজনকে আটক করেন। কাজল নিহতদের ছোট ছেলে ইটভাটার মালিক রফিকুল ইসলাম নপুর মাইক্রোচালক। যে কক্ষে দম্পতি খুন হয়েছেন ঠিক তার পাশের কক্ষেই খুন হওয়ার একমাস আগে ভাড়াটিয়ে হিসেবে আসেন কাজল। তার স্ত্রী ও দু‌ই মেয়ে রয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা রেজাউল করিম আজ বৃহস্পতিবার বলেন, "আমার তদন্তকালে কাজল নামের একজনকে আটক করা হয়েছে। তবে এখনো কোনো রহস্য উদঘাটন করা যায়নি। রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের শনাক্তের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। " এদিকে, প্রায় দুই মাস পেরিয়ে গেলেও খুনের রহস্য ও খুনিদের শনাক্ত করতে না পারায় হতাশা ব্যক্ত করেছেন মামলার বাদী নিহতদের বড় ছেলে ফটোমিয়া। পুলিশের কাছে তিনি আন্তরিকতা ও দ্রুততার সাথে খুনের রহস্য উদঘাটন ও খুনিদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

 


মন্তব্য