kalerkantho


সাভারে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবক খুন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:০১



সাভারে পাওনা টাকা চাওয়ায় যুবক খুন

সাভারে এক যুবককে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে। পাওনা টাকা চাওয়ায় তাকে নির্মম ভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল সোমবার দিবাগত রাত ১১টার দিকে সাভারের তেতুঁলঝোড়া ইউনিয়নের ভড়ারি গ্রামের বালুর মাঠ এলাকার আসলাম মিয়ার বাড়িতে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। হত্যাকারী অভিযোগে বাড়ির মালিক আসলাম মিয়া ও তার স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

নিহত যুবকের নাম এরশাদুজ্জামান রুবেল (২৭)। তিনি ঢাকার কেরানীগঞ্জ উপজেলার লঙ্গারচর গ্রামের সাদেক আলীর ছেলে। সে সাভারের ভড়ারি এলাকায় আছিমুদ্দিন নামের এক ব্যক্তির বাড়িতে একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে স্ত্রী ও সন্তানসহ বসবাস করতেন।

নিহতের স্ত্রী ফারজানা বেগম বলেন, আসলামের বাড়ির ভাড়াটিয়া পোশাক শ্রমিক দুই ভাই মইনুল ও হানিফের কাছে দুই হাজার টাকা পাবে বলে তার স্বামী রুবেল সোমবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে বাসা থেকে বের হয়। পরে তিনি জানতে পারেন, পাওনা টাকার বিষয় নিয়ে মইনুল ও হানিফের সাথে রুবেলের কথা কাটাকাটি হয়েছে। বিষয়টি তখনই স্থানীয়রা সমাধা করে দেয়।

ফারজানা বলেন, রাত ১০টার দিকে মইনুল ও হানিফের বাড়ির মালিক আসলাম তার স্বামী রুবেলকে ফোন করে তার বাড়িতে যেতে বলেন। পরে তার বাড়িতে গেলে আসলামের সহযোগিতায় মইনুলদের কক্ষেই মইনুল ও হানিফ তার স্বামীকে লাঠি দিয়ে পিটুনি ও পরে বটি দিয়ে কুপিয়ে অচেতন অবস্থায় ফেলে রেখে পালিয়ে যায়। তখন স্থানীয়রা রুবেলকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। যে কক্ষে হত্যাকাণ্ড ঘটেছে সেখান থেকে পুলিশ নমুনা সংগ্রহ করেছে।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সাভার সার্কেল সহকারী পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান বলেন, রুবেলের শরীরে ধারালো অস্ত্রের সাহায্যে কোপানোর চিহ্ন রয়েছে। ওই যুবককে কুপিয়ে হত্যা করার পর তার নামে সাভার মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়রি (জিডি) করতে আসেন বাড়ির মালিক আসলাম মিয়া। পরে পুলিশের সন্দেহ হলে প্রথমে আসলাম মিয়াকে ও পরে তার স্ত্রী সুফিয়া বেগমকে আটক করে। এ ঘটনার সাথে জাড়িত অন্যান্যদেরও আটকের চেষ্টা চলছে।  

সহকারী পুলিশ সুপার আরো বলেন, পুলিশ প্রাথমিকভাবে লিটন ও মইনুলের পরিচয় পেয়েছে। তারা দুজনে মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ থানার চৈত্রঘাট এলাকার খুরশেদ মিয়ার ছেলে।


মন্তব্য