kalerkantho

মঙ্গলবার । ৬ ডিসেম্বর ২০১৬। ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৫ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চাকরিতে পুনর্বহালসহ ৪ দফা দাবিতে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন

নিজস্ব প্রতিবেদক, সাভার (ঢাকা)   

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:৫৪



চাকরিতে পুনর্বহালসহ ৪ দফা দাবিতে আশুলিয়ায় শ্রমিকদের মানববন্ধন

ছাটাইকৃত শ্রমিকদেরকে চাকরিতে পুনর্বহাল ও অবিলম্বে বন্ধ কারখানা চালুসহ শ্রমিকদের চার দফা দাবি মেনে নেওয়ার দাবিতে মানববন্ধন ও সমাবেশ করেছে একটি কারখার ছাটাইকৃত শ্রমিকরা। আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চলের বলিভদ্র বাজারে অবস্থিত আনজিরা অ্যাপারেলস লিমিটেড, ইউনিট-২ এর ছাটাইকৃত শতাধিক শ্রমিক আশুলিয়া প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন ও সমাবেশ করে।

কারখানাটির ছাটাইকৃত শ্রমিক সাইফুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ কর্মসূচিতে সংহতি প্রকাশ করে বক্তব্য দেন গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাশ, সংগঠনের সাভার-আশুলিয়া কমিটির সাধারণ সম্পাদক আনিসুর রহমান ও কারখানার শ্রমিক রিক্তা বেগম, বিলকিস, জাহাঙ্গীর, দেলোয়ার, সিরাজুল, সাদ্দাম, রফিক।

সমাবেশে শ্রমিকরা অভিযোগ করেন, গত কয়েক মাস যাবত মালিকপক্ষ বেআইনিভাবে শ্রমিক ছাটাই করে আসছে। শ্রমিকরা প্রতিবাদ করতে গেলে বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে শ্রমিকদের মারপিট ও হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। গত কোরবানির ঈদের ছুটির আগে শ্রমিকরা মালিকপক্ষের কাছে চার দফা দাবি বেশ করে। দাবিগুলো হলো- কাজ না থাকলে বেসিক মজুরি প্রদান, বাৎসরিক ছুটির টাকা প্রদান, বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নির্যাতন বন্ধ ও কারখানায় চাকরির নিশ্চয়তা। এই ৪ দফা দাবি তুলে ধরলে মালিকপক্ষ ঈদের ছুটির পরে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে বিবেচনার আশ্বাস দেন। তখন মালিকপক্ষ ঈদের ছুটি ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেন এবং ১ অক্টোবর শ্রমিকের চাকরিতে যোগদান করতে বলেন। ছুটি শেষে ১ অক্টোবর শ্রমিকরা কারখানায় গেলে গেট থেকে শ্রমিকদের কারখানার ভিতরে ঢুকতে বাধা দেওয়া হয়। এ সময় কারখানার কর্মচারীদের উপস্থিতিতে বহিরাগত সন্ত্রাসীরা উপস্থিত শ্রমিকদের ১০ মিনিটের মধ্যে এলাকা ছাড়ার নির্দেশ দেয়। অন্যথায় নির্দেশ অমান্যকারীদের করুণ পরিনতির হুমকি দেওয়া হয়।

এ প্রসঙ্গে ওই কারখানার শ্রমিক রিক্তা বেগম বলেন, গত কয়েক মাস যাবত শ্রমিক ছাটাই করে মালিকপক্ষ মেশিনপত্র সরিয়ে নিচ্ছে। নিটিং, লিংকিং সেকশনসহ সব মিলিয়ে কারখানাটিতে প্রায় ৫০০ শ্রমিক কর্মরত ছিল। কিন্তু নানান অছিলায় শ্রমিক ছাটাই করতে করতে এখন শ্রমিক সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৩০০ থেকে ৩৫০ জনে। ১ অক্টোবরও কারখানা থেকে মেশিনপত্র সরিয়ে নিতে দেখেছে শ্রমিকরা।  

শ্রমিকরা বলেন, মালিকপক্ষ সম্পূর্ণ প্রতারণামূলকভাবে শ্রমিকদেরকে শ্রম আইন অনুযায়ী পাওনা পরিশোধ না করার উদ্দেশে শ্রমিক ছাটাইয়ের এই চক্রান্ত চলছে।  

এ বিষয়ে ওই কারখানার শ্রমিক বিলকিস বেগম, জাহাঙ্গীর ও দেলোয়ার আরও জানান, শ্রমিকদেরকে এখনও বহিরাগত সন্ত্রাসীদের দিয়ে হুমকি-ধামকি দেওয়া হচ্ছে। তারা অভিযোগ করেন, মালিকপক্ষ ম্যানুয়াল মেশিন সরিয়ে জ্যাকার্ড (অটো) মেশিন আনার কারণেই বাড়তি শ্রমিক ছাটাইয়ের পরিকল্পনা করেছেন।  

এদিকে অবিলম্বে বন্ধ কারখানা চালু করে ছাটাইকৃত শ্রমিকদের চাকরিতে পুনর্বহাল করে শ্রমিকদের ৪ দফা দাবি মেনে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শ্রমিকরা। একই সঙ্গে আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবির ইতিবাচক সমাধান না করলে আরও বৃহত্তর কর্মসূচি পালনের হুমকি দিয়েছেন তারা। এ ছাড়াও ইতিমধ্যে শ্রমিকরা বিজিএমইএ, শিল্প পুলিশ, শ্রম মন্ত্রণালয়, ডিসি, এসপি বরাবরে লিখিত চিঠি দিয়ে বিষয়টি অবগত করেছেন বলেও জানান তারা।

এ বিষয়ে ওই কারখানারর কোন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের সাথে কথা বলতে সম্মত হননি।  

এ ব্যাপারে শিল্প পুলিশ-১ সাভার-আশুলিয়া জোনের পরিচালক পুলিশ সুপার (এসপি) মোস্তাফিজুর রহমান কালের কণ্ঠকে বলেন, মালিকপক্ষ কোনো শ্রমিককে ছাটাই করেনি। তবে কারখানাটি অন্যত্রে সরিয়ে নিয়েছে। পুরাতন কারখানার বেশিরভাগ শ্রমিক অটো মেশিন বসানো নতুন ওই কারখানায় কাজে যোগ দিয়েছেন। ৮০ থেকে ১০০ জন শ্রমিক নতুন কারখানায় না গিয়ে আন্দোলন করছে। মালিকপক্ষ কারখানা সরিয়ে নেওয়ার জন্য শ্রমিকদের শ্রম আইন অনুযায়ী যেন সকল সুবিধাদী প্রদান করেন সে বিষয়টি দেখা হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।

এ প্রসঙ্গে গার্মেন্ট শ্রমিক ফ্রন্ট, সাভার-আশুলিয়া-ধামরাই শিল্পাঞ্চল কমিটির সভাপতি সৌমিত্র কুমার দাশ কালের কণ্ঠকে বলেন, মালিকপক্ষ ইচ্ছা করলে তার কারখানা অন্যত্রে সরিয়ে নিতে পারেন। তবে কারখানা সরিয়ে নিলে শ্রমিকদেরকে নোটিশ দিয়ে জানাতে হবে। মালিকপক্ষ নোটিশ না দিয়ে কারখানা অন্যত্রে সরিয়ে নিয়েছেন। তাছাড়া নতুন কারখানায় অটো মেশিন স্থাপন করায় আগের তুলনায় শ্রমিক কম প্রয়োজন পড়বে। সে কারণে মালিকপক্ষ কৌশলে বেশ কিছু শ্রমিককে বিভিন্ন সময় ছাটাই করেছে। কিন্তু তাদেরকে শ্রম আইন অনুযায়ী সুবিধাদী প্রদান করা হয়নি।


মন্তব্য