kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


সরিষাবাড়ীতে পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ী সংঘর্ষ, ৫ পুলিশসহ আহত ১০

জামালপুর প্রতিনিধি   

৬ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৩৮



সরিষাবাড়ীতে পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ী সংঘর্ষ, ৫ পুলিশসহ আহত ১০

ধৃত মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে বুধবার রাতে পুলিশ ও মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে ৫ জন পুলিশসহ আহত হয়েছে অন্তত ১০ জন।

উপজেলার মহাদান ইউনিয়নের করগ্রামে শীর্ষ চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের বাড়িতে পুলিশ অভিযান চালালে এ ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় আহতদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ঘটনাস্থল থেকে ৩০ পিস ইয়াবা টেবলেট ও ২৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ওপর হামলা ও মাদকদ্রব্য বিক্রির দায়ে থানায় পৃথক দুইটি মামলা হয়েছে। আটক করা হয়েছে ১২ জনকে।

এলাকাবাসী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, বুধবার রাত ৮টার দিকে সাদা পোষাকে একদল পুলিশ করগ্রামের নাজিম উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালায়। এ সময় পুলিশ নাজিম উদ্দিনের ছেলে সেনাবাহিনী থেকে পলাতক শীর্ষ চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামকে আটক করে। পুলিশ তাকে ঘটনাস্থলেই জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করলে বাড়ির লোকজন সংঘবদ্ধ হয়ে হামলা চালিয়ে শফিকুলকে ছাড়াতে চেষ্টা করে। এসময় পুলিশের সাথে মাদক ব্যবসায়ীদের মধ্যে সংঘর্ষ বাঁধে। হামলাকারীদের লাঠি, দা-বটির আঘাত এবং মহিলাদের কামড়ে এএসআই সাইফুল-২, এএসআই সাহানুর রহমান, এএসআই শফিকুল আলম, এএসআই ঈমান আলী ও কনস্টেবল আতিকুর রহমান আহত হন।

এছাড়া উভয় পক্ষের সংঘর্ষে হামলাকারীদের কয়েকজন আহত হয় বলে জানা গেছে। খবর পেয়ে সরিষাবাড়ী থানার ওসি (তদন্ত) তাওহিদুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পোষাকধারী পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করে।

সরিষাবাড়ী থানার ওসি রেজাউল ইসলাম খান জানান, পুলিশ গোপন সংবাদে মাদক উদ্ধারে অভিযান চালালে শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে ওই বাড়ির পুরুষ-মহিলারা পুলিশের ওপর হামলা চালায়। বুধবার রাতেই এএসআই শফিকুল ইসলাম বাদি হয়ে তিনজনকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ও এএসআই সাইফুল-২ বাদি হয়ে পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় ৩০/৩৫ জনকে আসামি করে পৃথক দুইটি মামলা দায়ের করেন। পুলিশ মাদক ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম (৩৮) ও তার মা রওশনারা বেগমসহ (৫৫) ১২ জনকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করেছে। ঘটনাস্থল থেকে ৩০ পিস ইয়াবা টেবলেট ও ২৭ গ্রাম হেরোইন উদ্ধার করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, শফিকুল ইসলাম সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে এসে দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় চোরাকারবারী ও মাদক ব্যবসার সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছে। এর আগে র‌্যাব তার বাড়িতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান মাদকদ্রব্য উদ্ধার করেছিল। প্রায় ডজন খানেক মামলার আসামি শফিকুল একাধিকবার জেল-হাজত বাস করেছে। এদিকে পুলিশ-মাদক ব্যবসায়ী সংঘর্ষের ঘটনায় গ্রেফতার আতঙ্কে পুরুষশূন্য হয়ে পড়েছে পুরো করগ্রাম এলাকা।


মন্তব্য