kalerkantho

শুক্রবার । ৯ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৮ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুট বন্ধ

পদ্মায় ভাসছে ৪টি ফেরি!

নাব্য সঙ্কটে ডুবোচরে ফেরি আটকা, ভরসা এখন জোয়ারের পানি

মুন্সীগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৯:৫৯



পদ্মায় ভাসছে ৪টি ফেরি!

নাব্যতা সঙ্কটের কারণে চ্যানেলের মুখে ফেরি আটকে শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবার পর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বন্ধ হয়ে গেছে নৌরুট। আজ বুধবার বিকেল ৩টার দিকে রো রো ফেরি বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন পদ্মার লৌহজং টানিং পয়েন্টের মুখে ডুবোচরে আটকে যায়।

ফেরিটি আটকে থাকার কারণে শিমুলিয়াগামী আরো ৪টি ফেরি আটকে যাওয়া ওই ফেটির কাছে নদীতে ভাসছে। চ্যানেল সংকোচিত হয়ে পড়ায় ফেরিগুলো চলতে পারছিলনা। ফেরি উদ্ধারের চেষ্টা করেও সন্ধ্যা ৭টা নাগাদ এটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখন জোয়ারের পানির অপেক্ষা করা হচ্ছে। এছাড়া সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় ফেরি রানী ক্ষেত চ্যানেলটি পারি দিয়ে গিয়ে এর মুখে ডুবোচরে আটকা পড়েছে। তাই এ নৌরুটে এখন ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

বিআইডব্লিউটিসির মেরিন অফিসার মো. শাহজাহান খান জানান, পদ্মায় পানি কমে যাওয়ায় নদীতে নাব্যতা সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফেরিগুলো ঠিকমতো চলতে পারছে না। মাঝে মাঝে ডুবোচরে আটকে যাচ্ছে। আজ বিকেলে রো রো ফেরি রুহুল আমিন আটকে গেলে ফেরিটি উদ্ধারে টাগবোট ব্যবহার করা হলেও এটি উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এখন জোয়ারের পানির অপেক্ষায় আছি।   রাত ১২ টার দিকে জোয়ারের পানি বাড়লে এটি টাগবোট দিয়ে টেনে সরিয়ে নেয়া হবে।

 তিনি জানান, রো রো ফেরি চলতে পানির গভীরতা প্রয়োজন সাড়ে ৬ ফুট।   লৌহজং চ্যানেলে পানির গভীরতা রয়েছে ৬ সাড়ে ৬ ফুট। কখনওবা এর চেয়ে কমে যাচ্ছে। এছাড়া চ্যানেলটি সরু। চ্যানেলটির প্রস্বস্থতা ১২০ ফুট। কিন্তু ড্রেজার বসানোর পর ৬০ ফুট কমে গেছে। ফেরি চলতে ৬০ ফুট প্রস্বস্থতা লাগে।   যদি কোনো কারণে একটি ফেরি আটকে যায় তাহলে সমস্যা হয়ে যায়। ফেরিগুলো মাঝে মাঝেই আটকে যাচ্ছে। এছাড়া  ফেরিগুলো ক্রসিংয়ের সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। টুরো লোডও ফেরিগুলো নিতে পারছে না। এতে পারাপারে বিঘ্ন ঘটছে।

বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাত টায় রানীক্ষেত নামের একটি ফেরি আটকে যাওয়া রো রো পেরি রোহুল আমিনের পাশে চ্যানেলের মুখে আটকে গেলে নৌপথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। তাই এ নৌরুটে ফরি পারাপার বন্ধ হয়ে গেছে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটস্থ এজিএম শাহ খালেদ নেওয়াজ জানান, শিমুলিয়া-কাওড়াকান্দি নৌ রুটে নাব্যতা সঙ্কটে ফেরি চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে। এই রুটের লৌহজং টানিংয়ে নাব্য সঙ্কট এবং চ্যানেল সরু হওয়ায় ফেরি স্বাভাবিকভাবে চলতে পারছে না। নাব্য সঙ্কটের কারণে মাত্র ১টি বাস, ৬টি ট্রাক ও ১২টি হালকা বা ছোট গাড়ী নিয়ে রওনা দিয়েছিল রো রো ফেরি রুহুল আমিন। কিন্তু লৌহজং টানিং পয়েন্টের কাছে যেতেই ডুবোচরে আটকে যায়। এটি আটকে যাওয়াতে এর পাশ দিয়ে বিকেলে ফেরিগুলো কাওড়াকান্দি যেতে পারলেও কাওড়াকান্দি থেকে ছেড়ে আসা ফেরিগুলো এর পাশ দিয়ে চলতে পারছেনা। ফলে নদীতে বাসছে ৪টি ফেরি। রুহুল আমিন উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত এ ফেরিগুরোও গন্তব্যে পৌছতে পারছেনা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা জানান, চ্যানেলে ৩টি করে ৬টি ড্রেজার থাকলেও কাজ করছে ৩টি ড্রেজার। বাকী গুলো মাটি কাটছে না। যে ড্রেজারগুলো কাজ করছে তাও নাম মাত্র। তাই দীর্ঘদিনেও নাব্য সংকট কমছে না। এতে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেরার মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

বিআইডব্লিউটিএর নির্বাহী প্রকৌশলী (ড্রেজিং) মো. সুলতান উদ্দিন আহমেদ খান জানান, বিআইডব্লিউটিসি নিজেদের ব্যথ্যতা আমাদের ঘাড়ে চাপানোর চেষ্টা করছে। চ্যানের মধ্যে কোন নাব্যতা সঙ্কট নেই। ১০ ফুটের নীচে চ্যানেলে কোন পানি নেই। রো রো ফেরি রুহুল আমিন আউট চ্যানেলে ডুবো চরে আটকা পড়েছে। এই ফেরিটি বার বার আউট চ্যানেলে আটকে যাচ্ছে আর দোষ দেয়া হচ্ছে নাব্যতা সঙ্কটের।  


মন্তব্য