kalerkantho

শুক্রবার । ২ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রামেকে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের কাণ্ড; দুপুরে ধর্মঘট, সন্ধ্যায় প্রত্যাহার

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:৫৯



রামেকে ইন্টার্নি চিকিৎসকদের কাণ্ড; দুপুরে ধর্মঘট, সন্ধ্যায় প্রত্যাহার

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মারপিটের ঘটনার জের ধরে আজ  বুধবার দুপুর থেকে হঠাৎ ধর্মঘট শুরু করেছেন ইন্টার্নি চিকিৎসকরা। এর আগে গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ওই মারপিটের ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনার সঙ্গে জড়িত রোগীর বন্ধু রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের দাবিতে আজ দুপুর দুইটার দিক থেকে ধর্মঘট শুরু করে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা। এদিকে হঠাৎ করে ধর্মঘট শুরু করায় রোগীসহ স্বজনরা দুর্ভোগে পড়েন। পরে সন্ধ্যার দিকে আবারো ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেন চিকিৎসকরা।

ধর্মঘট আহ্বান ও প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামেক ছাত্রলীগের সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু। তিনি জানান, ‘মঙ্গলবারের ঘটনার সঙ্গে জড়িতকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘন্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল হাসপাতাল পরিচালককে। কিন্তু বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হাসপাতালের সবকটি ওয়ার্ডের ইন্টার্নি চিকিৎসকরা কাজ বন্ধ করে দিয়ে ধর্মঘট শুরু করে দেন। পরে পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলাম ইন্টার্নি চিকিৎসকদের দাবি-দাওয়া মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিলে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

হাসপাতাল সূত্র মতে, অসুস্থতার কারণে গতকাল মঙ্গলবার সকালে রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জনি হোসেনকে (২০) রামেকের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তবে তার সহপাঠিরা দুপুর ১২টার দিকে তাকে দেখতে যায়। এ সময় তারা রোগী জনির কাছে ভিড় করে। তবে রোগীর কাছে ভীড় করতে নিষেধ করেন ওই ওয়ার্ডের দায়িত্বরত ইন্টার্নি চিকিৎসক অপু। এক পর্যায়ে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

সূত্র আরো জানায়, এই ঘটনার পরে ইন্টার্নি চিকিৎসকরা গতকাল মঙ্গলবার প্রায় আধা ঘন্টা চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখেন। পরে তারা রামেকের পরিচালক ব্রিগিডিয়ার জেনারেল এএফএম রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তারা পরিচালককের কাছে বিচারের দাবি করে এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দাবি করেন। পরে পরিচালক তাদের বিচারের আশ্বাস দিলে তারা আবার কাজ ফিরে যান।

এর আগে গতকাল মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে রামেকের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাটোরের গুরুদাসপুরের সোলেমান (৬০) মারা যায়। এরপর ভুল চিকিৎসায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন রোগীর স্বজনরা। পরে ইন্টার্নি ডাক্তার সুকান্তর সঙ্গে রোগীর স্বজন মামুনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইন্টার্নি চিকিৎসকরা কিছুক্ষণের জন্য চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। তবে পরে আবার পুরোদমে চলে।

এদিকে দুটি ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে অবাধে রোগীর স্বজনদের প্রবেশ বন্ধ কেরে দেয় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একজন রোগীর জন্য একটি করে পাশ দিয়ে হাসপাতালের অভ্যন্তরে প্রবেশ করার পুরানো নিয়ম চালু করে কর্তৃপক্ষ। এরই মধ্যে আজ বুধবার দুপুর থেকে নতুন করে ধর্মঘটের কারণে আরো ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। অনেকেই রোগী নিয়ে বাইরের ক্লিনিকে চলে যেতে থাকেন। তবে সন্ধ্যার দিকে ধর্মঘট প্রত্যাহার করে নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে শুরু করে।  


মন্তব্য