kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মারপিট

রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী    

৫ অক্টোবর, ২০১৬ ১৬:১৬



রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ধর্মঘট

রোগীর স্বজনদের সঙ্গে মারপিটের ঘটনার জের ধরে ধর্মঘট শুরু করেছেন রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। আজ বুধবার দুপুর ২টা  থেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা ধর্মঘট শুরু করেন।

এ সময় তাঁরা গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে মারপিটের ঘটনায় জড়িত রোগীর বন্ধু রাজশাহী কলেজ ছাত্রলীগের কর্মী মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তারের দাবি জানান।

ধর্মঘটের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রামেক হাসপাতাল ইন্টার্নি চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম অপু। তিনি জানান, মঙ্গলবারের ঘটনায় জড়িতকে গ্রেপ্তারের জন্য ২৪ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দেওয়া হয়েছিল হাসপাতাল পরিচালককে। কিন্তু আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত এ নিয়ে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ না করায় হাসপাতালের সবকটি ওয়ার্ডের ইন্টার্ন  চিকিৎসকরা প্রতিবাদে কাজ বন্ধ করে ধর্মঘট শুরু করেছেন।

হাসপাতাল সূত্র মতে, রাজশাহী কলেজের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী জনি হোসেনকে (২০) রামেকের ৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। তার সহপাঠীরা ওইদিন দুপুর ১২টার দিকে তাকে দেখতে যান। এ সময় তারা রোগী জনির কাছে ভিড় করলে তাদেরকে বাইরে চলে যেতে বলেন ইন্টার্ন ডা. অপু। একপর্যায়ে অপু রামেক ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয় দেন। এ কথা শুনে জনির সহপাঠী মনিরুল ইসলামও নিজেকে ছাত্রলীগকর্মী বলে পরিচয় দেন। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ঘটনার পর ইন্টার্ন চিকিৎসকরা মঙ্গলবার প্রায় আধাঘণ্টা চিকিৎসা সেবা বন্ধ রাখেন। পরে তাঁরা রামেক পরিচালক ব্রিগিডিয়ার জেনারেল এ এফ এম রফিকুল ইসলামের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় তাঁরা পরিচালকের কাছে বিচার দাবি করেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মনিরুল ইসলামকে গ্রেপ্তার দাবি করেন। পরে পরিচালক তাঁদেরকে বিচারের আশ্বাস দিলে তাঁরা আবার কাজ ফিরে যান।

এর আগে সকাল ৮টার দিকে রামেকের ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে নাটোরের গুরুদাসপুরের সোলেমান (৬০) মারা যান। এরপর ভুল চিকিৎসায় ওই রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন রোগীর স্বজনরা। পরে ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. সুকান্তর সঙ্গে রোগীর স্বজন মামুনের হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কিছুক্ষণের জন্যে চিকিৎসা বন্ধ করে দেন। তবে পরে আবার পুরোদমে কাজকর্ম চলে।

এদিকে, দুটি ঘটনার পর থেকে হাসপাতালে অবাধে রোগীর স্বজন প্রবেশ বন্ধ করে দিয়েছে  হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। একজন রোগীর জন্য একটি করে পাশ দিয়ে হাসপাতালের অভ্যান্তরে প্রবেশ করার পুরনো সেই নিয়ম চালু করেছে কর্তৃপক্ষ। হঠাৎ করে এ ব্যবস্থা চালু করায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগীর স্বজন এবং রোগীরা।


মন্তব্য