kalerkantho

শনিবার । ১০ ডিসেম্বর ২০১৬। ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৩। ৯ রবিউল আউয়াল ১৪৩৮।


চালক-শ্রমিকদের বিক্ষোভ, ধর্মঘট

সরিষাবাড়ীতে ইজিবাইক চালককে শ্বাসরোধে হত্যা

জামালপুর প্রতিনিধি    

১ অক্টোবর, ২০১৬ ২১:২৫



সরিষাবাড়ীতে ইজিবাইক চালককে শ্বাসরোধে হত্যা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে গতকাল শুক্রবার গভীর রাতে লাইজু মিয়া (২২) নামে এক ইজিবাইক চালককে শ্বাসরোধে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। আজ শনিবার সকালে সরিষাবাড়ী পৌরসভার ঝালুপাড়া থেকে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠানো হয়েছে।

নিহত লাইজু সরিষাবাড়ী উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের বগারপাড় গ্রামের আমজাদ হোসেন আঞ্জুর ছেলে।

এদিকে, হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইজিবাইক শ্রমিকরা আরামনগর বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি প্রধান সড়ক অবরোধ করে।

নিহতের বাবা আমজাদ হোসেন জানান, লাইজু মিয়া শুক্রবার বিকেলে ইজিবাইক নিয়ে বের হন। প্রতিদিন তিনি রাত ৮-৯ টার মধ্যে বাড়িতে ফিরলেও ওইদিন না ফেরায় সবাই চিন্তিত হয়ে পড়ে। রাত ১১টা দিকে মোবাইলে সর্বশেষ তার সঙ্গে কথা হওয়ার পর থেকেই তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। রাত ১২টার দিকে আরামনগরের ইজিবাইক স্টেশন মাস্টারকে ফোন দিলে তিনি জানান, লাইজুর ইজিবাইক ভাড়া নিয়ে একদল বরযাত্রী তারাকান্দির উদ্দেশে রওনা হয়। এরপর থেকে পরিবারের লাকজন বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তাকে আর পাননি। পরদিন আজ শনিবার সকালে ঝালুপাড়া রোডে যমুনার তীরবর্তী একটি ডোবায় পথচারীরা লাইজুর গলায় দড়ি পেঁচানো লাশ দেখতে পান। খবর পেয়ে পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে।

এলাকাবাসীর ধারণা, দুর্বৃত্তরা পূর্ব শত্রুতার জের ধরে পরিকল্পিতভাবে লাইজুকে ইজিবাইকসহ ওই রাতে নিরাপদ রাস্তায় নিয়ে তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করে পালিয়েছে। হত্যাকারীরা তার ব্যবহৃত মোবাইল নিয়ে গেলেও ইজিবাইক ও টাকা ঘটনাস্থলেই ফেলে রেখে গেছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয় অটোবাইক শ্রমিককল্যাণ সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক সুলতান মাহমুদ জানান, ইজিবাইক চালক লাইজু হত্যার প্রতিবাদে উপজেলা ও পৌর শাখার চালক-শ্রমিক-মালিকদের উদ্যোগে আরামনগর বাজারে ধর্মঘট ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ ছাড়া হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সরিষাবাড়ী-তারাকান্দি প্রধান সড়ক অবরোধ করা হয়।

থানার ওসি রেজাউল ইসলাম খান বলেন, "লাইজুকে গলায় দড়ি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ গ্রেপ্তার না হলেও অনেকগুলো সূত্র নিয়ে তদন্ত চলছে। ঘটনাস্থল থেকে নিহতের নিজস্ব ইজিবাইক, টাকা এবং  হত্যার কাজে ব্যবহৃত দড়ি উদ্ধার করা হয়। লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।


মন্তব্য