kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ভোলায় মৎস্য অফিস আছে, নেই কর্মকর্তা-কর্মচারী

শিমুল চৌধুরী, ভোলা    

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:১০



ভোলায় মৎস্য অফিস আছে, নেই কর্মকর্তা-কর্মচারী

আজ সোমবার বেলা সোয়া ১২টা। ভোলা জেলা মৎস্য ভবনে জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায় কর্মকর্তা-কর্মচারী শূন্য।

ভবনের নিচতলায় একটি কক্ষের ওপরে ইকোফিশ অফিসের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রাখা হলেও কক্ষটি তালাবদ্ধ। পাশের কক্ষটিও তালাবদ্ধ। স্টোর রুমটি খোলা থাকলেও সেখানে কাউকে দেখা যায়নি।

ভবনের দোতলায় জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয়টিও তালাবদ্ধ। দোতলার অন্তত ছয়টি কক্ষের মধ্যে সবকয়টিও কক্ষই তালাবদ্ধ দেখা গেছে। তৃতীয় তলায় কয়েকটি বিশ্রামাগার কক্ষ খোলা থাকলেও সেখানেও কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দেখা যায়নি। ভবনের ছাদে গিয়েও কাউকে দেখা যায়নি। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তৃতীয় তলার ওই ভবন থেকে বের হওয়ার সময় মধ্য বয়সী এক নারীকে অফিসে ঢুকতে দেখা যায়। পরিচয় জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, "আমার নাম মাকসুদা বেগম। আমি এই অফিসের একজন ঝাড়ুদার। " অফিসের অন্য কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে জানতে চাইলে মাকসুদা বলেন, "জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম অফিসের কাজে মনপুরায় গেছেন। আসবেন আজ সন্ধ্যায়। অন্য স্যারেরা হয়তো অফিসের কাছাকাছি আছেন। "  

পাঁচ মিনিট পর হাতে বাজারের ব্যাগ নিয়ে বাজার করে অফিসে আসেন নৈশপ্রহরী সুজন। তিনি বাংলাদেশ মেরিন ফিশারিজ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং প্রকল্প থেকে এ ভোলা জেলা মৎস্য  অফিসের নৈশ প্রহরী হিসেবে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। এর পাঁচ মিনিট পর ১২টা ৪০ মিনিটে অফিসে আসেন অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম। তিনি বোরহানউদ্দিন উপজেলা মৎস্য অফিসের অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত। তাকে জেলা অফিসের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন।

অফিস সহকারী নুরুল ইসলাম বলেন, "জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মনপুরায় গেছেন। আর অফিসে দীর্ঘদিন ধরে জনবল সংকট রয়েছে। " তিনি আরো বলেন, "জেলা মৎস্য অফিসে ১০টি পদের মধ্যে ছয়টি পদই শূন্য রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। লাখ লাখ টাকা ব্যয় করে সম্প্রতি জেলা মৎস্য কর্মকর্তার কার্যালয় মেরামত, এসি স্থাপনসহ এ অফিসের উন্নয়ন হলেও জনবলের কোনো উন্নয়ন হয়নি। "

অথচ আগামীকাল ১২ অক্টোবর বুধবার থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২০ দিন ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান শুরু হচ্ছে। এ জনবল দিয়ে কীভাবে অভিযান করা হবে- তা নিয়েও শঙ্কিত খোদ মৎস্য অফিসের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।    

জনবল সংকটের কথা স্বীকার করে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা রেজাউল করিম কালের কণ্ঠকে বলেন, "দীর্ঘদিন ধরেই এ অফিসে জনবল সংকট রয়েছে। এখানে কর্মকর্তা বলতে আমি একাই রয়েছি। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বহুবার চিঠি দিলেও কোনো  কাজ হয়েনি। তবে, জেলা অফিসে অতিরিক্ত দায়িত্ব হিসেবে দুইজনকে দেওয়া হয়েছে। আরো কয়েকজনকে দেওয়া হবে। উপজেলা অফিসেও জনবল সংকট রয়েছে। সেখানেও কর্মকর্তা-কর্মচারী দেওয়া হবে। এভাবে জোরাতালি দিয়েই আগামী অভিযান পরিচালনা করতে হবে। কি আর করার। "


মন্তব্য