kalerkantho

রবিবার । ১১ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৭ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ১০ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


রায়গঞ্জে তিন স্কুল ছাত্রের আক্রমণে এক স্কুল ছাত্র হাসপাতালে

সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি    

৩ অক্টোবর, ২০১৬ ১৭:৪১



রায়গঞ্জে তিন স্কুল ছাত্রের আক্রমণে এক স্কুল ছাত্র হাসপাতালে

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে অষ্টম শ্রেণির এক এক স্কুল ছাত্রকে একই স্কুলের তিন ছাত্র মারপিট ও সে দৃশ্য মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা ফেসবুকে আপলোড করার ঘটনা ঘটেছে। এ  ঘটনার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে মাবনবন্ধন ও সমাবেশ করেছে স্কুলের শিক্ষার্থীরা।

এ ছাড়া স্কুল কর্তৃপক্ষ এ তিন ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করেছে। নির্যাতিত ছাত্রের পরিবার জানিয়েছে, এ ঘটনায় তাদের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করা হবে।

সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেরার ধানগড়া মডেল হাই স্কুলের অষ্টম শ্রেণির ছাত্র গোলাম কিবরিয়া জানায়, সে ধুমপানে কখনোই অভ্যস্ত না হলেও গত ২৭ সেপ্টেম্বর দুপুরে একই স্কুলে তার নিচের ক্লাসে পড়ুয়া ছাত্র নিলয়, পারভেজ এবং জিম তাকে ধুমপানের জন্য অভিযুক্ত করে। সে তাতে অস্বীকার করলে তারা তাকে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করে। এ দৃশ্য তারা মোবাইল ফোনে ধারণ করে তা ছড়িয়ে দেয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। বর্তমানে গোলাম কিবরিয়া বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

নির্যাতিত ছাত্রের মা মোসা. ফিরোজা খাতুন বলেন, "ঘটনার কয়েকদিন পেরিয়ে গেলেও ভয়ে বিষয়টি বাড়িতে জানায়নি কিবরিয়া। তবে ঘটনার পর থেকে আমার ছেলেকে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিল। একপর্যায়ে তাকে সিরাজগঞ্জ সদর হাসপাতাল ও পরে বগুড়া জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। " কিবরিয়া একটু সুস্থ হলেই মামলা করা হবে বলে জানান কিবরিয়ার স্বজনরা। কিবরিয়ার বোন সনিয়া খাতুন বলেন, "অসুস্থ অবস্থায় তার ভাই আমাকে জানায় তাকে ওরা বিনা কারণে মেরেছে। প্রথমে তিনজন মিলে চর, কিল-ঘুষি তারপর প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে লাঠি দিয়ে তাকে মারধর করে। " তিনি বলেন, আমার ভাই বলেছে, 'আমি সিগারেট খাইনি তারপরও ওরা বারবার বলছিল বল আমি সিগারেট খাই। আমি না বলাতে ওরা আমাকে আরো বেশি মারধর করে'।

এ ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ হয়ে পড়ে এলাকার সাধারণ মানুষসহ শিক্ষার্থীরা। স্কুল কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে অভিযুক্ত তিন ছাত্রকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করে। তবে এর চাইতেও বড় ধরনের শাস্তির দাবি কিবরিয়ার সহপাঠীদের। আর বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, "অভিযোগ পাওয়ার পর এ বিষয়ে সবাইকে নিয়ে বসা হয়েছিল। তিন বখাটাকে দোষীদের স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। " এ ব্যাপারে রায়গঞ্জ ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সোহেল মারুফ বলেন, "কিবরিয়ার পরিবার আইনি সহায়তা চাইলে তাদের সব ধরনের সহায়তা করা হবে। "

এ ঘটনায় একই স্কুলের অভিযুক্ত তিন ছাত্র নিলয় পারভেজ, জিম এবং নাহিদকে কিশোর অপরাধের আওতায় এনে চূড়ান্ত শাস্তি দাবি জানিয়েছে স্থানীয়রা।

 


মন্তব্য