kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ হোস্টেলে ছাত্রলীগ নেতার 'টর্চার সেল'

কালের কণ্ঠ অনলাইন   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ২২:১২



কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজ হোস্টেলে ছাত্রলীগ নেতার 'টর্চার সেল'

কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজে এক ছাত্রলীগ নেতা কলেজ হোস্টেলে ‘টর্চার সেল' খুলে সেখানে তার সিদ্ধান্তের বিরোধীতাকারীদের ওপর নির্মম নির্যাতন চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বশির উল্লাহ নামের এই ছাত্রলীগ নেতা কলেজের কবি কাজী নজরুল ইসলাম হলের আহবায়ক।

শুধু সাধারণ ছাত্রই নয় তার হাত থেকে সাংবাদিক, ছাত্রদল এমনকী নিজের দলের কর্মীরাও রেহাই পান না।   বিরোধীতা করলেই তার টর্চার সেলে নিয়ে এসে চালানো হয় নির্যাতন।   বশির উল্লাহ'র ছাত্রত্ব না থাকলেও সে কলেজ হোস্টেলে অবস্থান করে এইসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন।   শুধু টর্চার সেলেই নয় যপখন কাউকে মারধর করার প্রয়োজন পড়ে হাতের কাছে যা পান তাই দিয়ে মারধর করে এমনকী বেঞ্চ ভেঙে তার পা দিয়ে আঘাত করতে শুরু করেন।   ওই কথিত ‘টর্চার সেলে’ তিনি ছাত্রদের মারাধরের জন্য জালি বেত কিনে এনেছেন।

এমন অভিযোগ নিয়ে কলেজ অধ্যক্ষের নিকট অভিযোগ করে শিক্ষার্থীরা।   ম্যানেজমেন্ট-এর চতুর্থ বর্ষের ছাত্র মাহফুজুল ইসলাম জিকো বলেন, গত ৩ অক্টোবর সাইফুল ইসলাম নামের এক ছাত্র তাকে সামান্য ঘটনায় হোস্টেলের ২৬০ নম্বর রুমে তুলে নিয়ে যায়।   আমাকে ছেড়ে দিতে বললেও বশির ও তার সহযোগী যুগ্ম আহবায়ক সাব্বির আহমেদ,   , সদস্য শহীদুল ইসলাম শাহীন, বেনী আমিন সুমন, তৌহিদ, তানভীর, আনোয়ারসহ অন্যান্যরা তাকে বেদম মারধর করে। কিছুদিন আগে ব্যবস্থাপনা বিভাগ ৩য় বর্ষের হিরণকে খাবার খাওয়া অবস্থা থেকে তুলে নিয়ে জালি বেত দিয়ে পেটানো হয়। তারপর তার কাছ থেকে ২১শ’ টাকা ‘জরিমানা’ নিয়ে নিজেরা ভাগ করে নেয়।

বিভিন্ন সূত্রে আরও জানা গেছে, ৭ জুন ব্যবস্থাপনা বিভাগ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক জহিরুল ইসলাম জুয়েলকে বেঞ্চের পায়া দিয়ে পেটানো হয়। হলের সোহেল, আরিফ, সৌরভ, জাহিদকে তুচ্ছ ঘটনায় মারধর করে ব শির। এছাড়া ২৪ আগস্ট ভিক্টোরিয়া কলেজ সাংবাদিক সমিতির সভাপতি তৈয়বুর রহমান সোহেলকে লাঞ্ছিত করে বশির। হলের ৪ শতাধিক ছাত্র তার উৎপাতে অতিষ্ট বলে সাধারণ ছাত্রদের অভিযোগ। তার বিরুদ্ধে সিট বাণিজ্যের অভিযোগও রয়েছে।
এদিকে কলেজ ছাত্রলীগের একাধিক নেতা জানান, এক বছর আগে বশির হল ছাত্রদলের যুগ্ম আহবায়ক ছিল। ছাত্রলীগে এসেই সে বেপরোয়া হয়ে উঠে।

এসব অভিযোগ বিষয়ে জানতে চাইলে বশির উল্লাহ বলেন, তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। ‘বেয়াদবি’ করায় তিনি জিকোকে শাস্তি দিয়েছেন। সংগঠনের বড় ভাই হিসেবে তিনি সেটা করার অধিকার রাখেন বলেও মন্তব্য করেন। ভিক্টোরিয়া কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি কাজী সায়েম বলেন, “এটা বড় কোনও ঘটনা নয়। নিজেদের মধ্যে ‘গ্যাঞ্জাম’ হয়েছে। হলের কমিটি ভেঙ্গে দেওয়া হয়েছে। বশিরকে কমিটি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। ”

এ বিষয়ে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মো. আবদুর রশীদ বলেন, বশিরের বিরুদ্ধে অনেক অভিযোগ পেয়েছি। ছাত্ররাও একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। হল সুপারকে বিষয়টি তদন্ত করে দেখার জন্য বলা হয়েছে।


মন্তব্য