kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


তরুণীর ওপর হামলার ঘটনায় এবার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি   

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:২৮



তরুণীর ওপর হামলার ঘটনায় এবার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে মামলা

লক্ষ্মীপুরে ফারহানা আক্তারের (৩২) ওপর হামলার ঘটনায় এবার নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল রবিবার সদর থানায় দায়ের করা মামলায় অসন্তুষ্টি প্রকাশ করে আজ সোমবার দুপুরে ওই তরুণী বাদী হয়ে এ মামলা করেন।

এতে বিএমএ জেলা সভাপতি ও জেলা পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের উপ-পরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডাক্তার আশফাকুর রহমান মামুনকে প্রধান করে অজ্ঞাতনামা আরো তিনজনকে আসামি করা হয়। নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনাল আদালতের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) ড. এ কে এম আবুল কাশেম মামলাটি আমলে নিয়ে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো: মোশারফ হোসেনকে ঘটনার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সেভ দ্যা চিলড্রেনের মা মনি প্রকল্পে চাকরি করার সুবাধে ফারহানা আক্তারের সাথে ডাক্তার মামুনের পরিচয় হয়। এক পর্যায়ে ফারহানার সাথে শারিরীক সম্পর্ক করার প্রস্তাবে রাজি না হলে বিয়ের প্রস্তাব দেয় মামুন। এতে রাজি না হলে ফারহানাকে চাকরি করতে না দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। এক পর্যায়ে বিয়ে করার আশ্বাসে মামুন ঢাকার তিতুমীর কলেজের সম্মুখ হোটেল অবকাশে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। পরে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে গত বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি সিলেটে নিয়ে যায়। সেখানে সুরমা ভ্যালী রেস্ট হাউজে মামুনের নামে রুম ভাড়া নিয়ে সেখানেও ধর্ষণ করা হয়। এরপরে ২৭ ফেব্রয়ারি ডাক্তার ইমামুল, কাজী ও দুই স্বাক্ষীর উপস্থিতিতে ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরে মামুন তাকে বিয়ে হয়। কিন্তু বিয়ের মিথ্যা নাটক সাজিয়ে লক্ষ্মীপুরে ফিরে ৩ মাস ধরে ফারহানাকে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়।
এ বিষয়টি লক্ষ্মীপুরে জানাজানি হলে চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঢাকায় চলে যেতে বলা হয় ফারহানাকে। এক পর্যায়ে কাবিননামা চাইলে বিয়ের বিষয়ে তিনি অস্বীকার করেন। এ সময় তাকে খুন ও জখমের হুমকি দেওয়া হয়। তিনি (ফারহানা) চাকরিরত অবস্থায় বাংলাদেশ উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাউবি) অধিনে লক্ষ্মীপুর মহিলা কলেজে ডিগ্রীতে ভর্তি হয়। পরীক্ষা দেওয়ার জন্য ৬ অক্টোবর রাতে লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের শাখারীপাড়ায় সহকর্মী সবিতার বাসায় আসেন তিনি। ৭ অক্টোবর পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ শেষে ৮ অক্টোবর সন্ধ্যায় ঢাকা যাওয়ার জন্য বাস টার্মিনালে টিকেটের জন্য যান ফারহানা। টিকেট না পেয়ে ওই বাসায় ফেরার সময় শাখারীপাড়াস্থ ছোট ব্রীজের নিকট রিকশা থেকে নেমে হেঁটে বাসায় যাওয়ার সময় ডাক্তার আশফাকুর রহমান মামুন ও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন তার ওপর হামলা চালায়। এ সময় মামুন সিজার অপারেশনের ছোরা দিয়ে ফারহানার নাভীর নিচে ও বুকে আঘাত করে তাকে রক্তাক্ত জখম করে। পরে স্থানীয় লোকজন ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করে। এ ঘটনায় গতকাল রবিবার সন্ধ্যায় 
লক্ষ্মীপুর সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এ বিষয়ে ফারহানা অভিযোগ করে বলেন, তার দেওয়া এজাহার না নিয়ে পুলিশ নিজেদের মনগড়া এজাহার করতে তাকে বাধ্য করেন। দুপুর ২টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত তাকে থানায় বসিয়ে রাখা হয়। পুলিশের প্রতি আস্থা রাখতে না পেরে অবশেষে ট্রাইব্যুনালের শরানাপন্ন হন।

ভিকটিমের আইনজীবী জহুর আহমদ চৌধুরী জানান, ফারহানা বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইব্যুনালে একটি মামলা করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে জুডিশিয়াল তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।


মন্তব্য