kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্রীকে কোপানোর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি    

৮ অক্টোবর, ২০১৬ ১২:৪৮



লক্ষ্মীপুরে কলেজছাত্রীকে কোপানোর ঘটনায় চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

লক্ষ্মীপুরে ফারহানা আক্তার (৩২) নামের এক কলেজছাত্রীকে কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় এক চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে শহরের শাখারীপাড়া এলাকায় দুই দুর্বৃত্ত এ হামলা চালায়।

স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।

হামলার শিকার ফারহানা লক্ষ্মীপুর সরকারি কলেজে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি পরীক্ষার্থী ও পাবনার ভাঙ্গুরা উপজেলার আদাবাড়িয়া গ্রামের আবদুর রহমান খানের মেয়ে।

ফারহানার দাবি, তিনি লক্ষ্মীপুর পরিবার-পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আশফাকুর রহমান মামুনের স্ত্রী। সম্প্রতি মামুন তাকে বিয়ের বিষয়টি অস্বীকার করেন। বিয়ের তথ্যাদি সংগ্রহ করায় মামুন ক্ষিপ্ত হয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাসীদের দিয়ে তাকে হত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন।

সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ফারহানা সাংবাদিকদের জানান, তিনি শাখারীপাড়া ছোটপুল এলাকায় ভিজিটর সবিতা রানীর বাসায় থেকে উম্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রি পরীক্ষায় অংশ নেন। ইতিপূর্বে লক্ষ্মীপুরে সেইভ দ্যা চিলড্রেনের মা-মনি প্রকল্পের কর্মী ছিলেন তিনি। শুক্রবার বিকেলে পরীক্ষার পর তিনি বাসা থেকে পাবনা যাবার উদ্দেশে বের হন। বাস কাউন্টারে টিকিট না পেয়ে রাতে বাসায় ফেরার পথে শাখারীপাড়া এলাকায় অজ্ঞাত দুই সন্ত্রাসী তাকে কুপিয়ে জখম করে। এ সময় তার চিৎকারে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।

ফারহানা আরো জানান, লক্ষ্মীপুরে কর্মরত থাকাবস্থায় ডা. আশফাকুর রহমান মামুনের সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত বছরের ২৭ ডিসেম্বর ৩০ লাখ টাকা দেনমোহরে সিলেটের সুরমা ভ্যালি রেস্ট হাউজে ডা. ইমামুলের মধ্যস্থতায় মামুনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। এরপর থেকে স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া নিয়ে নিজেদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করে লক্ষ্মীপুর পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) ডা. আশফাকুর রহমান মামুন বলেন, "ফারহানার সঙ্গে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। আমাকে ফাঁসানোর জন্য বিয়ের ঘটনা সাজানো হয়েছে। হামলার ঘটনায় আমার সম্পৃক্ততা নেই। "

সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. আনোয়ার হোসেন বলেন, "কলেজছাত্রী ফারহানাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পেটে ও বুকে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে। "

এ ব্যাপারে জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) খন্দকার মো. শাহনেওয়াজ বলেন, "ঘটনাটি তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। "

এদিকে, খবর পেয়ে রাতেই হাসপাতালে আসেন জেলা সহকারী পুলিশ সুপার (সার্কেল) খন্দকার মো. শাহনেওয়াজ, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরম্নজ্জামান ও সদর থানার ওসি আবদুল্লাহ আল মামুন ভূঁইয়া।


মন্তব্য