kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


নিহত জেএমবির অর্থদাতার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে থানায় হস্তান্তর, মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

৯ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:২৭



নিহত জেএমবির অর্থদাতার স্ত্রী ও তিন সন্তানকে থানায় হস্তান্তর, মামলা

আশুলিয়ায় র‌্যাবের অভিযানে নিহত নব্য জেএমবি ও জঙ্গিদের অর্থ যোগানদাতা আব্দুর রহমান ওরফে আইনুল এর স্ত্রী ও তিন সন্তানসহ বিভিন্ন আলামত আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করেছে র‌্যাব-৪ এর নবীনগর ক্যাম্প। এ ঘটনায় র‌্যাব-৪ এর নবীনগর ক্যাম্পের ডিএডি হুমায়ন কবীর বাদী হয়ে আশুলিয়া থানায় নিহত জঙ্গি আব্দুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রুমিকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করেছেন।

আজ রবিবার বিকেল ৫টা ৪০মিনিটে র‌্যাবের পক্ষ থেকে ডিএডি হুমায়ন কবীর আশুলিয়া থানায় অস্ত্র আইন এবং সন্ত্রাস দমন ও বিস্ফোরক আইনে মামলা দুটি দায়ের করেন। প্রাথমিকভাবে শাহনাজ আক্তার রুমি জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার কারণে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়।

এদিকে আহত অবস্থায় আটক জেএমবির অর্থ যোগানদাতা আব্দুর রহমান চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যাওয়ার পর তার মৃতদেহ ময়নাতদন্তের জন্য আজ রবিবার সকালে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাভার মডেল থানার ওসি এস এম কামরুজ্জামান।

র‌্যাব- ৪ এর নবীনগর ক্যাম্পের অধিনায়ক মেজর মাসুদুর রহমান জানান, গতকাল শনিবার বিকেলে আশুলিয়ার বাইপাইল এলাকায় একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরকসহ গুরত্বপূর্ণ নথি উদ্ধার করে র‌্যাব সদস্যরা। পরে বাড়িটি থেকে জঙ্গি কর্মকাণ্ডে মূল অর্থ যোগানদাতা আব্দুর রহমানের স্ত্রী শাহনাজ আক্তার রিমি ও তার তিন সন্তান লাবন্য (১১), তাহমিদ (৭) ও জাওয়াত(৫) কে র‌্যাব হেফাজতে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রুমির জঙ্গি কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পৃক্ততা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে বিকেলে আশুলিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে শাহনাজ আক্তার রুমিকে আসামি করে  অস্ত্র আইন ও সন্ত্রাসদমন ও বিস্ফোরক আইনে দুটি মামলা দায়ের করা হয়। শাহানাজ আক্তার রুমির গ্রামের বাড়ি ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার চন্দুরিয়া গ্রামে।  

এদিকে ওই বাড়িতে অভিযানের সময় বাড়ির কেয়ারটেকার তারিকুল ইসলামকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গতকাল রাতেই ছেড়ে দিয়েছে র‌্যাব। তবে বাড়ি ভাড়ার দেওয়ার বিষয়ে সঠিক দায়িত্ব পালনের অবহেলা থাকলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ কারার সুযোগ রয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাব সদস্যরা।

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ওসি মহসীন কাদির বলেন, ভবন মালিককে খোঁজা হচ্ছে। তার বাড়ির ভাড়াটিয়াদের তথ্যও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার বিকালে  র‌্যাব-৪ এর সদস্যরা আশুলিয়ার গাজীরচটে বসুন্ধরার টেক এলাকায় আমির মৃধার বাড়ির ৫ তলায় জঙ্গি বিরোধী অভিযানে নব্য জেএমবির অর্থ জোগানদাতার প্রধান আবদুর রহমানকে আহত অবস্থায় আটক করে। পরে রাতেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এদিকে তার ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে নগদ ৩০ লাখ টাকা, পিস্তল, ২২ রাউন্ড গুলি, নাইটভিষন বাইনাকুলার, মোবাইল জ্যামার ডিভাইজ, বিস্ফোরক দ্রব্যসহ বিপুল পরিমাণ জিহাদী বই উদ্ধার করা হয়। এ সময় তার স্ত্রী ও তিন শিশুকেও র‌্যাবের হেফাজতে নেওয়া হয়। একই সঙ্গে বাড়ির কেয়ারটেকার তারিকুল ইসলামকেও আটক করা হয়। তারিকুল বাড়ির মালিক আনোয়ার মৃধার শ্যালক বলে জানা গেছে।


মন্তব্য