kalerkantho

শনিবার । ৩ ডিসেম্বর ২০১৬। ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ২ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


কুমিল্লায় চলছে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা    

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:২৮



কুমিল্লায় চলছে ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিতরণ

কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পরিচিতরা কার্ড পেলেও অনেক অসহায় মানুষ কার্ড পাওয়া থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর ডিলাররা জনবহুল বাজারে চাল বিক্রির  কথা থাকলেও তা করছেন নিজেদের পছন্দের এলাকায়।

জেলার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে ১৪ টন চাল বিক্রি হলেও তিনটি ইউনিয়নে এখনো ৫০ শতাংশ চালও বিক্রি হয়নি। এদিকে, দেবিদ্বার উপজেলার ডিলাররা বস্তাপ্রতি চাল কম পান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, বুড়িচং উপজেলার ৯টি ইউনিয়নে ১৫ জন ডিলার সপ্তাহে তিন দিন ১৫টি বিভিন্ন স্থানে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত চাল বিতরণ করছেন। তবে এ  উপজেলার লোকসংখ্যা অনুসারে এক তৃতীয়াংশ মানুষও এ কার্যক্রম থেকে সুবিধা ভোগ করতে পারছেন না। এলাকার চেয়ারম্যান-মেম্বাররা তাঁদের পরিচিতজনদের অধিকাংশ কার্ড বিতরণ করেছেন বলে অভিযোগ অনেক দুস্থদের। এ উপজেলা থেকে পাঁচ হাজার ৬৫০ জন মানুষ কার্ড পেয়েছেন।

বুড়িচং উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের মধ্যে বুড়িচংয়ের ৩ নম্বর সদর ইউনিয়নে সেপ্টেম্বর মাসে আসা ৫০ শতাংশ চালও বিতরণ হয়নি বলে জানা গেছে। এসব অবিক্রিত চাল ডিলাররা জমা না দিয়ে অক্টোবর মাসে তা বিক্রি বন্ধ রেখেছেন। এদিকে, এ মাসের অনুদান না আসার কারণে সেপ্টেম্বর মাসের অবিক্রিত চালও বিক্রি বন্ধ রয়েছে। ফলে অনেক কার্ডধারী চাল কিনতে এসে ফিরে গেছেন।

বুড়িচং উপজেলার ইউএনও ফজলুল জাহিদ পাভেল বলেন, "উপজেলার জনসংখ্যার তুলনায় কার্ড অনেক কম। এ নিয়ে আমরা খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করছি। "  বুড়িচংয়ের ৩ নম্বর সদর ইউনিয়নে সেপ্টেম্বর মাসের ৫০ শতাংশ চাল বিক্রি না হওয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, "অক্টোবরের অনুদান এসে এখনো না পৌঁছালেও সেপ্টেম্বরের চাল শেষ না হওয়া পর্যন্ত ১০ টাকা কেজি দরে চাল বিক্রি করতে আমি ডিলারদের বলেছি। যদি ডিলাররা তা না করে তাহলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। "
 
বুড়িচংয়ের কয়েকজন ভুক্তভোগী জানান, প্রত্যেক ইউনিয়নের ডিলাররা এলাকার জনবহুল স্থান বাজারে এই চাল বিতরণের নিয়ম থাকলেও ডিলাররা সেখানে বিক্রি না করে তাদের ইচ্ছেমতো স্থান নির্ধারণ করে দেন। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ ভোগান্তির শিকার হন। এ ছাড়া ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার আটটি ইউনিয়নের মধ্যে সদর, সাহেবাবাদ, শশীদল, মাধবপুর, সিদলাই ইউনিয়নে প্রথম মাসের ১৪ টন চাল বিক্রি হলেও তিনটি ইউনিয়ন মালাপাড়া, চান্দলা এবং দুলালপুর ইউনিয়নে এখনো ৫০ শতাংশ চালও বিক্রি করা হয়নি। ব্রা‏হ্মণপাড়া খাদ্য অধিদপ্তরের সাব ইন্সপেক্টর নুরুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে, দেবিদ্বার উপজেলার সাত হাজার ৮৩২ জন কার্ড পেয়েছেন। এ উপজেলার ১৫ জন ডিলার এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ উপজেলার ডিলারদের অভিযোগ তারা চালের বস্তাপ্রতিতে মাপে কম পাচ্ছেন। ডিলাররা জানান, চাল বিক্রি করে প্রতি কেজিতে ১.৫০ পয়সা করে লাভ পান তাঁরা। কিন্তু বস্তাপ্রতি চাল কম থাকলে তাঁদের উল্টো লোকসান হয়। দেবিদ্বার উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, "ডিলারদের এরকম অভিযোগ পেয়েছি। এখন থেকে চাল নেওয়ার সময় ডিলাররা আমাকে জানাবেন। এখন থেকে ডিলাররা চাল মেপে নেবেন। যাতে কোনো সমস্যা না হয়। এ ব্যাপারে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। "  

 


মন্তব্য