kalerkantho

সোমবার । ৫ ডিসেম্বর ২০১৬। ২১ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৪ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে কর্মসূচি

ধামরাই (ঢাকা) প্রতিনিধি    

১০ অক্টোবর, ২০১৬ ১৪:১৪



আওয়ামী লীগ নেতার কাছ থেকে খেলার মাঠ দখলমুক্ত করতে কর্মসূচি

ঢাকার ধামরাইয়ে এক আওয়ামী লীগ নেতা এলাকাবাসীর খেলার মাঠ দখল করে সেখানে ধান বুনেছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।

মাঠটি দখলমুক্ত করতে গতকাল রবিবার এলাকাবাসী মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

এলাকাবাসী জানায়, ধামরাইয়ের রোয়াইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও একই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সভাপতি এলাকার প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত বহুতকুল গ্রামের কাজিম উদ্দিন খান এলাকার খেলার মাঠ দখল করে সেখানে ধান চাষ করেছেন। মাঠটি 'বহুতকুল সাধারণ পাঠাগার' এর নামে রেজিস্ট্রি করা। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে তাঁর কাছ থেকে মাঠটি দখলমুক্ত করতে পারছে না এলাকাবাসী। শুধু খেলার মাঠটিই দখলে নেননি কাজীম উদ্দিন, তিনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের জমিও দখল করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। মাঠটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বললেই মামলা হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে এলাকাবাসীকে। মাঠটি বেদখল হওয়ায় এলাকার যুবসমাজ খেলাধুলার করতে পারছে না। গতকাল রবিবার মাঠটি দখলমুক্ত করতে এলাকাবাসী ওই নেতার বিরুদ্ধে মিছিল ও মানববন্ধন করেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, উপজেলার রোয়াইল ইউনিয়নের বহুতকুল গ্রামের সাধারণ  পাঠাগারের নামে এলাকাবাসীর অনুদানে ও সদস্যরা চাঁদা দিয়ে আগরোয়াইল মৌজায় ৫২ শতাংশ জমি ক্রয় করে। ওই জমি রোয়াইল ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান কাজিম উদ্দিন খান বিনিময় দলিলের মাধ্যমে ১৯৮৬ সনে বহুতকুল মৌজায় ৪৯ শতাংশ জমি লিখে দেন 'বহুতকুল সাধারণ পাঠাগার'র নামে। এর মধ্যে ছয় শতাংশ জমির উপর পাঠাগারের ঘর উত্তোলন করা হয়েছে এবং ৪৩ শতাংশ জমি এলাকাবাসী খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে প্রায় ৩০ বছর ধরে। প্রায় দুই মাস আগে মাঠটিতে বোরো ধান চাষ করেন কাজিম উদ্দিন খান। এ নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে।

'বহুতকুল সাধারণ পাঠাগার' এর সদস্য হাবিবুর রহমান ও আবু হানিফ জানান, মাঠটি দখলমুক্ত করতে গিয়ে তারা হামলার শিকার হয়েছেন কাজিম চেয়ারম্যানের লোকজন দ্বারা। এ ছাড়া মামলা হামলার ভয় দেখানো হচ্ছে তাঁদের। " এলাকার জাফর ইকবাল, জহির, টিটুসহ কয়েকজন যুবক জানান, তারা খেলাধুলা করতে পারছেন না মাঠের অভাবে। তারা মাঠটি দখলমুক্ত করার দাবি জানান প্রশাসনের কাছে।

ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের শিক্ষক বহুতকুল গ্রামের সাইদুজ্জামান খান ওরফে সাইদুর  বলেন, "এ মাঠকে কেন্দ্র করেই আমার পরিবারের কয়েকজন সদস্যর বিরুদ্ধে হয়রানির উদ্দেশ্যে থানায় জিডিও করেছেন কাজীম চেয়ারম্যান। " তিনি মাঠটি দখলমুক্ত করতে প্রশাসনের বা জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। বহুতকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সাবেক সভাপতি খবির উদ্দিন  বলেন, বহুতকুল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামে রেজিস্ট্রিকৃত ছয় শতাংশ জমিও দখল করে নিয়েছেন কাজিম উদ্দিন খান। জমিটুকু ছেড়ে দিতে বারবার বলা সত্ত্বেও তিনি কর্ণপাত করছেন না। "

পাঠাগারের সদস্যদের বিরুদ্ধে উল্টো অভিযোগ করে মাঠটি দখলের বিষয়ে কাজিম উদ্দিন খান বলেন,বহুতকুল সাধারন পাঠাগার উন্নয়নে কোন সদস্য চাঁদা দেয়না,পাঠাগার মেরামতে কোনো উদ্যোগ নেই। ফলে মাঠে খেলাধুলা করার যোগ্যতাও নেই তাদের। তাই মাঠটি দখল করে নিয়েছি।


মন্তব্য