kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বেনাপোল বন্দরের শেডে অগ্নিকান্ডের কারণ এখনও অজানা

বেনাপোল প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:১১



বেনাপোল বন্দরের শেডে অগ্নিকান্ডের কারণ এখনও অজানা

বেনাপোল বন্দরের শেডে আগুন লাগার সঠিক কারণ নির্ণয় করতে পারেনি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি। কমিটি বলছে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগেনি বেনাপোল বন্দরের শেডে।

তবে নাশকতার বিষয়টি উড়িয়ে দেয়নি তারা। কমিটির বক্তব্য, আগুন লাগার জন্য প্রকারান্তরে বন্দর কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাই দায়ী। ফলে এ বিষয়ে আরো তদন্ত করা হবে।

গত ২ অক্টোবর ভোরে দেশের বৃহত্তম স্থলবন্দর বেনাপোলের ২৩ নম্বর শেডে আগুন লাগে। এতে আমদানি করা বিপুল পরিমাণ মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। প্রায় সাত ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন নেভাতে সক্ষম হন ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা। এই ঘটনার পর তিনটি পৃথক সরকারি সংস্থা ভিন্ন ভিন্ন তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটি বেনাপোল আন্তর্জাতিক চেকপোস্ট যাত্রী টার্মিনাল মিলনায়তনে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়েছিলেন। তবে কমিটি এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে তদন্ত রিপোর্ট প্রকাশ করেনি। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তদন্ত কমিটির প্রধান নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম-সচিব সাফায়েত হোসেন অগ্নিকান্ডের কারণ সুনির্দিষ্টভাবে বলেননি।

তিনি বলেছেন, "শর্ট সার্কিট থেকে যে আগুনের সূত্রপাত হয়নি, প্রাথমিকভাবে তা অনেকটাই নিশ্চিত। সিগারেটের আগুন বা নাশকতামূলক কর্মকান্ডের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। "

তদন্ত কমিটির প্রধান আগুন লাগার জন্য বন্দরের কর্মকর্তাদের অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করেন। বলেন, কেমিক্যাল রাখার জন্য আলাদা শেড থাকার পরও কেন এ শেডে তুলার সাথে কেমিক্যাল রাখা হলো সেটাও দেখা হচ্ছে। প্রয়োজনে আরো তদন্ত করতে হবে। নাশকতামূলকভাবে অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটানো হয়েছে কি-না তা স্পষ্ট না করলেও তদন্ত কমিটি এই আশঙ্কা উড়িয়ে দেয়নি।

এক প্রশ্নের জবাবে তদন্ত কমিটির প্রধান জানান, ১৩৭টি পণ্য চালান আগুনে পুড়ে যাওয়ার ব্যাপারে তারা নিশ্চিত হয়েছেন। এতে ক্ষতির পরিমাণ ১৮ কোটি ৫০ লাখ ৬৪ হাজার ৫২৬ টাকা বললেও ব্যবসায়ীরা বলছেন একশ’ কোটি টাকার মালামাল ক্ষয়ক্ষতি হযেছে। এছাড়া আরো কোনো পণ্য পুড়েছিল কি-না তা এখনো অনুসন্ধান করা হচ্ছে। বন্দরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারসহ সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, কেপিআই জোনের জন্য প্রয়োজনীয় সব কিছু করার সুপারিশ করা হবে তদন্ত রিপোর্টে। এছাড়া বন্দরে গেটের সংখ্যা কমানো ও পেছনের সড়কটি চার লেনে রূপান্তরিত করার ব্যাপারে রিপোর্টে সুপারিশ করা হবে বলে জানান কমিটির প্রধান।

মতবিনিময়কালে অন্যদের মধ্যে তদন্ত কমিটির সদস্য স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব হাবিবুর রহমান, যশোর জেলা প্রশাসনের প্রতিনিধি শার্শা উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আব্দুস সালাম, ফায়ার সার্ভিস যশোরের সহকারী পরিচালক পরিমলচন্দ্র কুণ্ড ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী অঞ্চলের উপপরিচালক নুরুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।


মন্তব্য