kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের কর্মসূচি শুরু

চাঁদপুর প্রতিনিধি    

১২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:১৪



মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের কর্মসূচি শুরু

মা ইলিশ রক্ষায় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনাসহ দক্ষিণের ইলিশ বিচরণের নদীসহ সাগরে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি শুরু হয়েছে। আজ বুধবার ভোর থেকে কোস্টগার্ড, নৌপুলিশ এবং জেলা প্রশাসনের টাস্কফোর্স নদীতে টহল ও অভিযান শুরু করে।

এ সময় চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনার কোথাও মাছ ধরার নৌকা চোখে পড়েনি। চাঁদপুরের প্রধান মাছের আড়ত বড়স্টেশনসহ নদীপাড়ের মাছের আড়তও বন্ধ রয়েছে।

কোস্টগার্ডের স্টেশন কমান্ডার আতাহার আলী জানান, চাঁদপুরের উত্তরের ষাটনল থেকে দক্ষিণে বরিশালের হিজলা পর্যন্ত নদীর ১২০ কিলোমিটারের মধ্যে বেশ কয়েকটি টহলদল কাজ করছে। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট কানিজ ফাতেমা জানান, মা ইলিশ রক্ষায় জেলেদের নিবৃত্ত করতে একাধিক ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। জেলা প্রশাসক আব্দুস সবুর মণ্ডল জানান, এই ২২ দিন নদীতে মাছ ধরা থেকে বিরত থাকার জন্য ৪২ হাজার জেলেকে মাথাপিছু ২০ কেজি হারে চাল দেওয়া হবে। এর মধ্যে রয়েছে মতলব উত্তর ও দক্ষিণ, চাঁদপুর সদর এবং হাইমচর উপজেলার নদীপাড়ের জেলেরা। তিনি আরো জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে সহায়তার চাল বিতরণ করা হবে। বেশ কিছু জেলেপল্লী ঘুরে দেখা গেছে, জাল বুনেই অনেকে সময় পার করছেন।

চাঁদপুর মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট নদীকেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও ইলিশ গবেষক ড. আনিসুর রহমান জানান, ভরা পূর্ণিমার এই সময় মা ইলিশ মিঠা পানিতে ডিম ছাড়ে। ফলে সাগর থেকে ছুটে আসা ইলিশের ঝাঁক নদীতে ছুটে আসে। তাই নদীতে ইলিশের ঝাঁক নিরাপদে বিচরণ করার পরিবেশ প্রয়োজন। তিনি আরো জানান, পরিপূর্ণ একেকটি মা ইলিশের পেটে ২০ লাখ ডিমের সমাহার। পেট থেকে এই ডিম ছাড়ার পরই তা জাটকা ইলিশের পরিণত হয়। এই ইলিশ গবেষক আরো জানান, গতবছর সরকারি কঠোর নজরদারির কারণে ইলিশের উৎপাদন বেড়েছে। তখনকার হিসেবে উৎপাদন তিন লাখ ৮৫ হাজার মেট্রিকটন থেকে এবার তা বেড়ে পাঁচ লাখ মেট্রিকটন ছাড়িয়ে যাবে।     

চাঁদপুর মৎস্য বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের সভাপতি মিজানুর রহমান কালু জানান, দীর্ঘ ১২ বছর পর ভরা মৌসুমে ইলিশ প্রাচুর্যের কারণে প্রতিদিন শহরের প্রধান মাছের আড়ত বড়স্টেশনে আড়াই হাজার থেকে তিন হাজার মণ ইলিশ বেচাকেনা হয়েছে। এতে প্রতিদিন আর্থিক লেনদেন হয়েছে ৫-৭ কোটি টাকা। গত দেড় মাস ধরে এমন মোটা অঙ্কের টাকার লেনদেন হয়েছে বলে এই মৎস্য ব্যবসায়ী নেতা স্বীকার করেন।

প্রসঙ্গত, আজ ১২ অক্টোবর থেকে আগামী ২ নভেম্বর পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় ইলিশ ধরা, বিক্রয়, পরিবহন এবং মজুদ নিষিদ্ধ করেছে সরকার।

 


মন্তব্য