kalerkantho

রবিবার। ৪ ডিসেম্বর ২০১৬। ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৩ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


ডোমারে ১০ টাকার চালের দুই কার্ডধারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

নীলফামারী প্রতিনিধি    

৭ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:২২



ডোমারে ১০ টাকার চালের দুই কার্ডধারীসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা

নীলফামারীর ডোমারে ১০ টাকা কেজি দরে বিতরণ করা চাল নিয়ে জালিয়াতির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় চারজনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাতে উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বর্মন বাদী হয়ে থানায় মামলাটি দায়ের করেন। সরকারি সম্পদ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে মামলাটি দায়ের করা হয়।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বর্মন জানান, ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ডধারী হরিণচড়া ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের রশিদুল ইসলাম, একই গ্রামের বনমালী রায়, হরিণচড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম এবং তিন নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য আহসান হাবীবকে।

মামলায় বিপুল সম্পদের মালিক হয়েও প্রতারণা করে স্বল্প মূল্যের হতদরিদ্রের চাল আত্মসাতের অভিযোগ আনা হয়েছে রশিদুল ইসলাম ও বনমালী রায়ের বিরুদ্ধে।

গত বৃহস্পতিবার কালের কণ্ঠের প্রথম পাতায় '১০ টাকার চালে চালিয়াতি' শিরোনামে হতদরিদ্র পরিবারের জন্য স্বল্প মূল্যে চাল বিতরণ কর্মসূচিতে সম্পদশালীদের নাম থাকাসহ নানা অনিয়মের সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। প্রতিবেদনে নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হরিণচড়া ইউনিয়নের নয় নম্বর ওয়ার্ডের শালমারা গ্রামের রশিদুল ইসলাম চালকল এবং বিশাল এলাকাজুড়ে চাতাল ও আধাপাকা বাড়ির মালিক এবং একই গ্রামের বনমালী রায় পাকা বাড়ি, ১২ বিঘা জমি, মোটরসাইকেলের মালিক এবং পেশায় একজন ব্যবসায়ী হলেও তাদের নামে জুটেছে ১০ টাকা কেজি দরের চালের কার্ড।

এমন অনিয়মের চিত্র প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে খাদ্য মন্ত্রণালয়সহ উপজেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগ। এর সূত্র ধরে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা সরেজমিনে এলাকা পরিদর্শন করে অভিযোগের সত্যতা পান। পরে গভীর রাতে মামলা দায়ের করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বম্মর্ণ।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় আজ শুক্রবার দুপুরে বলেন, "অভিযোগে সত্যতা থাকায় আমি বাদী হয়ে রাতে থানায় মামলা দায়েরের জন্য অভিযোগ দাখিল করেছি। আজ শুক্রবার হওয়ায় মামলাদি গ্রহণ করা হয়েছে কিনা আমি এখনও জানি না। জেনে নিয়ে জানাতে পারবো। "

ডোমার থানার ওসি আহমেদ রাজিউর রহমান বলেন, "বৃহস্পতিবার রাতে ৪০৯ ও ৪২০ ধারায় মামলাটি দায়ের করেন উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক মৃত্যুঞ্জয় রায় বম্মর্ণ। মামলাটি দুর্নীতি দমন কমিশনে পাঠানো হবে। এটির পরবর্তী তদন্ত দুদক করবে।

এ ব্যাপারে ডোমার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিহা সুলতানা বলেন, "আমি সরেজমিনে শালমারা গ্রামে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাই। খাদ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি দেখতে বলা হয়েছে আমাকে। এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে। "  

ওই ইউনিয়নসহ উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে একই ধরনের অনেক অভিযোগ রয়েছে- সে ব্যাপারে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে- এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, "ওই মামলা দেখে এখন অনেকেই সতর্ক হবেন। শিগগির আমি মিটিং ডেকে সবাইকে সতর্ক করবো। কারো ভুল থাকলে সংশোধন করা হবে। " এরপরও ত্রুটি পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

 


মন্তব্য