kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আজ শুরু হচ্ছে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান

জসীম পারভেজ, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)    

১১ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:২৩



আজ শুরু হচ্ছে মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান

মা ইলিশ ও জাটকা সংরক্ষণ অভিযানে গতবছর মৎস্য বিভাগ, নৌবাহিনী, কোস্টগার্ডের যৌথ অভিযান ছিল আত্মবিশ্বাসীমূলক কষ্ট-ক্লেশের। আজ ১২ নভেম্বর শুরু হয়েছে ইলিশ উৎপাদনের ধারাবহিকতা রক্ষা ও সাফল্যের চ্যালেঞ্জ।

মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযানের মাধ্যমে বিগত বছরের চার লাখ মেট্রিকটনের অধিক ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির চ্যালেঞ্জ নিয়ে সফলতা অর্জনে আত্মবিশ্বাসী হয়ে কালের কণ্ঠকে এ কথাগুলো বলেন পটুয়াখালী কলাপাড়া উপজেলা জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম।

কামরুল ইসলাম আরো বলেন, "১১ অক্টোবর রাত ১২টার পর থেকে ২২ দিন সমগ্র দেশের নদ-নদীর মতোই ইলিশ প্রজননক্ষেত্র পটুয়াখালীর কলাপাড়ার আন্ধারমানিক নদ, রাবনাবাদ নদ, সমুদ্র মোহনাসহ আশপাশের নদ-নদীতে ডিমওয়ালা ইলিশ মাছ ধরা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করেছে বাংলাদেশ সরকার। ‌এ কারণে এ বছর অবরোধ শুরুর আগেই উপজেলা মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে গত এক সপ্তাহ ধরে জেলে পল্লীতে গিয়ে জেলেদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে সভা করা হয়েছে। ইলিশ প্রজনন ক্ষেত্রে ইলিশ শিকার রোধের অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতামূলক র‍্যালি, মাইকিং করা হয়েছে। সচেতনতা অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এরপরই ১ নভেম্বর থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সমুদ্র, নদ-নদীতে জাটকা ইলিশ সংরক্ষণের জন্য অভিযান শুরু হবে। "

কামরুল ইসলাম আরো বলেন, "গতবছর মা ইলিশ সংরক্ষণ এবং জাটকা সংরক্ষণ যৌথ অভিযানে ৯০ হাজার মিটার বেহুন্দি জাল আটক করা হয়েছে। যার মূল্য ছিল এক কোটি আট লাখ টাকা। ২৪ কোটি টাকা মূল্যের ৮০ লাখ মিটার কারেন্ট জাল আটক করে পুড়িয়ে ফেলা হয়েছে। একইসঙ্গে গতবছর জানুয়ারি মাসে ইলিশ সংরক্ষণের লক্ষ্যে টানা আট দিন ইলিশের উৎসস্থল আন্ধারমানিক নদ, রাবনাবাদ নদ, সাগর মোহনা, আগুনমোখা নদ, চালিতাবুনিয়া নদসহ রাঙ্গাবালী, চরমোন্তাজ এলাকার নদ-নদীতে যৌথবাহিনীর চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ২০০টি অবৈধ কারেন্ট জালসহ অন্যান্য জাল আটক করে পুড়িয়ে ফেলা হয়। একইসঙ্গে আটক করা হয় ১৯ জেলেকে। ইলিশ শিকার বন্ধের জন্য কলাপাড়া উপজেলার এক হাজার ৭৩৪ জেলের মধ্যে হতদরিদ্র এবং অস্বচ্ছল ছয় হাজার ৯৫ জেলেকে চার মাস প্রত্যেককে প্রতি মাসে ৪০ কেজি করে চাল খাদ্য সহায়তা হিসেবে দেওয়া হয়েছিল। গতবছর বাংলাদেশে ইলিশ মাছে উৎপাদন ছিল চার লাখ মেট্রিকটন। এ বছর যৌথ অভিযানসহ সরকারের নানাবিধ পদক্ষেপের জন্য চার লাখের অধিক ইলিশ উৎপাদন হয়েছে বলে মৎস্য বিভাগসহ সব শ্রেণির মানুষের বিশ্বাস। "  

আলীপুরের মৎস্যট্রলার মালিক মো. আনছার মোল্লা কালের কণ্ঠকে বলেন, "গতবছর মা ইলিশ এবং জাটকা ইলিশ শিকারে জেলেরা সচেতন হওয়ায় এ বছর ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে। সামান্য সময়ের জন্য মা ইলিশ ও জাটকা শিকার বন্ধ রাখা হলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়- এটা এখন জেলেদের বিশ্বাস হয়েছে। তবে আমার ধারণা যারা সচেতন তারা মা ইলিশ ও জাটকা শিকার করবে না। যারা করবে তারা আইনের আওতায় দণ্ডিত হবে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

এ ব্যাপারে কলাপাড়া কোস্টগার্ড এর চিফ প্যাডি অফিসার এম এ আলিম কালের কণ্ঠকে বলেন, "মা ইলিশ এবং জাটকা সংরক্ষণের অভিযানে এ বছর আরো কঠোর হয়েছি। ইলিশ রক্ষায় আন্ধারমানিক নদ, রাবনাবাদ নদ, সাগর মোহনা, আগুনমোখা নদ, নিদ্রা সখিনা, চালিতাবুনিয়া নদসহ রাঙ্গাবালী, চরমোন্তাজ এলাকার নদ-নদীতে কোনো প্রকার জাল ফেলা যাবে না। যৌথবাহিনীর দিন-রাত নিরবচ্ছিন্ন অভিযানের জন্য টহলদল বৃদ্ধি করা হয়েছে। কোনো প্রকার ছাড় দেওয়া হবে না। " 


মন্তব্য