kalerkantho


কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

১০ বছরেও চালু হয়নি প্রসব সেবা কার্যক্রম

হাওরাঞ্চল(নেত্রকোনা) প্রতিনিধি   

২ অক্টোবর, ২০১৬ ১৮:০২



১০ বছরেও চালু হয়নি প্রসব সেবা কার্যক্রম

নির্দিষ্ট ভবন ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি থাকার পরও ১০ বছরে নেত্রকোনার কেন্দুয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নারীদের প্রসব সেবা বিভাগের কার্যক্রম চালু করা হয়নি। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ভবনে প্রসব সেবা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তৈরিকৃত নির্দিষ্ট কক্ষটি ১০ বছর যাবতই তালাবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে। মূল্যবান প্রয়োজনীয় সব যন্ত্রপাতি থাকা সত্বেও প্রসব সেবা কার্যক্রম থেকে বঞ্চিত রয়েছে এ উপজেলার নারীরা। ফলে প্রসব সেবা কার্যক্রমের জন্য উপজেলার সাধারণ মানুষকে বিভিন্ন জেলায় ছুটতে হচ্ছে। পোহাতে হচ্ছে চরম দুর্ভোগ।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, উপজেলাবাসীকে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা দেওয়ার লক্ষ্যে বিগত ২০০২ সালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিকে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। এ জন্য প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে তিনতলা বিশিষ্ট নতুন একটি ভবন নির্মাণ করা হয়। ভবনের নির্মাণ কাজ শেষে ২০০৬ সালে ভবনটি উদ্ভোধন করার পর দ্বিতীয় তলায় নারীদের জরুরী প্রসব সেবা কার্যক্রম শুরু করার জন্য আধুনিক কক্ষ প্রস্তুত করা হয়। সেখানে সংক্রামক বর্জ্য নিয়ন্ত্রণে অটোক্লেভ মেশিন ও হাউড্রোলিক ওটি টেবিলসহ চিকিৎসার যাবতীয় মূল্যবান যন্ত্রপাতিও সরবরাহ করা হয়। কিন্তু ১০ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও সেখানে অদ্যাবধি নারীদের প্রসব সেবা কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হয়নি। প্রসব সেবা কার্যক্রম চালু না হওয়ায় ১০ বছর যাবত চরম অযত্নে ও অবহেলায় ফেলে রাখা ওইসব মূল্যবান যন্ত্রপাতিগুলো নষ্ট হওয়ার উপক্রম হচ্ছে।

আজ রবিবার সকাল ১১টার দিকে সরেজমিনে গিয়ে প্রসব সেবা কার্যক্রমের জন্য তৈরি করা নির্দিষ্ট কক্ষটি তালাবদ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে হাসপাতালের এক সেবিকা বলেন, প্রতিদিন প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য সেবা নিতে অসংখ্য প্রসূতি এ হাসপাতালে আসেন। কিন্তু এখানে তাদেরকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে না পারায় অনেক প্রসূতিকেই নেত্রকোনা ও ময়মনসিংহে চলে যেতে হয়। এ ছাড়াও হাসপাতালে প্রসব সেবা কার্যক্রম চালু না থাকায় বিশেষ করে এলাকার দরিদ্র অন্তঃসত্ত্বা নারীদেরকে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একজন কর্মকর্তা বলেন, ‘গাইনী ও এনেসতেসিয়া বিশেষজ্ঞ (অবেনবিদ) না থাকায় এ সেবা চালু করা যাচ্ছে না। অবেনবিদ, গাইনী, শল্য, মেডিসিন, শিশু, চর্ম ও যৌন, অর্থপেডি, হৃদরোগ, চোখ, নাক-কান-গলা বিভাগে জুনিয়র বিশেষজ্ঞের ১০টি পদ রয়েছে। এখানে শুধুমাত্র হৃদরোগের একজন কনসালটেন্ট রয়েছেন। আরএমও পদটিও শূন্য রয়েছে। এছাড়া মেডিক্যাল টেকনোলজিষ্ট ও নার্সসহ বিভিন্ন পদে জনবল নেই। ’

এ ব্যাপারে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. সাইফুল ইসলাম জয় বলেন, এখানে ডাক্তার ও নার্সরা মিলে প্রাথমিক প্রসবসেবা দিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ হাসপাতালে প্রসব সেবা প্রদানের জন্য নির্দিষ্ট কক্ষ ও চিকিৎসার যাবতীয় যন্ত্রপাতি থাকলেও বিশেষজ্ঞ ডাক্তার না থাকায় এ সেবা চালু করা সম্ভব হচ্ছে না।

এদিকে উপজেলা নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক নারী নেত্রী কল্যানী হাসান বলেন, উপজেলা হাসপাতালে অবিলম্বে জরুরী প্রসব সেবা কার্যক্রম চালু করা দরকার। তবেই উপজেলার দরিদ্র নারীদের দুর্ভোগ লাঘব হবে।


মন্তব্য