kalerkantho

বৃহস্পতিবার । ৮ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৭ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


বেনাপোল বন্দরে পুড়ে যাওয়া শেড থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে

তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন

বেনাপোল প্রতিনিধি   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ২৩:০২



বেনাপোল বন্দরে পুড়ে যাওয়া শেড থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে

পুড়ে যাওয়া বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৩ নম্বর শেড থেকে এখনও ধোঁয়া বের হচ্ছে। এ শেডের আশপাশে পোড়া গন্ধে স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে।

বিভিন্ন ধরনের কেমিক্যাল গলে পানিতে ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে মালামাল খালাশ ও লোড-আনলোডে সাময়িক অসুবিধা দেখা দিয়েছে। কিন্তু তদন্ত কমিটির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত শেডের মধ্যে পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে ফেলা যাচ্ছে না। যাদের পণ্য পুড়ে গেছে, সেই ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকরা দ্রুত ক্ষতিপূরণ দাবি করছেন।

বেনাপোল স্থলবন্দরের ওই শেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন বন্দর ব্যবহারকারী বৃহওর সংগঠন সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোশিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন। এদিকে ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকরা পুড়ে যাওয়া মালের ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন। অধিকাংশ আমদানিকারকরা বেনাপোল বন্দরে এসে ধংস স্তুপ  পরিদর্শন করে কান্নায় ভেঙে পড়েন।  তবে পুড়ে যাওয়া ধ্বংস স্তুপ এখনও সরানো হয়নি। এমনকি শেডের ভেতরে ধ্বংস স্তুপের মধ্যে পুড়ে যাওয়া থেকে কোন মালামাল রেহাই পেয়েছে কিনা তা নিয়েও আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা।  

এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনার পর বেনাপোল বন্দরের সহকারী পরিচালক আব্দুল হান্নানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এই কমিটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবে। অপরদিকে এ ঘটনায় বেনাপোল কাস্টমস কর্তৃপক্ষও একটি কমিটি গঠন করেছে। অতিরিক্ত কমিশনার ফিরোজ উদ্দিনকে প্রধান করে গঠিত এই কমিটিতে রয়েছেন আরো চার সদস্য। তারা সাত দিনের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। এ ছাড়াও একজন যুগ্ম-সচিবকে প্রধান করে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

ওই ঘটনায় আজ সোমবার সকাল থেকে তিনটি কমিটির মধ্যে স্থলবন্দর ও কাস্টমসের দুটি তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে। তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এখনো কাজ শুরু করেনি। তারা আগামীকাল মঙ্গলবার সকালে তদন্ত কাজ শুরু করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

এদিকে, বন্দরের ২৩ নম্বর শেডে আগুন নিয়ে নানা কথা শোনা যাচ্ছে। অনেকের ধারণা, গত শনিবার অনেক রাত পর্যন্ত ওই শেডে আমদানিকৃত কয়েকটি ভারতীয় পণ্যবাহী ট্রাক থেকে পণ্য আনলোড করা হয়। সেখানে কোনো শ্রমিকের ফেলে দেওয়া জ্বলন্ত সিগারেট থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে।

এ বিষয়ে ওই শেডের ইনচার্জ জানান, শেডের পাশে একটি পোস্ট লাইনে গত ১১ সেপ্টেম্বর আগুন লাগে। হ্যান্ডলিং শ্রমিকদের সহযোগিতায় সে যাত্রা রক্ষা হয়। ১৮ সেপ্টেম্বর লিখিতভাবে বৈদ্যুতিক লাইন মেরামতের জন্য আবেদন দেওয়া হয় কর্তৃপক্ষের কাছে। তারপরও কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আর এ কারণে শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে।

অভিযোগ রয়েছে, বন্দরের অব্যবস্থাপনা ও চুরির প্রমাণ লুকাতে অগ্নিকাণ্ডের মতো নাশকতামূলক কাজ করা হয়ে থাকে এ বন্দরে। বন্দর প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত সাত বার এখানে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ৬০০ কোটি টাকার মালামাল পুড়ে যায়। যার কোনো ক্ষতিপূরণ আজও পাননি আমদানিকারকরা। বন্দর কর্তৃপক্ষ বন্দরে রক্ষিত মালামালের ভাড়াসহ অন্যান্য অর্থ আদায় করলেও পণ্যের বীমা করেন না রহস্যজনক কারণে। বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত অগ্নিকাণ্ডে তদন্ত গঠিত হলেও রিপোর্ট পাওয়া যায় না কখনো।

এ ব্যাপারে বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমান সজন বলেন, ‘বেনাপোল বন্দরে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আমদানিকারকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। যা ব্যবসায়ী মহলে চরম উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করেছে। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত আমদানিকারকদের প্রতিনিধিদের কাছে জরুরি চিঠি পাঠিয়েছি। ক্ষয়ক্ষতির তালিকা হাতে পাওয়ার পরপরই বিষয়টি নিয়ে বন্দর ও কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ’

বেনাপোল স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের উপ-পরিচালক (ট্রাফিক) আব্দুল জলিল বলেন, ‘অগ্নিকাণ্ডের কারণ এখনো জানা যায়নি। আর ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনই বলা সম্ভব নয়। এ পর্যন্ত ওই শেডে ১১৫টি পণ্য চালানের কাগজপত্র পাওয়া গেছে। ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে ১ অক্টোবর পর্যন্ত এই শেডে আর কী পণ্য আনলোড করা হয়েছে তা নিশ্চিত হতে কাস্টমস কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এছাড়া আর কোনো পণ্য ছিল কিনা তাও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে। সব কিছু হাতে পেলে তবেই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ জানা যাবে। ’

তিনি আরো জানান, তদন্ত কমিটির রিপোর্টের আগে কোনো পোড়া পণ্য ওই শেড থেকে সরানো যাবে না।

উল্লেখ্য, গত রবিবার ভোরে বেনাপোল স্থলবন্দরের ২৩ নম্বর শেডে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় বিপুল টাকার আমদানিকৃত মালামাল পুড়ে ছাই হয়ে যায়। এই শেডে বিভিন্ন গামেন্টস ইন্ডাষ্ট্রিজ ও শিল্প প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানিকৃত কাপড়, ডাইস, বিভিন্ন কেমিকেল, মেশিনারি পার্টস, মোটর পার্টস, ফাইবার, মশা তাড়ানো স্প্রে নিউ হিট, তুলা অ্যাসোসিয়েটস গুডস, কাগজ রক্ষিত ছিল।


মন্তব্য